Saturday, 13 January 2018

ভারতের ছেলে প্রভাকর কাপাচ্ছেন লাতিন আমেরিকান চলচিত্র জগৎ। অভিনয় করছে হিরোর ভূমিকায়!

ওয়েব ডেস্ক: মুুম্বাই, ১৩জানুয়ারি :- অনেকের মত হিরোর স্বপ্ন নিয়েই মায়া নগরী মুম্বাইতে এসে উপস্থিত হয়েছিল বিহারের প্রত্যন্ত মোতিহারি জেলার প্রভাকর শারাণ। ইচ্ছে ছিল বলিউড কাপাবে, গোটা দুনিয়া চিনবে তাকে। বড়ো হিরো হবে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারেনি খান,কাপূরদের সিনেদুনিয়াতে। তবে হাল ছাড়েনি সে,লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলো। এরফলে যা হয় সেই ঘটনাটিও একটা সিনেমার থেকে কম কিছু নয়।

বলিউডে প্রাণপাত করেও সাফল্য না পেয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করতে লাতিন আমেরিকান দেশ কোস্টারিকায় হাজির হন প্রভাকর। এখানে এসে প্রেমে পড়েন এক লাতিনো তন্বীর এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তার সাথে। লাতিনো চলচিত্রে হিরোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন একজন প্রোটাগনিস্টের ভূমিকায়। প্রথম ভারতীয় হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।

বিভিন্ন ব্যবসার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি কোস্টা রিকাতে গিয়ে এবং সিনেমায় অভিনয়ের চেষ্টাও করেন। কিন্তু সাফল্য ধরা দেয়নি। তার এই সাফল্যের রাস্তা একেবারেই সহজ ছিল না। ব্যবসায় অসফলতা এবং পরবির্তীতে সিনেমাতেও কিছু করতে না পারা। তার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় আসে ২০১০এ, তখন বাধ্য হয়ে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। তার স্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন নিজেদের মেয়েকে নিয়ে দেশেই থেকে যেতে। ফলে আলাদা হয়েযান প্রভাকরের থেকেও।

এরপরে তিনি নতুন প্রতিজ্ঞা নেন নিজের দেশ অর্থাৎ বলিউডের একটি সিনেমা বানাবেন লাতিন আমেরিকায় এবং ফেরত যান ২০১৪তে। শেষ পর্যন্ত তার নাম আসে স্প্যানিশ মিডিয়াতে হিরোর ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য "এনরেডাডোস : লা কনফিউশন" (এনট্যাঙ্গেলড : দ্যা কনফিউশন) সিনেমায়। এরপর ২০১৭তে এই সিনেমাটি স্প্যানীয় ছবির জগতে ২০১৭-র অন্যতম ব্যবসায়ীকভাবে সফল চলচিত্রের শিরোপা পায়।

আউটলুক ম্যাগাজিনের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষাবিদ ও ফিলান্থ্রফিস্ট থেরেসা রডরিগেযের সহযোগীতায় এই সিনেমাটি  সাফল্য পায় এবং শারণের স্বপ্ন সফল হয়। প্রভাকর জানান যে, "থেরেসা তার স্বপ্নের উপরে ভরসা রেখেছিলেন এবং তাকে ১.৫ মিলিয়ান ডলারের ফাণ্ড জোগাড় করতে সহায়তা করেছিলেন।"

সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রের ভূমিকায় ছিলেন কোস্টারিকার খ্যাতনামা নায়িকা ন্যান্সি ডবেলস। দ্বিতীয় প্রধান পুরুষ চরিত্রাভিনেতা ছিলেন, হলিউডের অভিনেতা এবং বিখ্যাত কুস্তীবাজ স্কট স্ট্যাইনার। প্রথমে ছবিটির নির্দেশনার কাজ শুরু করেন আশীষ মোহান, যিনি খিলাড়ী ৭৮৬ এরও নির্দেশনা করেছিলেন। পড়ে শারণের সাথে মতপার্থক্য হওয়ায় তিনি কাজ ছাড়েন এবং শারণ নিজেই বাকি চলচিত্রটি নির্মণ করেন।

২০১৭-এর ফেব্রুয়ারিতে বইটি মুক্তি পায় এবং এর ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্ব ছিল "সিনেপোলিস"এর উপর। সিনেমাটির বহুল প্রচার এবং ব্যবসায়ীক সাফল্য দেখে,অন্যান্য স্প্যানিশ  ভাষাভাষীয় দেশ সহ আমেরিকাতেও রিলিজ করার কথা ভাবা হচ্ছে। "হিন্দুস্থান টাইমস"কে দেওয়া একটি ইণ্টারভিউতে প্রভাকর শারণ নিজে জানিয়েছেন যে তিনি চলচিত্রটি হিন্দী,ইংরাজি এবং ভোজপুরী সহ অন্যান্য ভাষাতেও রিলিজ করতে চান। এই বছরের মার্চ এপ্রিল নাগাদ এটি "এক চোর, দো মস্তিখোর" নামে মুক্তি পেতে পারে ভারতেও। তার মতে এই সিনেমাটি দুটি ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন স্থাপন করবে।


No comments:

Post a Comment

loading...