Tuesday, 16 January 2018

সাংবাদিক সম্মেলনে ভেঙে পড়লেন বিশ্বহিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া , কার দিকে ইঙ্গিত করলেন তিনি ?

  ওয়েব ডেস্ক, ১৬ই জানুয়ারী :- ১১ঘন্টার নিরুদ্দেশের পর অসুস্থ  এবং অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া কে। সুস্থ  হওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তিনি। 

"যে দশ হাজার ডাক্তার আমি তৈরী করি গরিবের সেবার করার জন্য , সেন্ট্রাল আইবি ওদের বাড়ি গিয়ে ওদের ভয় দেখতে শুরু করে। এরকম অনেক কাজ শুরু করেছে সেন্ট্রাল আইবি।আমি কেন্দ্র সরকারকে চিঠি লিখি এ বিষয়ে। এই আওয়াজ দাবিয়ে রাখার  জন্য সামাজিক গতিবিধির কারণে আমার বিরুদ্ধে আইন ভাঙার কেস -১৮৮,১৪৪,১৫৩,যে সব কেসের কথা আমার জানাই  ছিলোনা। সারা দেশে খুঁজে খুঁজে কুড়ি বছরে আগের কেস এর ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে এক জেল থেকে অন্য জেলে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখানোর কাজ গুজরাট থেকে শুরু হয়।তখন ও আমি গুজরাটের চিফ মিনিস্টার  ও ,হোম মিনিস্টার কে জিজ্ঞেস করি।
               আর কাল মকর সংক্রান্তে দিন রাজস্থান পুলিশ বাহিনী নন বেলএবেল গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্ট নিয়ে আসে। হিন্দুদের আওয়াজ চাপা দেওয়ার অনেক চেষ্টার মধ্যে এও একটা চেষ্টা।সব রকম পরিস্থিতিতে আমি হিন্দু সংগঠন গুলির একতার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।আমি পরশুদিন মুম্বাই এর সার্বজনীন কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের রুতম্ভরাজির সঙ্গে পাবলিক সভা করে রাত একটা দেড়টার সময় ফিরলাম। পুলিশ কে বললাম আড়াইটার সময় আসুন। আর সকালে যখন আমি পূজা করছিলাম এক ব্যক্তি দ্রুত আমার ঘরে এসে বলে ,তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ুন ,কারণ আপনাকে এনকাউন্টার করতে পুলিশ আসছে।আমি এনকাউন্টারে ভয় করিনা ,তাই ওর কথায়  খুব একটা আমল দিলাম না। কিছুক্ষন পর ফোনএ  জানতে পারলাম -রাজস্থান পুলিশ বাহিনী   গুজরাট পুলিশ এর সহায়তায় বেরিয়ে এসেছে। তখন ভাবলাম কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমার যা ঘটবে ঘটুক  কিন্তু পুরো দেশে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরী হবে। আমি তখনি ওই পোশাকেই বের হয়ে পড়লাম। বাইরে পাহারারত  পুলিশকে স্থান ত্যাগের কথা জানিয়েই কার্যালয় ছেড়ে বের হয়ে পড়লাম। অটো রিকশায় , এক কার্যকর্তার সঙ্গে রওনা দিলাম।পথে রাজস্থানে চিফ মিনিস্টার এবং হোম মিনিস্টার কে টেলিফোনে এ সম্পর্ক করলাম। কিন্তু দুজনেই এই ঘটনার কথা অস্বীকার করলেন।যখন আমি বুঝলাম রাজস্থানের মন্ত্রীদের কাছেই কোনো খবর নেই তখন আমার সব ফোন সুইচ অফ করে দিলাম।যাতে আমার বর্তমান অবস্থান ট্রেস করা না যায়।অন্য একটি ফোন এ  আসল ঘটনা জানার জন্য রাজস্থান পুলিশের এর  সাথে সম্পর্ক করলাম।জানতে পারলাম তারা  গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্ট নিয়ে এসেছেন। তখন আমি রাজস্থানের আইনজীবীদের সাথে কথা বললাম। তাঁরা আমাকে হাইকোর্টে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দিলেন।এখন আমি যদি রাজস্থানি পুলিশের হাতে আসতাম ,তখন আমার বিরুদ্ধে আমাকে কোথাও না রাখার দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্র এর শিকার হয়ে যেতাম। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ,আমি জয় পুর গিয়ে একজন কার্যকর্তাকে নিয়ে,পুলিশ কে না জানিয়েই আদালতে যাবো। তারপর আমি একই অটো রিকশায় এয়ার পোর্টের এর উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়লাম।কিন্তু আমি অসুস্থ বোধ করতে  শুরু করলাম। এরপর আমার কিছু মনে নেই। তারপর আমার যখন জ্ঞান ফেরে আমি হাসপাতালে।রাতে সাড়ে এগারোটার সময় আমার কথাবলার মতো অবস্থা ফিরে  আসে। ডাক্তার রা বলেন লম্বা সময়ের অস্থিরতার ফলে আমার নাড়ি এখন ১৪০ এর বেশি। আমার হার্টের চিকিৎসা চলছে। ডাক্তার অনুমতি দিলে আমি আদালতে উপস্থিত হবো। আমি কোনো দিন আদালতে যেতে  ভয় পাইনি । সবাই  শান্তি বজায় রাখুন।আমার রাজস্থান পুলিশের ওপর কোনো ক্ষোভ নেই,গুজরাট পুলিশের ওপর ও কোনো অভিযোগ নেই। গুজরাট পুলিশের কাছে শুধু একটাই জিজ্ঞাসা - আমার ঘরের তল্লাশি কেন নিতে যাচ্ছিলেন ?আমি কি  অপরাধী ? আমি আমার আইনজীবীকে আমার ঘরের সামনে  বসিয়ে রেখে জানিয়েছি যখন গুজরাট পুলিশ বলবে ,আমি- মিডিয়া এবং পুলিশ কে নিয়েই আমার ঘরে যাবো। আমার ঘরে অনৈতিক এবং বেআইনি কোনো বস্তু নেই। আমার সম্পত্তি বলতে কেবল তিনটি জিনিস ই  আছে ,একটি ভগবানের  পূজার উপকরণের ব্যাগ ,একটি বইয়ের আরেকটি কাপড়ের ব্যাগ। তাই আমি কোনো বেআইনি কাজ করিনি।  ক্রাইম ব্রাঞ্চএর কাছে আমার আবেদন আপনার সম্মানীয় এবং আমাদেরই  লোক।,রাজনৈতিক চাপে অনৈতিক কাজ করবেন না।পুলিশের প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। আইন পালন করতে আমি আদালতে যাবো।আমার জীবন থাকুক আর না থাকুক আমি রাম মন্দির ,গোরক্ষা,কৃষক যুবকদের জন্য লড়ে  যাবো। এক লড়তে হয় তো একই লড়বো। আমার আওয়াজ দাবিয়ে রাখার  যেন চেষ্টা না হয়। যার সম্পত্তি আছে সত্বা  আছে তার আওয়াজ দাবানো যায়।  আমি তো সম্পত্তি সমৃদ্ধি ছেড়েই হিন্দুদের জন্য ,তাই আমার আওয়াজ দাবানো যেন না হয়। আমি সমস্ত হিন্দুত্ব বাদী দলগুলির একত্রি কারণের কাজ করে যাবো।" রিপোর্টারদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন -যখন আমি ডাক্তারদের বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসার কথা বলি ,তখন তাদের ভয় দেখানো হয়। আমি এর কারণ জিগ্গাসা করে চিঠি লিখি তার উত্তর এখনো পেলাম না।

"কে আপনার আওয়াজ দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করছে বলে আপনার মনে হয় ?''এক রিপোর্টার প্রশ্ন করেন।পরিষ্কার করে  এর উত্তর না দিলেও শাসক দলের দিকেই ইঙ্গিত করেন বিশ্বহিন্দু পরিষদের নেতা।

No comments:

Post a Comment

loading...