Saturday, 13 January 2018

উড়িষ্যায় নিজের "সন্তানদের" শিক্ষিত করতে পাহাড় কেটে পথ বানালেন "বাবা" ; জলন্ধর নায়েক

ওয়েব ডেস্ক, ১৩ই জানুয়ারি :- ঊড়িষ্যার কান্ধামাল জেলার একেবারে গণ্ডগ্রাম হলো গুমসাহী, যেখানে নূন্যতম জীবনের সুবিধা গুলোও উপলব্ধ নয়। প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় জীবন ধারণের জন্যও। সেরকম একটি গ্রামের বাসিন্দা জলন্ধর নায়েক যিনি এখন খবরের শিরোনামে অসাধ্য সাধন করে। নিজের হাতে পাহাড় ক্ষুদে বানিয়ে ফেলেছেন রাস্তা তাও প্রায় ১৫ কিলোমিটার লম্বা এবং জুড়ে ফেলেছেন নিজের গ্রাম গুমসাহীকে প্রধান সড়ক ফুলবনীর সাথে। তার এই কাজের ফলে ইতিহাসের বিস্মৃতির অতলে ডুবে থাকা অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া এই গ্রামটি যুক্ত হয়েছে সভ্য মূল সড়কে।

জলন্ধর নায়েক
এই রাস্তাটি তিনি বানিয়েছেন নিজের হাতে সম্পূর্ণ একার চেষ্টায়। এর জন্য প্রত্যহ তাকে আট ঘণ্টা খাটতে হয়েছে লাগাতার দুই বৎসর ধরে। তার এই কাজকে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা কতৃপক্ষ। তাকে স্বীকৃতি দিতে একশ দিনের কাজের প্রকল্পে মনরেগার মাধ্যমে দুবছরের প্রাপ্য অর্থ্য দেওয়া হবে।
রাস্তা বানানোর কাজে ব্যস্ত জলন্ধর
"পাহাড় কেটে রাস্তা বানানোয় নায়েকের চেষ্টা এবং একাগ্রতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। সে যেকদিন কাজ করেছে,একশ দিনের প্রকল্পের আওতায় তাকে টাকা দেওয়া হবে।" জেলার কালেক্টার ডি.ব্রুন্ধা এই কথা জানিয়েছেন।



 জেলাশাসকের দপ্তরে জলন্ধর নায়েক
 জেলাশাসকের দপ্তরে জলন্ধর নায়েক
বিহারের দশরথ মাঝী তার জীবনের ২২ বছর সময় দিয়ে ৩৬০ ফুট রাস্তা বানান এবড়ো খেবড়ো পাহাড় কেটে, যাতে তাকে 'মাউণ্টেনম্যান' উপাধি দেওয়া হয়। অনেকটা সেভাবে নায়েকও হয়ে ওঠেন নায়ক ৮ কিলোমিটার রাস্তা বানিয়ে দুবছর সময় নিয়ে। আগামী তিন বছরে আরো সাত কিলোমিটার রাস্তা বানানোর ভাবনা আছে তার। পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী এই প্রান্তিক শ্রেণীর আদিবাসী মানুষটি নিজে খুব বেশী শিক্ষিত না হলেও নিজের সন্তানদের শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাজে তিনি একটি বড় সম্মুখীন হন যখন এই পাহাড়ী রাস্তা পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে কষ্ট হত তার তিন সন্তানের। তখনই তিনি জেদ ধরেন যে শিক্ষার পথের এই বাধা তিনি দূর করেই ছাড়বেন। 

নায়েকের এই লড়াইয়ের গল্প অজানাই থেকে গেছিল সাধারণের কাছে, কিন্তু ৯ই জানুয়ারি লোকাল কাগজে খবরটি পড়ে তাকে অফিসে ডেকে পাঠান কালেক্টার ম্যাডাম। কালেক্টার তাকে আর্থিক সাহায্য প্রদানের কথা বলেন এবং ফুলবনির বি.ডি.ও-কে নির্দেশ দেন স্থানীয় লেবার লাগিয়ে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে। নায়েক আর তার পরিবারই গুমশাহীর একমাত্র পরিবার। সাধারণ সুযোগ সুবিধের অভাবে অন্যান্যরা আগেই গ্রাম ছেড়েছেন। এখন স্থানীয় প্রশাসন নায়েককে কান্ধামাল উৎসবের সময় "নায়ক"-এর মর্যাদা দিয়ে বরণ করে নিতে চলেছে।

Pic - Google

No comments:

Post a Comment

loading...