Wednesday, 17 January 2018

আনন্দবাজার পত্রিকার ওপর ক্ষুব্ধ কোলকাতা পুলিশ

ওয়েব ডেস্ক, ১৭ ই জানুয়ারী :- আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ পত্র  প্রকাশ করলো কলকাতা পুলিশ।   আনন্দবাজার পত্রিকায় ১৫ই জানুয়ারি  'ফের পুলিশের অমানবিক মুখ ' নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই খাবারের ভিত্তিতে সোচ্চার হয় কোলকাতা পুলিশ। কোলকাতা ফেসবুকে কোলকাতা পুলিশের অফিসিয়াল পেজ টিতে এই প্রতিবেদনটির ছবি তুলে দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করা হয়েছে। কমেন্টস এ কলকাতা পুলিশ কে সমর্থন করছেন সাধারণ মানুষ।এই প্রতিবাদ পত্রে বলা হয় -"মাননীয় সম্পাদক, ভুল আপনাদের-আমাদের, সবারই হয়। রাষ্ট্রের সবচেয়ে দৃশ্যমান অঙ্গ পুলিশ, আমাদের ভুলভ্রান্তি একটু বেশিই চোখে পড়ে। স্বাভাবিক। ভুল হলে, অন্যায় হলে, দোষ স্বীকার করতেও দ্বিধা নেই আমাদের। কাজ করতে গিয়ে ভুল হবেই। সেটা মেনে নিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করাই কাঙ্খিত। আপনাদের, আমাদেরও।তা বলে অর্ধসত্য এবং বিকৃত তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাদা ছেটানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। আর যায় না বলেই এই প্রতিবাদপত্র।''

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবাদ পত্রে বলা হয়েছে এক নি:সন্তান স্বজনহীন  বৃদ্ধা তাঁর স্বামীর মৃতদেহ আগলে বসেছিলেন।মৃতদেহে পাচন ধরে ছিল। কিন্তু অনেক বোঝানোর পরেও মানসিক ভাবে অসুস্থ বৃদ্ধা মৃতদেহটি  ছাড়তে রাজি ছিলেন না।সেই সময় প্রতিবেদক খবর সংগ্রহ করতে  বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এই প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে ---"প্রতিবেদকের পুলিশের প্রতি উষ্মার কারণ আছে। তিনি ওই অঞ্চলেরই বাসিন্দা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন এবং দাবি করেন, ঘরের ভিতর তাঁকে ঢুকতে দিতে হবে। তিনি বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলবেন, পচন-ধরা মৃতদেহের ছবি তুলবেন, জানবেন কী হয়েছে, কীভাবে হয়েছে। বৃদ্ধা তখন মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। বোঝানোর চেষ্টা চলছে আপ্রাণ। সেই সময় উপস্থিত পুলিশ অফিসারদের মনে হয়েছিল, সংবাদমাধ্যমের ‘খবর করা’–র উপযুক্ত পরিবেশ-পরিস্থিতি নেই ঘরের ভিতর।"
       "প্রতিবেদককে ঘরে ঢুকতে বারণ করা হলে তিনি তর্ক জুড়ে দেন পুলিশের সঙ্গে। ক্লাবের ছেলেরা যখন ঢুকেছে, তাঁকেও ঢুকতে দিতে হবে। যারা ভিডিওরেকর্ডিং করছে, তারা অন্য খবরের কাগজ বা চ্যানেলের সঙ্গে ভিডিওক্লিপ ভাগ করে নিলে তার দায়িত্ব কে নেবে ইত্যাদি।'

 কোলকাতা পুলিশের  অফিসিয়াল পেজে আরো লেখা হয় "প্রতিবেদকের ‘এক্সক্লুসিভ’ খবর করার দায় থাকতে পারে। এবং তার জন্য মানবিকতা বিসর্জন দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি থাকতে পারে। আমাদের ছিল না। মৃতদেহের ছবি তুলতে দেওয়া হয়নি, হাসিরানী দেবীর ‘একান্ত’ সাক্ষাৎকারও নিতে দেওয়া হয়নি। অন্তত এই প্রতিবেদকের কাছে মানবিকতার পাঠ নেওয়ার প্রয়োজন নেই বোধহয় আমাদের।"

                    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে কোলকাতা পুলিশের এই অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজ টিতে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত পোস্ট মানুষের সমর্থন পেয়েছে।পেজটিতে মেসেজ করে কোনো অসুবিধের কথা জানালে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।যা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ  মানুষের ধারণা বদলে দিয়ে কোলকাতা পুলিশ নাগরিকদের কাছের জন হয়ে উঠেছেন।


No comments:

Post a Comment

loading...