Friday, 2 February 2018

বৌদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণের চক্রী মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জামাতি জামিরুল ও পয়গম্বর অবশেষে ধরা পড়লো। উদ্ধার প্রচুর বিস্ফোরক।

ওয়েব ডেস্ক, ২রা ফেব্রুয়ারী :-  অবশেষে লালবাজারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) হাতে ধরা পড়লো ১৯ই জানুয়ারি বৌদ্ধগয়ার বিস্ফোরণকারী JMB জঙ্গি জামিরুল শেখ ও পয়গম্বর শেখ। ধৃতদের মধ্যে পয়গম্বরের বাড়ি মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানা এলাকার কাঁকুরিয়ায় ও জামিরুল ওই থানা এলাকার রতনপুরের বাসিন্দা। পয়গম্বর একটি মসজিদে ইমাম ছিল। পয়গম্বর খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত বলে অভিযোগ।  তাদের জেরা করে বেরিয়ে আসে বিস্ফোরক তথ্য। তারপরই ধুলিয়ানে অভিযান চালায় এসটিএফ। উদ্ধার করা হয় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ প্রায় ২০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক।সেগুলি নতুন কোনও বিস্ফোরণের জন্যই ব্যবহার করার ছক ছিল। উদ্ধার হয়েছে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনও।

উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক (ইনসেটে ধৃত দুই জঙ্গী)


বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাই লামার উপরে হামলার ছক কষেছিল ধৃত দুই JMB জঙ্গি জামিরুল শেখ ও পয়গম্বর শেখ। ধৃতদের জেরা করে এমনই তথ্য জানতে পেরেছে STF। মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপরে অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হত বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। গত ২০ জানুয়ারি বিহারের বুদ্ধগয়াতে তীর্থযাত্রী কেন্দ্রের কাছে উদ্ধার হয় বোমা। সেইসময় সেখানেই ছিলেন দলাই লামা। আগের দিন একই জায়গায় একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সেই ঘটনার তদন্ত করছে বিহার পুলিশ।

কয়েকদিন আগেই দুই জাল নোট পাচারকারী তথা আইএস জঙ্গি হুমায়ুন আহমেদ ও রেকাউলকে এসটিএফ অসম ও মালদহ থেকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের কাছ থেকেই পয়গম্বর ও জামিরুলের হদিশ পায় পুলিশ। তাদের খোঁজ চলার মধ্যেই ধৃতরা বুদ্ধগয়ায় গিয়ে বিস্ফোরক রাখে। একটি বিস্ফোরণ হয়। বাকিগুলি ফাটেনি। এই ঘটনার পর জামিরুল কয়েকজনকে নিয়ে নেপালে পালিয়ে যায়। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ৩১শে জানুয়ারি  রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ শিলিগুড়ির কাছে ফাঁসিদেওয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, তার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন সহ বিস্ফোরক তৈরির একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে কলকাতা পুলিশের DC (STF) মুরলিধর শর্মা জানান, ধৃত পয়গম্বর ও জামিরুল বিস্ফোরক তৈরি করতে জানে। ২০১২ সালে IS জঙ্গি নাসিরুল্লা তাদের এবিষয়ে ট্রেনিং দেয়। খাগড়াগড়কাণ্ডে পয়গম্বর শেখের নাম উঠে এসেছিল। NIA তাকে সমন পাঠিয়েছিল। কিন্তু পয়গম্বর পালিয়ে যায়। মুরলিধর শর্মা আরও জানান, ধৃতরা জেরাতে স্বীকার করেছে বিহারের গয়াতে যে বিস্ফোরণ হয়, সেই ঘটনায় এরাই যুক্ত ছিল। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনায় পয়গম্বরের নাম থাকায় তাকে NIA জেরা করবে। এছাড়া বিহার পুলিশের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। তারাও ধৃতদের জেরা করতে আসছে। জড়িতদের সাথে আইএসআইএসের কোনো  যোগাযোগ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

নাশকতার জন্য নিও জেএমবি এখন রোহিঙ্গাদের নিয়োগ করছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। এই রাজ্যের জঙ্গিরা ‘টেলিগ্রাম’ অ্যাপ-এর মাধ্যমে সংকেতে বাংলাদেশের জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


বৃহস্পতিবার ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইন লাগু করা হয়েছে। 


তথ্য :- প্রতিদিন ও ইনাডু 

No comments:

Post a Comment

loading...