Wednesday, 3 June 2020

ওয়েব ডেস্ক ৩রা  জুন  ২০২০:লকডাউনের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন পরীযায়ী শ্রমিকেরা। একদিকে তো তাঁরা কাজ হারিয়েছেন অন্যদিকে নিজেদের রাজ্য ফিরতেও পড়তে হচ্ছে নানান সমস্যায়। ইতিমধ্য়েই পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে বহু পরিযায়ীর। এবার তাঁদের জন্যই সরকারের কাছি বিশেষ অনুরোধ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কেন্দ্রের কাছে পরিযায়ী শ্রমিক পিছু ১০,০০০ টাকা করে এককালীন আর্থিক সাহায্য প্রদানের জন্য আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বুধবার সকালে এবিষয়ে একটি ট্যুইট করেন মমতা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘চলতি মহামারীর কারণে মানুষ আশাতীত অর্থকষ্টের মধ্যে রয়েছেন। কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানাচ্ছি, তারা যেন পরিযায়ী শ্রমিক ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকপিছু এককালীন ১০,০০০ টাকা করে সাহায্য দেয়। PM-CARES-এর একটা অংশ এই খাতে খরচ করা উচিত।’
তবে শুধুমাত্র বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নন, এর কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রের কাছে অর্থ সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই সংকটের মুহূর্তে আগামী ৬ মাস প্রতিটি গরিব পরিবার পিছু ৭,৫০০ টাকা করে দিক কেন্দ্র। এমনকি খুব শীঘ্রই আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য তাঁদের ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া উচিত বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপদে পাড়ি ফেরানোর পক্ষেও সওয়াল করেন সনিয়া। এমনকি বিরোধী দলগুলির সাথে বৈঠকে এবিষয়ে আলোচনাও করেন কংগ্রেস সাপতি।
রাজ্য সরকার সুত্রের খবর, আমফানের জেরে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাঁদের মধ্য়ে থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ অ্যাকাউন্টে সরকারি তরফে আর্থিক অনুদান পৌঁছে গিয়েছে। আমফানের জেরে যাঁরা গৃহহীন হয়েছেন সেইরকম প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ, আছাড়াও ২৫ লক্ষ ৩০ হাজার কৃষকও এই আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। এই কৃষকদের মধ্যে ২ লক্ষ পানচাষিও রয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এবিষয়ে একটি টুইট করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। প্রাথমিক ভাবে ১৩৫০ কোটি টাকার বাজেট থাকলেও আপাতত আমফান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ১৪৪৪ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে।
ওয়েব ডেস্ক ৩রা  জুন  ২০২০: মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। বুধবার ভারতীয় সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয় বলে জানাচ্ছে সে দেশের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এতে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
জাতীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম এই সময় জানাচ্ছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৩।রিখটার স্কেলের কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৩।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি থেকে ৮২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। তবে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে ওই প্রতিবেদনে তার কোনও উল্লেখ নেই।

এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসে বারবার কেঁপে উঠেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকা। দিল্লিতে গত ১৫ মে, ১২ এপ্রিল ও ১৩ এপ্রিল কম্পন অনুভূত হয়। যদিও এসব ভূমিকম্পের তীব্রতা খুব বেশি ছিল না।

রিখটার স্কেলে দিল্লির ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৭ থেকে ৩ দশমিক ৫ পর্যন্ত।
ওয়েব ডেস্ক ৩রা  জুন  ২০২০: প্রবল বেগে মহারাষ্ট্র রাজ্যের উপকূলের ওপর আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। রাজ্যের রায়গড় জেলার আলিবাগের কিছুটা দক্ষিণে মুরুদ এবং রেভদান্দার মাঝে স্থলভূমিতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে স্থলভূমিতে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে আরও ঘণ্টা তিনেক সময় লাগবে।
জাতীয় আবহাওয়া দফতরের সূত্রে এ খবর জানা গেছে ।
আজ  সকাল সাড়ে ১১ টা নাগাদ স্থলভূমিতে প্রবেশ করেছে নিসর্গ। তবে পূর্বাভাসের তুলনায় বাতাসের বেগ অনেক বেশি। ঘণ্টায় ১২০-১৪০ কিলোমিটার বেগে বইছে ঝড়। সমুদ্রে থাকার সময়ে ঘূর্ণিঝড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ছিল। ঝড়ের বেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০-১২০ কিলোমিটার।

আবহাওয়া দফতরের বুলটিনে বলা হয়েছে, মূলত রায়গড় জেলা-সহ মহারাষ্ট্র উপকূলের উপর দিয়ে যাচ্ছে নিসর্গের ডানদিকের দেওয়ালের মেঘের অংশটি। পরবর্তী তিন ঘণ্টায় তা পর্যায়ক্রমে মুম্বাই এবং থানে জেলায় প্রবেশ করবে। এক ঘণ্টার মধ্যে স্থলভূমিতে প্রবেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পরবর্তী তিন ঘণ্টায় সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।

বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানায়, গোয়া এবং মুম্বইয়ে ডপলার ওয়েদার রেডার (ডিআরডব্লিউ)-এ নিরন্তর মনিটরিং করা হচ্ছে এই ঝড়। আবহাওয়া অফিস বলেছে, রেডারের মাধ্যমে বোঝা গিয়েছে যে নিসর্গের চোখ প্রায় ৬৫ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। প্রতি ঘণ্টায় তার ব্যাস কমেছে। যার অর্থ আরও শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ।

আবহাওয়া দফতর আগেই জানিয়েছিল, উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের গতিবেগ হতে পারে ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এ ছাড়া সাড়ে ছ’ফুট পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের আক্রমণে মুম্বাইসহ গুজরাট, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন দিউ-এব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথে এই দুই রাজ্য ও দুই কেন্দ্রশাসিত অর রাজ্যই পড়বে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তারা। তাই সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়ায় জারি হয়েছে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা।

মুম্বাই পুলিশ মঙ্গলবার রাতে মুম্বাই উপকূলে যাতায়াতের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুধু মহারাষ্ট্র থেকেই ১৯ হাজার মানুষকে উপকূল এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবারই রাজ্যবাসীকে ঘর থেকে বাইরে না বেরনোর জন্য বেদনর্জি জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। বিমান চলাচলে সতর্কবার্তা জারি করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)।

উপকূল বরাবর মহারাষ্ট্র ও গুজরাট দুই রাজ্য মিলিয়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর মোট ৩০টি দল নামানো হয়েছে। এক একটি দলে রয়েছেন ৪৫ জন। উপকূল এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর কেউ যাতে সমুদ্রের ধারে কাছে না আসতে পারে জন্য টহল দিচ্ছেন এই বাহিনীর সদস্যরা। মৎস্যজীবী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপর সতর্কবার্তা দিয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনী।

প্রসঙ্গত, বিগত প্রায় ১৪০ বছরের ইতিহাসে মুম্বাইয়ে এটিই প্রথম ঘূর্ণিঝড়। আরব সাগরের উপকূলে গড়ে ওঠা মুম্বাই শেষ ঘূর্ণিঝড় দেখেছিল ১৮৮২ সালে। এখনকার মতো সেই সময় ঘূর্ণিঝড়ের আলাদা করে নামকরণ করা হত না। মূলত যেখানে উপকূলে আছড়ে পড়ত, সেই জায়গার নামানুসারেই নাম হত। তাই সেই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ছিল ‘বম্বে সাইক্লোন’। বম্বে সাইক্লোনে প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় এক লাখ মানুষ। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের রেকর্ড বুকে তার আগে মুম্বাইয়ে আর কোনও সাইক্লোনের নজির নেই।

এছাড়া ২০০৫, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে মুম্বাই ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হলেও কোনওটির কারণ সাইক্লোন ছিল না। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদম সোবেল জানান, ১৮৯১ সালের পর গুরুতর কোনও ঘূর্ণিঝড়ের অভিজ্ঞতা নেই মুম্বইয়ের।

মুম্বাইয়ে হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার সম্ভবনায় একাধিক ভৌগোলিক কারণকে দায়ী করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
ওয়েব ডেস্ক ৩রা  জুন  ২০২০: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসার জন্য জরুরি প্রয়োজনে মার্কিন ওষুধ রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রেসার্চ (আইসিএমআর) এর বিজ্ঞানি নিবেদিতা গুপ্তা গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমরা কার্যকরভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মৃত্যুহার হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ভারতে কেউ মারা যাচ্ছে কিন্তু তা আড়ালে থাকার রেকর্ড নেই। আমাদের দেশে করোনায় মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে সব মৃত্যুকেই করোনার সঙ্গে মেলানো ঠিক নয়।

এদিকে  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সকল রাজ্যকে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অক্সিজেনসহ হাসপাতালে বিছানার সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে স্বল্প সংখ্যক রোগীর জন্য আইসিইউ এবং লাইফ সাপোর্ট লাগছে।

গতকাল মঙ্গলবার  নতুন করে ৮১৭১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সে দেশে এখন অবধি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে দুই লাখ সাত হাজার ছয়শ ১৫ জন এবং মারা গেছে পাঁচ হাজার আটশ ২৯ জন।
ওয়েব ডেস্ক ৩রা  জুন  ২০২০: এটা আমাদের মহামারি, যে মহামারিতে আমরা সবাই আক্রান্ত। অথচ গত ৪০০ বছরেও এ রোগের টিকা আমরা খুঁজে পাইনি।’ যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার কারণ হিসেবে বর্ণবিদ্বেষকে দায়ী করে এ কথাগুলো বলেন আমেরিকান অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও মানবধিকার কর্মী জর্জ ক্লোনে। তিনি বলেন, ‘দেশে তৈরি হওয়া বর্ণবিদ্বেষ নামক এ ‘মহামারি’র বিরুদ্ধে লড়তে হলে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
ডেইলি বিস্ট এ এক লেখায় তিনি বলেন, ‘পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর থেকে মানুষ যে সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তার সমাধান করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, অপরাধের বিচার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাগত পরিবর্তন আনতে হবে।’ আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। আমরা দেখেছি সে তার শেষ নিঃশ্বাস নিয়েছে চার পুলিশ কর্মকর্তার হাতের ওপরে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানিনা এ ক্ষোভ কখন প্রশমিত হবে। তবে চাই আর কেউ যেন মারা না যাক।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটা আমাদের মহামারি, ৪০০ বছরেও যার টিকা আমরা খুঁজে পাইনি।’  ৫৯ বছরের ক্লোনে আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট না দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সে ধরণের রাজনীতিবিদ বা নীতিনির্ধারক চাই যারা সব নাগরিককে সমানভাবে দেখবে। এমন নেতা চাই না যারা নিজেরাই ঘৃণা ছড়ায়।’
ওয়েব ডেস্ক ৩রা  জুন  ২০২০: বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ২০৫ জনে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির (জেএইচইউ) সেন্টার ফর সিস্টেম সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৯৬ জন।



জেএইচইউ-র দেয়া তথ্যে দেখা যায়, ব্রাজিলে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৩৮৩ জনের করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটি এখন অবধি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ৩১ হাজার ১৯৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত এক লাখ ৬ হাজার ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ লাখ ৩১ হাজার ৮০৬ জন আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র নিউইয়র্কেই এখনও অবধি ২৯,৯৬৮ জন মারা গেছেন।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুসারে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু যুক্তরাজ্যে ৩৯,৪৫২ জন, ইতালিতে ৩৩,৫৩০ জন, ফ্রান্স ২৮,৯৪৩ জন এবং স্পেনে ২৭,১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চীন এবং নিউজিল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশের অবস্থা দেখে মনে করা হচ্ছে এ মহামারি নিয়ন্ত্রণে আছে। এছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লকডাউন তুলে নেয়ার দিকে এগোচ্ছে।

গত বছরে ডিসেম্বরে চীনে প্রথম সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

Tuesday, 2 June 2020

ওয়েব ডেস্ক ২রা  জুন  ২০২০: আসামের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিধসে প্রায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানায়।

নিহতরা আসামের দক্ষিণাঞ্চলের বরাক উপত্যকার তিনটি ভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
তাদের মধ্যে সাতজন চাচার জেলার, সাতজন হায়লাকান্দি জেলার এবং ছয়জন করিমগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এছাড়া, আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, অঞ্চলটতে গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

ওয়েব ডেস্ক ২রা  জুন  ২০২০: আলোচিত জর্জ ফ্লয়েড ইস্যুতে এবার নতুন মাত্রা যোগ হলো। এক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কৃষ্ণাঙ্গকে পুলিশের নির্যাতনের পর তার মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে আমেরিকা।

গত ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েডকে নিরস্ত্র অবস্থায় নির্যাতনের পর তার মৃত্যু হয়। তাকে পুলিশের নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও প্রকাশ হতেই বিক্ষোভ দানা বাঁধে যুক্তরাষ্ট্রে।

ঘাড়ে ও পিঠে ক্রমাগত হাঁটু দিয়ে চাপ দিয়ে রাখার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান আফ্রিকান-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড। মিনিয়াপলিসের এক পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডকে মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে তার ঘাড় চেপে ধরেন। আট মিনিটের বেশি সময় ধরে এভাবে হাঁটুর চাপে শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় ফ্লয়েডের। ময়নাতদন্তের একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে এমনটাই জানিয়েছেন জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প।

তিনি জানান, ঘাড়ের উপর ক্রমাগত হাঁটুর চাপ পড়ায় মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ফ্লয়েডের। একই সঙ্গে তার ওপর পুলিশ কর্মকর্তা চেপে বসে থাকায় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তার। বার বার আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি। নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না বলে কাতর কণ্ঠে জানিয়েছিলেন ফ্লয়েড। কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তার মন গলেনি তাতে।

পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিনের হাঁটুর চাপে ফ্লয়েডের মৃত্যু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বাকি তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জর্জের পরিবারের আইনজীবী জানিয়েছেন, বাকি তিন পুলিশ কর্মকর্তাকেও গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়েছে।

বেন ক্রাম্প জানান, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উপর ভরসা পাওয়া যাচ্ছিল না। ময়নাতদন্তের সরকারি রিপোর্ট নিয়ে তাদের সন্দেহ ছিল। সে কারণে জর্জের পরিবার আলাদা করে বেসরকারিভাবে ময়নাতদন্ত করিয়েছেন।
ওয়েব ডেস্ক ২রা  জুন  ২০২০: গত প্রায় ২৫ দিন ধরে লাদাখ সীমান্তে মুখোমুখি ভারত ও চীন সেনা। সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিমধ্যেই দুই দেশের সেনাদের হাতাহাতির ভিডিও ছেয়ে গিয়েছে। উঠেছে ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ রব। এমতাবস্থায় সীমান্তে নিজেদের ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ করা শুরু করে দিয়েছে দুই দেশই। ফলে পরিস্থিতি যে আরও খারাপ দিকে যাচ্ছে, তা বলাইবাহুল্য। শীর্ষনিউজ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্তে সেনাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার ও কূটনৈতিক আধিকারিকরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য আলোচনা চালাচ্ছেন। চীনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক আছে। যদিও এর পরেও সীমান্তে নিজেদের ঘাঁটিতে আর্টিলারি, ইনফ্রান্ট্রি কমব্যাট ভেহিকেল ও আরও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করে ফেলেছে। পাল্টা ভারতের তরফ থেকেও একাধিক ভারী যুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বায়ুসেনার তরফ থেকেও সীমান্তে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
ভারত এবং চীনের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা প্রসঙ্গে সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, সরকার ভারতের অহঙ্কারকে কোনও অবস্থাতেই আহত হতে দেবে না। যদিও সমস্যার সমাধান সূত্র খোঁজার জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই দ্বিপাক্ষিক স্তরে আলোচনা চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। পূর্ব লাদাখের সীমান্ত উত্তেজনা মেটানোর প্রচেষ্টা চলছে জানিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ‘আমি দেশকে নিশ্চিত করতে চাই, আমরা ভারতের অহংকারকে কোনও অবস্থাতেই আহত হতে দেব না। ভারত তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে এসেছে এবং এটা নতুন কিছু নয়। আমরা এটা দীর্ঘদিন ধরেই অনুসরণ করে আসছি। চীনের সঙ্গে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে, এরকম আগেও হয়েছিল।’
ওয়েব ডেস্ক ২রা  জুন  ২০২০: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন কার্যকর করায় সংক্রমণের মাত্রা কমেছে। হটস্পটে থাকা অনেক স্থানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। রোগী কমে যাওয়ায় ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব হেলথের পরিচালক ফ্রান্সিস কলিন্স।
গাল্ফ নিউজের বরাতে জানা যায়, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের মতে, লকডাউন এই মরণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ দমিয়ে দিতে বেশ কার্যকর প্রমাণ হয়েছে। সেইসঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলায় ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া কমেছে।
রোগী কমে যাওয়ায় নমুনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে গবেষকদের। ফলে তারা এখন ভাইরাসটির হটস্পট খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর ওপর তাদের নজর রয়েছে। সেখানে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়ার আশা করছেন তারা।
ফ্রান্সিস কলিন্স বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা যদি করোনার হটস্পটে সংক্রমণ কমিয়ে আনি তাহলে ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা কঠিন হবে। এতে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের বিষয়টি আরো দীর্ঘায়িত হয়ে যাবে।

গবেষকদের মতে, বড় আকারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল একটি ভ্যাকসিন গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কিন্তু সংক্রমণের মাত্রা একেক সময় একেক রকমের হওয়ায় কার্যক্রম বেশ জটিল আকার ধারণ করছে।

ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞ আইফার আলী বলেন, ভ্যাকসিন গবেষণা সুষ্ঠু হতে হলে সমাজে মানুষকে ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে হবে। যদি সে পরিস্থিতি অব্যাহত না থাকে কিংবা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া আটকে দেয়া হয় তাহলে গবেষণা বিপাকে পড়বে।

তিনি বলেন, এর সমাধান হচ্ছে- এমন একটি স্থানে গবেষণা পরিচালনা করা যেখানে বিস্তরভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রাজিল, মেক্সিকোতে বর্তমানে এই অবস্থা বিরাজমান। তাই আমার মতে, সেখানে গবেষণা বেশ ভালোভাবে পরিচালনা করা যেতে পারে।

গাল্ফ নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসছে। যার কারণে সেখানে ভ্যাকসিন গবেষণার কার্যক্রম থেকে প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ অবস্থায় গবেষকরা এমন একটি স্থান খুঁজছেন যেখানে ভাইরাস এখনো ছড়াচ্ছে ও তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
loading...