Tuesday, 6 October 2020

ওয়েব ডেস্ক ৬ই  অক্টোবর ২০২০ :  রবিবার সন্ধ্যায় বিজেপি নেতা খুনের ঘটনার পর থেকে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গোটা ব্যারাকপুর চত্বর। ইতিমধ্যেই তদন্তের দায়ভার এসে পড়েছে সিআইডির কাঁধে। আর এবার তদন্ত করতে নেমে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম মহম্মদ খুররাম ও গুলাব শেখ। জানা গিয়েছে, পুরনো শত্রুতার জেরে খুন হয়েছেন এই বিজেপি নেতা।

গতকাল, সোমবার রাতে দফায় দফায় এই দুই ধৃতদের জেরা করা হয়েছে। প্রথমে জেরা করে টিটাগর থানার পুলিশ। তারপর ব্যারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখার আধিকারিকরা জেরা করেন এবং সব শেষে সিআইডির আধিকারিকরা জেরা করেন। এই দু’জনকে দফায় দফায় জেরা করার ফলে তাদের বয়ানে কিছু অসঙ্গতি মেলে। তারপরেই জানা যায় পুরনো শত্রুতার জেরে খুন করা হয়েছে বিজেপি নেতাকে। এই দুজনকে আদালতে তোলা হবে এবং এদের সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছে, তাদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যায় টিটাগর থানার সামনে খুন হন বিজেপির দাপুটে নেতা মনীশ শুক্লা। আর তার জন্য রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গোটা ব্যারাকপুর এলাকা। তৃণমূল-কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা মনীশ শুক্লাকে খুন করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। পাল্টা অভিযোগ করতে ছাড়েনি শাসক দলও। তৃণমূলের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এই খুন। যদিও গতকাল , সোমবার এই খুনের প্রতিবাদে ব্যারাকপুরে ১২ ঘন্টার বনধ ডাকে বিজেপি। কিন্তু এই বনধকে কার্যত প্রত্যাখ্যান করে ব্যারাকপুরবাসী।

অন্যদিকে, গতকাল, সোমবার মনীষ শুক্লার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলা হয় চোদ্দটি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছে অর্জুন সিং-এর ডান হাত। এদিন নীলরতন সরকার হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে রাজভবনের উদ্দেশে রওনা দেয় বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার দেহ। দেহ নিয়ে যাওয়া হয় রাজভবনের দিকেও। তারপর শেষকৃত্যের জন্য দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। মনীশকে শেষবারের জন্য দেখার জন্য বিকেলেই হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন হুগলির সাংসংদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা হাসপাতাল চত্বর। পরবর্তী সময়ে এই খুনের ঘটনা কোনদিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

ওয়েব ডেস্ক ৬ই  অক্টোবর ২০২০ :  উত্তরপ্রদেশের হাথরসে ধর্ষণের পর নিহত দলিত তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন  মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। 


তিনি বলেছেন, দেখি কে আটকায়!‌ দলিত তরুণী আমাদের কন্যা। দলিত তরুণীকে ধর্ষণ করে রাতের অন্ধকারে তার দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। কোনো বিচার হলো না। আমার মন পড়ে আছে ওই গ্রামে। মনে হচ্ছে এখনই ছুটে সেখানে চলে যাই। 

তিনি আরো বলেন, এতদিন পরে ওই গ্রামে মিডিয়ার লোকজনদের যেতে দেওয়া হচ্ছে। নেতারা যাচ্ছেন। আগে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো না কেন?‌ যোগির রাজ্যে সন্ত্রাস, খুন বেড়েই চলেছে। বিজেপি হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্যানাডেমিক। চরম স্বৈরতান্ত্রিক। গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।

মমতা আরো বলেন, ‌বিজেপি লজ্জা, লজ্জা। আমরা আর বিজেপিকে চাই না। উত্তরপ্রদেশে যোগির সরকারকে আর চাই না।

তিনি আরো বলেন, ‌শুক্রবার তৃণমূল সাংসদদের এক প্রতিনিধিদল দলিত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যায়। গ্রাম পৌঁছানোর এক কিলোমিটার আগে তাদের আটকে দেওয়া হয়। কোনো সৌজন্য দেখানো হয়নি। নারী সাংসদদের মারা হয়। কোন দেশে আছি আমরা!‌ তিনি আরো বলেন, মানুষ বিপদে পড়লে আমি তাদের পাশে আছি। সে যে ধর্মের, যে বর্ণেরই হোক। দলিতদের সামনে এখন বড় বিপদ। তাই এখন আমি দলিত।

‌মিছিলে প্রত্যেকের হাতেই ছিল একটি করে টর্চ। টর্চ জ্বালিয়ে মমতা বলেন, ‌দলিত মেয়েরা ও মায়েরা এখন অন্ধকারে। তাদের আলোয় ফেরাতে আমি আজ এই টর্চ এনেছি।

তিনি বলেন, ‌আমি বিজেপির বন্দুককে ভয় পাই না। ওদের গুন্ডা বাহিনীকে আমি তোয়াক্কা করি না। কোনো অপরাধ হলে তার বিচার হয়। এখানে কোনো বিচার হলো না। মেয়েটাকে দহন করে দিল। যারা বিপদে পড়বেন, তাদের পাশে আমি আছি। হাথরসের ঘটনার বিচার চাই।

ওয়েব ডেস্ক ৬ই  অক্টোবর ২০২০ : বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরি। তাঁর বক্তব্য, এই মুহূর্তে বাংলায় ‘ডেমোক্রেসি’ নয়, ‘মমতাক্রেসি’ রয়েছে।

প্রেস বিবৃতি দিয়ে কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “বাংলায় রাজনৈতিক খুন বন্ধ হোক, বিরোধী মানে প্রতিপক্ষ, বিরোধী মানে শত্রু নয়। সারা দেশে সব থেকে বেশি রাজনৈতিক খুন হয় এই বাংলায়। পুলিশের থানার সামনে বিজেপি নেতার খুন নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠছে এবং উঠবে।’’


অধীর চৌধুরী আরও বলেন, ‘‘দিদি আপনি চাইলে খুনী ধরা পড়বে, আপনি না চাইলে অ্যারেস্ট হয়তো কেউ হবে কিন্তু প্রকৃত খুনী অ্যারেস্ট হবে না। সি.আই.ডি, পুলিশ কারোর কোনো ক্ষমতা নেই আপনার কথার বাইরে গিয়ে তদন্ত করে। দিদির দালালরা বাজারে নেমে গেছেন ‘হ্যা’-কে ‘না’ করতে। বাংলার পুলিশমন্ত্রী এ বাংলায় রাজনৈতিক খুন ও বিরোধীদের উপর আক্রমণের রাজনীতি বন্ধ হোক। মনে রাখবেন চিরদিন আপনি ক্ষমতায় থাকবেন না।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত স্লোগান – ‘বদলা নয়, বদল চাই’-এর কথা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধেছেন অধীরবাবু চৌধুরী। তিনি বলেছেন, “বদলা নয়, বদল চাই- বলেছিলেন, ভুলে গেলেন দিদিভাই?? বাংলায় ল এন্ড অর্ডার নেই, যা আছে তা হলো – ডেমোক্রেসির বদলে মমতাক্রেসি, যার আর এক নাম – অটোক্রেসি।”উল্লেখ্য, রবিবার সন্ধেবেলায় টিটাগড় থানার উলটোদিকে বিজেপি কার্যালয়ে ঢুকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি চালিয়ে টিটাগড় পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলর মণীশ শুক্লার শরীর ঝাঁজরা করে দেয় চার বন্দুকবাজ। উন্নতমানের নাইন এমএম কার্বাইন থেকে গুলি চালানো হয়।

তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়। এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি নেতৃত্ব একযোগে তৃণমূল-পুলিশ যোগসাজশকে কাঠগড়ায় তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি তোলে। যদিও মণীশ শুক্লা খুনের তদন্তের দায়িত্বভার রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালেই বারাকপুর এলাকা থেকে খুনে জড়িত অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করলেন তদন্তকারীরা। ধৃতের নাম মহম্মদ খুররম খান, গুলাব শেখ। রাডারে রাজু নামে আরও এক ব্যক্তি। সিআইডি সূত্রে খবর, এদের সঙ্গে মণীশের ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল এবং তার জেরেই এমন নৃশংসভাবে খুনের ছক কষা হয় বলে জানা গিয়েছে। এই দুজনকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ওয়েব ডেস্ক ৬ই  অক্টোবর ২০২০ : প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে তার কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এর পরই বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে। আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

প্রবীণ এ অভিনেতা গত কয়েক দিন ধরেই অসুস্থবোধ করছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে সম্প্রতি করোনা পরীক্ষা করা হয় তার। মঙ্গলবার সকালে সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

ওয়েব ডেস্ক ৬ই  অক্টোবর ২০২০ :বিহার রাজ্যে বেজে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। বিহারে আগামী ২৮ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর এবং ৭ নভেম্বর মোট তিন দফায় বিধানসভা নির্বাচন হবে। ভোট গণনা হবে আগামী ১০ নভেম্বর। মূলত এবার বিহারে নীতিশ-বিজেপি জোটকে লড়াই করতে হবে কংগ্রেস-আরজেডি মহাজোটের বিরুদ্ধে। ফলে মহাজোটের বিরুদ্ধে লড়াইকে মোটেই হাল্কা করে নিতে পারবে না বিজেপি।

আসন্ন নির্বাচনের আগে  উত্তরপ্রদেশের হাথরসের ঘটনা রীতিমতো বিহারের দলিত সম্প্রদায়ের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। দলিত অধ্যুষিত বিহারের অধিকাংশ জায়গায় হাথরসের ঘটনায় ক্ষোভের পারদ চড়ছে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাল্টাতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ। উত্তরপ্রদেশের হাথরসের ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে।

দলিত সম্প্রদায়ের মেয়ের উপর যে ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিহারের দিলিত অধ্যূষিত এলাকাগুলোতে। ফলে বিজেপি জোটের কাছে এই ঘটনা হয়ে উঠতে পারে অশনি সংকেত। উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি পরিচালিত যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ফলে গোটা ঘটনার দায় বিজেপির কাঁধে বর্তে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশেষ করে হাথরসে নির্যাতিতার মৃত্যুর পর যেভাবে পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে এবং যেভাবে ন্যাক্কারজনকভাবে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের প্রতিনিধিদের আটকে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের পারদ বাড়ছে।

তার উপর সংবাদমাধ্যমকে যেভাবে বাধা দেয়া হয়েছে তার লাইভ ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। যে ঘটনায় নিন্দার ঝড় শুধু দেশের মাটিতেই নয়। সামাজিক মাধ্যমের সাহায্যে বিদেশেও ওই ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের যে ব্যবহার তার নিন্দায় সরব হয়েছেন বহু বিদেশীও।

যার ফলে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের উপর যেমন চাপ বেড়েছে, তেমনি ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বিজেপিরও। আসন বাংলা এবং বিহারের মাটিতে যেখানে বিজেপি শিবির একটা ভালো রাজনৈতিক অবস্থানে বিরাজ করছিলো সেখানে আচমকা ঘটে যাওয়া হাথরসের ঘটনা অনেকটাই ধাক্কা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা।

বিরোধী পক্ষ ইতিমধ্যেই হাথরসের ঘটনাকে সামনে তুলে ধরে বিজেপির বাপ বাপান্ত করতে ছাড়ছেন না। হাথরসের ওই ঘটনায় খোদ বিজেপি সঙ্গী শিবসেনা উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারকে নিশানা করে বলেছে, উত্তরপ্রদেশে রামরাজ্য নয়, জঙ্গলরাজ চলছে। অথচ এই উত্তরপ্রদেশে আজ থেকে বছর চারেক আগে রাষ্ট্রীয় স্ব্যং সেবক সংঘের ইচ্ছাতেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হয়েছিলো যোগী আদিত্যনাথকে। হিন্দুত্ববাদের পোষ্টারবয় হিসাবে তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতির আঙিনায় উঠে আসছিলেন। উত্তরপ্রদেশের মতো বৃহত্তর রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে যোগীর সাফল্যর উপর নির্ভর করে আগামী দিনে  প্রধানমন্ত্রীর নামের তালিকাতেও ঢুকে পড়তে শুরু করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সেখানে দাঁড়িয়ে হাথরসের ঘটনা এক ধাক্কায় যোগীর চার বছরের সাফল্যকে অনেকটাই পিছিয়ে দিলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

ওয়েব ডেস্ক ৬ই  অক্টোবর ২০২০ :দেশের  একদল বিজ্ঞানী করোনা শনাক্তে কাগজভিত্তিক পরীক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবন করছেন। এতে করোনা পরীক্ষার ফল খুব দ্রুত পাওয়া সম্ভব বলছেন বিজ্ঞানীরা। এটি অনেকটা গর্ভধারণের পরীক্ষার মতো। খরচও খুব কম। এক প্রতিবেদনে জানা গেছে , প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের লেখা জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদার নামে এই কিটের নামকরণ করা হয়েছে। ক্রিসপার নামের জিনভিত্তিক এক প্রযুক্তির সহায়তায় এই পরীক্ষা করা হবে।

 বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফেলুদা কিটের ফলাফল পাওয়া যাবে এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে। খরচ পড়বে ৫০০ রুপি। অর্থাৎ বর্তমান বাজারমূল্যে বাংলাদেশের ৫৭৮ টাকার মতো।এ কিট উ‌ৎপাদন করবে  শিল্পগোষ্ঠী টাটা। এটি হতে পারে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার জন্য বাজারে আসা প্রথম কোন কাগজ-ভিত্তিক টেস্ট।

ভারত সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অধ্যাপক কে বিজয় রাঘবান  বলেন, এটি খুব সহজ, নির্ভরযোগ্য, ব্যাপক-ভিত্তিতে উৎপাদনযোগ্য এবং কম খরচের একটি টেস্ট‍।

প্রায় দুহাজার রোগীর ওপর এই কিট দিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে ছিলেন যাদের ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়েছে। গবেষকদের দাবি, এই নতুন টেস্ট কিটের সংবেদনশীলতা ৯৬ শতাংশ এবং এটির নির্দিষ্টতা ৯৮ শতাংশ। কোন টেস্ট বা পরীক্ষা কতটা নির্ভুল তা মূলত এই দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

যে টেস্ট বা পরীক্ষার সংবেদনশীলতা খুব উচ্চ, সেটি যারই এই রোগ আছে তাদের সবাইকে শনাক্ত করতে পারবে। আর যে টেস্ট বা পরীক্ষার নির্দিষ্টতা অনেক বেশি, সেটি যাদের এই রোগ নেই, তাদের বেলায় সেটা বলে দিতে পারবে।

ফেলুদা টেস্ট কিট এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তাই দেশের  ঔষধ বিষয়ক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এটি বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদনের জন্য অনুমোদন দিয়েছে।

গ্লোবাল হেলথ এন্ড হেলথ পলিসির গবেষক ডঃ অনন্ত ভান  বলেন, 'ফেলুদা টেস্ট' এই অ্যান্টিজেন টেস্টের জায়গা নিতে পারে। কারণ এটি দামে অনেক সস্তা এবং অনেক বেশি নির্ভুল।

আইজিআইবির পরিচালক ডঃ অনুরাগ আগরওয়াল বলেন, এই নতুন পরীক্ষাটি পিসিআর টেস্টের মতো নির্ভরযোগ্য, এটি অনেক দ্রুত করা যায় এবং ছোট ল্যাবরেটরিতে করা যায়। এটির জন্য অত্যাধুনিক মেশিনের দরকার নেই।

Monday, 5 October 2020

ওয়েব ডেস্ক ৫ই  অক্টোবর ২০২০ : মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ভারতে করোনার চেয়ে ভয়াবহ মহামারী এখন বিজেপি। হাথরসের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমে শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাশ্চিমবঙ্গে একটা ছোট ঘটনা ঘটলেও যত কমিশন আছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ডিজি, এডিজিকে ডেকে পাঠায়। কত প্রশ্ন করে তখন! 


আর দিল্লির দাঙ্গায় লোক মারা গেলে উত্তরপ্রদেশে দলিত কন্যাকে ধর্ষণের পরে খুন করে জ্বালিয়ে দেয়া হলেও কোনো কমিশন নেই।উত্তরপ্রদেশে দলিত কন্যার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রায় ছয় মাস পরে রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন তৃণমূল নেত্রী।

গতকাল  বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে থেকে ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তি পর্যন্ত মিছিলে হাঁটেন তিনি। মিছিল শেষে সভায় মমতা বলেন, করোনার জন্য আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিইনি। কিন্তু কী করব? এখন তো অত্যাচারের মহামারী চলছে, গণতন্ত্রের পথেই তা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে।

মমতা বলেন, করোনার মতো মহামারী সঙ্গে আমরা লড়াই করছি। তবে এ দেশে সব থেকে বড় মহামারী এখন বিজেপি। দেশটাকে শেষ করে দিচ্ছে তারা।হাথরাসের ঘটনার সূত্র ধরেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হলো। বাড়ির লোকের হাতে না দিয়ে জোর করে দেহ জ্বালিয়ে দেয়া হলো। তার পরও কাউকে কথা বলতে দেবে না।


বিজেপি সুপার অটোক্র্যাসি চালাচ্ছে। নির্যাতিতার কথা যাতে না দেখানো হয়, সে জন্য সংবাদমাধ্যমকেও হুমকি দেয়া হচ্ছে।কৃষি আইনের সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘দেশে দুর্ভিক্ষ হবে। সব শুধু বিজেপি খাবে।’

দলিত তফসিলিদের ওপর নির্যাতন নিয়ে রাজ্যজুড়ে লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচির কথাও এদিন ঘোষণা করেন মমতা। তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি হাথরসের ঘটনার প্রতিবাদে এদিনই রাজভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখায়।

ওয়েব ডেস্ক ৫ই  অক্টোবর ২০২০ : উত্তরপ্রদেশের হাথরসে গণধর্ষণে তরুণীর মৃত্যুর ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার আরেক কিশোরীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে।


শনিবার উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাতে একটি ভুট্টা খেত থেকে ওই কিশোরীর টুকরো টুকরো করে কাটা দেহাংশ খুঁজে পাওয়া গেছে জানা গেছে ।

কানপুর দেহাতের পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল ওই কিশোরী। নিখোঁজের ঘটনায় কিশোরীর পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছিল।

এর মধ্যেই শনিবার ভোরে গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে ওই কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবারের দাবি, মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। যদিও কানপুর দেহাতের পুলিশ সুপার কেশব কুমার অবশ্য ধর্ষণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।তার মতে, সম্পত্তির জন্যই ওই কিশোরীকে অপহরণ করে তার চাচারা ঠান্ডা মাথায় খুন করে।হাথরাসে গণধর্ষণে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সারা দেশে যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে এই নারকীয় ঘটনা যোগী প্রশাসনকে ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ওয়েব ডেস্ক ৫ই  অক্টোবর ২০২০ : রবিবার রাতে টিটাগড় থানার সামনে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লা। ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই হত্যাকাণ্ডের সিবিআই তদন্তের দাবি করলেন রাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়।

সোমবার ১২ ঘণ্টার ব্যারাকপুর বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। এই আবহে এদিন সকালে প্রয়াত মনীশ শুক্লার বাড়ি গিয়ে পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও মুকুল রায়। কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘ এই ঘটনা কোন সামান্য ঘটনা নয়। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের  সিবিআই তদন্তের দাবি করছি। একইসঙ্গে এখানকার পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকাও সিবিআই তদন্ত করে দেখুক। কারণ আমরা মনে করছি এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশ আধিকারিক মনোজ ভার্মা ও অজয় ঠাকুরের ভূমিকা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। ‘ তিনি বলেন, ‘ থানার সামনে এসে দুষ্কৃতীরা স্টেনগান নিয়ে গুলি চালানোর সাহস কীভাবে পায়? এই খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।’

বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায় বলেন, ‘ কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত না করা হলে প্রকৃত সত্য উঠে আসবে না। থানার সামনে এতোবড় ঘটনা ঘটে গেল, পুলিশ, প্রশাসন কিছু জানতো না এটা হতে পারে না। রাজ্যের পুলিশ, প্রশাসনের উপর আমাদের ভরসা নেই। তাই আমরা চাইছি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত হোক। নির্বাচন আসছে, তাই রাজনৈতিক খুন বাড়ছে। তবে এভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় না। জনতার আদালতে বিচার হয়ে গিয়েছে।

ওয়েব ডেস্ক ৫ই  অক্টোবর ২০২০ : বিধানসভা ভোটের আগে এনডিএ ছাড়লেন চিরাগ পাসোয়ান। রবিবার এনডিএ জোট ছেড়েছে চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি। সম্প্রতি বিহারের বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদি দিল্লি যান। সেখানে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জেপি নাড্ডা ও বিজেপির সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির আরও কয়েকজন শীর্ষনেতা বৈঠকে বসেন।

সূত্রের খবর এই বৈঠকে বিহারের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরেই রবিবার চিরাগ পাসোয়ান ঘোষণা করেন যে, তাঁর দল এলজেপি আসন্ন নির্বাচনে এনডিএ জোটে লড়াই করবে না। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের কয়েকটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। চিরাগের দল এলজেপি আসন্ন বিহারের নির্বাচনে নীতীশ কুমারের জেডি (ইউ)-এর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে। কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না।

তিনি এও জানিয়েছেন যে, বিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধিতা নেই। চিরাগ জানিয়েছেন যে, বিহারে ভোটের পরে তাঁর দল বিজেপির সঙ্গে যৌথভাবে সরকার গড়বে।চিরাগ পাসোয়ানের বাবা রামবিলাস পাসোয়ান বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য। আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হচ্ছেন নীতীশ কুমার। বিরোধীদের তরফে এবার মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হচ্ছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। রাজ্যের ২৩০ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বীর দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ১৪৪ টিতে। আরজেডির জোটশরিক কংগ্রেস লড়াই করবে ৭০টি আসন। বামপন্থী দলগুলি লড়বে ২৯টি আসনে।উল্লেখ্য, বিহারে আগামী ২৮ অক্টোবর ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। ৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে বিহারে। ফল প্রকাশিত হবে ১০ নভেম্বর।


loading...