Tuesday, 22 August 2017

সুপ্রীম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে মিষ্টি মুখে স্বাগত জানাল "অসাংবিধানিক" তিনতালাকের শিকার মুসলিম নারীরা

                                                                                                                                                                              




                                                                                                                               (ফাইল ফোটো)


কলকাতা , ২২ অগাস্ট : গরমের ছুটির সময় সুপ্রিম কোর্টে ৬ দিন ম্যারাথন শুনানির পরে ১৮ মে তিন তালাক নিয়ে রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতিরা। আজ ছিল রায়দান। আর আজকের রায়ের পর দেশ থেকে কার্যত উঠে গেল তিন তালাক। পাঁচ জন বিচারকের মধ্যে তিন জন এই রায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে আইন আনতে হবে সরকারকে। এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৬ মাসের জন্য তিন তালাকের উপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে তিন তালাক দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই সময়সীমার মধ্যেই কেন্দ্রকে আইন আনতে হবে। তিন তালাক দিলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের দ্বারস্থ হলেই তালাক খারিজ হয়ে যাবে।


শিখ, খ্রিস্টান, পার্সি, হিন্দু ও ইসলাম— পাঁচ ধর্মের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল এই বিশেষ সাংবিধানিক বেঞ্চ। কোনওরকম পক্ষপাতিত্ব যাতে না হয়, সে কারণেই ছিল এই ব্যবস্থা। এই বেঞ্চে ছিলেন, প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর, বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ, বিচারপতি আর এফ নরিম্যান, বিচারপতি ইউ ইউ ললিত, বিচারপতি আবদুল নাজির। ছ’জন আবেদনকারী ছিলেন তিন তালাকের এই মামলায়। শায়রা বানো, ইশরাত জাহান, গুলশন পরভীন, আফরিন রহমান, আতিয়া সাবরি ও ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। মূল আবেদনকারী ছিলেন উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা শায়রা বানু। আর তিন তালাকের আবেদনের বিরুদ্ধে ছিল মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। যাঁদের বক্তব্য ছিল, ধর্মীয় অধিকারের ব্যাপারে আদালত নাক গলাতে পারে না। 

আর তিন তালাককে একরকম অসাংবিধানিক ঘোষণার পর খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পরে মুসলিম মহিলা মহলে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা অবহেলা, চোখের জল মুছে ফেলে এবার এগিয়ে যাওয়ার পালা। মঙ্গলবার এই ঐতিহাসিক এই রায়কে মহিলা সমাজের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে নারীসমাজ। মিষ্টিমুখে তাই আনন্দের উদযাপন লখনউতে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম ওমেনস পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সভাপতি শায়িস্তা আম্বের মিষ্টি খাওয়ান স্থানীয় মহিলাদের। সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। তিন তালাক নিষিদ্ধ হওয়ার পথে একধাপ এগনো গেলই বলে মনে করছেন তিনি।

অন্যতম আবেদনকারী ও তিন তালাক প্রথার শিকার একই মত শায়রা বানোরও। আজকের রায় ঘোষণার পর স্বভাবতই খুশির ঝিলিক তাঁর চোখে-মুখে। তাঁর বক্তব্য, ‘মুসলমান মহিলাদের জন্য এ এক ঐতিহাসিক দিন। মুসলিম সমাজে মহিলাদের অবস্থানকে এতদিন স্বীকৃতি দেওয়া হল।’ রায়কে সমর্থন করে তিনি জানান, ‘যত দ্রুত সম্ভব এই রায়কে কার্যকর করে যেন নতুন আইন আনা হয়।’

এই জয় শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, সমগ্র নারীসমাজের ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিক বলে জানালেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী মানেক গান্ধীর। এদিন রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মানেকা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের ছোট্ট পদক্ষেপ। কিন্তু মহিলা সমাজের জন্য এ এক বিরাট পদক্ষেপ।’ সাংবিধানিক এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে মহিলাদের এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত মন্ত্রীর।




No comments:

Post a Comment

loading...