Saturday, 3 February 2018

তৃণমূলে যোগ দিয়েই প্রচুর সমর্থকের সাথে কাঁচরাপাড়ার আলোরানী সরকার ডুমুরজলার সম্মেলনে হাজির

ওয়েব ডেস্ক, ২রা ফেব্রুয়ারি :-  অধুনা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের গড় বলে পরিচিত কাঁচরাপাড়া৷ কয়েকদিন আগেই সেই কাঁচরাপাড়া থেকে মুকুল রায়ের বিরোধিতা করে বিজেপি পরিত্যাগ করে তৃণমূলে যোগদান করেছেন এলাকার জনপ্রিয় নেত্রী আলোরানী সরকার৷ তারপর থেকেই স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন৷ কাঁচরাপাড়া - হালিশহরে এলাকার মানুষ যেন এই শীতকালেও রাজনৈতিক উষ্ণতা অনুভব করছেন৷ তার মধ্যেই আজকে হাওড়ায় ছিল তৃণমূলের দক্ষিণ বঙ্গের ছাত্র যুব সম্মেলন৷ স্বভাবতই এলাকার মানুষের আলোরানীর উপর নজর ছিলই৷

সুজিত দাস (বাপি) ও আলোরানী সরকার 
আজ সকল বেলায় কাঁচরাপাড়া পৌরসভার কাউন্সিলার সুজিত দাস ও স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে প্রায় চার হাজার সমৰ্থক নিয়ে বীজপুর থেকে হাওড়ার সম্মেলনস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন আলো রানী সরকার৷ সেই বিশাল গাড়ির মিছিল দেখে কে বলবে একসময় এই কাঁচরাপাড়া হালিশহর ছিল মুকুল রায়ের অঘোষিত সাম্রাজ্য৷ সম্মেলন স্থলের ছয় কিলোমিটার আগে গাড়ি রেখে বীজপুরের তৃণমূল নেতৃত্বের সাথে প্রায় ছয় কিলোমিটার মিছিল করে সম্মেলন স্থলে পৌঁছান আলোরানী সরকার৷ 
এগিয়ে চলেছে মিছিল
সম্মেলনে যোগ দিয়ে সমস্ত বক্তার বক্তব্য তিনি মন দিয়ে শোনেন৷ সম্মেলন শেষে বেরিয়ে আসার সময় দৈনিক 24x7 তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন " আজকের সম্মেলনে সকল শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য শুনলাম এবং নতুন অনেক কিছু জানলাম৷ দিদির বক্তব্য আমাকে মানুষের জন্য আরো কাজ করার ইচ্ছেকে হৃদয় থেকে অনুপ্রাণিত করেছে৷ আর অভিষেক বন্ধ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে খুঁজে পেয়েছি নতুন করে লড়াই করার শক্তি৷" 

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের স্লোগান "২০১৯, বিজেপি ফিনিশ" সম্পর্কে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে উচ্ছসিত হয়ে  তিনি বলেন " আমি অভিষেক ব্যানার্জীর সাথে সম্পূর্ণ একমত৷ দিদি ও উনার দেখানো পথেই আমরা নতুন ও পুরানোরা একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামী দিনে লড়াই করবো এবং সকলের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় ও জনগণের আশীর্বাদে আগামীদিনের নির্বাচন গুলিতে বিজেপির বঙ্গোপসাগরে রাজনৈতিক বিসর্জন হবে৷"    

মুকুল রায় প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে উনি বলেন, " মুকুল রায় একসময় বিজেপির কাছে রত্নাকর দস্যু ছিলেন৷ আজ বিজেপির কাছে উনি বাল্মীকি অবতারে অবতীর্ণ হয়ে নতুন করে রামায়ণ লিখছেন৷ তবে চিন্তার কোনো কারণ নাই৷ বীজপুরের রাজনীতি সচেতন মানুষ মুকুল রায়ের থেকে মুক্তি খুঁজছিলেন৷ আর কয়েকদিন বাদে মুকুল রায়কে বীজপুরে (রাজনৈতিক ভাবে ) দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না৷"     

এরপর হালিশহর ও কাঁচরাপাড়ার তৃণমূল কর্মী ও নেতাদের সাথে নিয়ে আবার তার বীজপুরে ফেরার পালা৷ সূর্য্য তখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে৷ এই সূর্যাস্ত বীজপুর থেকে মুকুল রায়ের রাজনৈতিক বিদায়ের প্রতীকী আর তৃণমূলে আলোরানীর নতুন উত্থান কিনা তা সময়ই বলবে৷         



No comments:

Post a Comment

loading...