Monday, 4 June 2018

মোদী সরকারের চার বছরে গভীর সংকটে সরকারী ব্যাংক


ওয়েবডেস্ক ৪ঠা জুন ২০১৮ :২০১৪ সালের মে মাসে নরেন্দ্র মোদী যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন , রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার নন -পারফর্মিং অ্যাসেট (এনপিএ) বা অনাদায়ী ঋণ তখনি বেশ বোরো উদ্বেগের কারণ ৷ প্রধানমন্ত্রী হয়েই মোদী ঘোষণা করেছিলেন " না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা " ৷আমূল সংস্কার করা হবে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের , কমিয়ে আনা হবে সরকারি নিয়ন্ত্রণ , পাশাপাশি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে এনপিএর -ভার কমিয়ে আনতে ৷ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তৎপর হল, যাতে ব্যাঙ্কগুলি আর বছরের পর বছর অনাদায়ী ঋণ গোপন করে রাখতে না পারে ৷



ঢাকঢোল পিটিয়ে ইন্দ্রধনুষের মতো প্রকল্প ঘোষিত হল ৷গঠিত হল ব্যাঙ্ক বোর্ডস ব্যুরো ৷সরকার জানাল ব্যাংকগুলোতে নতুন মূলধন হিসেবে ঢালা হচ্ছে ২ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা ৷ মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঠিক চার বছর পর ,বিশেষজ্ঞদের হিসেবে বলছে ,দেশের ২১টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকার সম্মিলিত এনপিএ ৯ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে (গত ডিসেম্বরের শেষে ছিল ৮.৪১ কোটি টাকা ) ৷ সামগ্রিক ভাবে ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ক্ষত্রের দেওয়া প্রতি ১০০ টাকার ঋণের ১২ টাকার আর ফেরার সম্ভাবনা নেই ৷ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির ক্ষেত্রে না -ফেরার সম্ভাবনা প্রতি ১০০ টাকায় ১৪.৫০ টাকা ৷আর ইউকো , ইন্ডিয়ান ওভারসিস বা আইডিবিআই -এর মতো ব্যাংকের বেলায় সেটা ২৫ টাকা ! গত আর্থিক বছরের শেষ ৩ মাসেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির মোট ক্ষতির পরিমান ৫০০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে ৷ নীরব মোদী , মেহুল চোকসিদের দৌরাত্বে এক পিএনবি -রই ক্ষতি ১৩,৪১৭ কোটি টাকা ৷স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার লোকসানের পরিমান ৭,৭৮১ কোটি টাকা ৷
 ক্রেডিট রেটিং সংস্থা "ফিচ " বলছে , ব্যাঙ্কিং শিল্পে নতুন মূলধনের যোগান হিসেবে নতুন সরকার যে -টাকার সংস্থান করেছিল , তার পুরোটাই মুছে গেছে শুধু গত আর্থিক বছরের লোকসানে ! না, মোদী আর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলেন না ৷ অসুখ গভীরতর হয়েছে , রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এখনো তবু তার ৭০% শেয়ারের মালিক নর্থ ব্লকেরই নিয়ন্ত্রণে ৷ 

আর্থিক বিষয়ের সংসদীয় কমিটি আগামী ১২ জুন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর অর্জিত প্যাটেলকে তলব করেছে ৷সেখানে ব্যাঙ্কিং শিল্পের অভূতপূর্ব এই সংকট সম্পর্কে তার ব্যাখ্যা চাইবেন সিমিতির চেয়ারম্যান কংগ্রেস নেতা বিরাপ্পা মইলি ৷ কমিটির অন্যতম সদস্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং৷  কমিটির এই সম্ভাব্য প্রশ্নগুলির দিকে একবার চোখ রাখলেই বোঝা যাবে , সেদিন প্যাটেলের কাজটা আর যাই হোক , ঠিক ঈর্ষণীয় নয় ৷
১ ) গত বছরে ব্যাঙ্কের এনপিএ অবিশাস্য গতিতে বেড়ে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯ লক্ষ কোটি টাকা হল কেন ?
২ ) সরকারি নিয়ন্ত্রণ কি ব্যাঙ্কিং শিল্পের সুস্থ পরিচালনার অন্তরায় হয়ে উঠেছে ?
৩ )প্রযুক্তি -নির্ভর নজরদারির ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও গোটা ২০১৭ সল্ জুড়ে প্রতি ঘন্টায় গড়ে অন্তত একটি ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ঘটলো কি করে ?
৪ ) গত এপ্রিলে সারা দেশ জুড়ে এটিএম হটাৎ নগদশুন্য হয়ে গিয়েছিল কেন ? নগদের ব্যবহার কি এতই বেড়েছে যে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমান তার সঙ্গে তাল রাখতে পারছেনা ?
৫ )৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের পর প্রায় ১৮ মাস কেটে গেছে ৷রিজার্ভ  ব্যাঙ্ক কি বাতিল নোট গণনা শেষ করতে পেরেছে ?
বাতিল নোটে কত কত ফেরত এসেছে , তা জানা যাবে কবে ?

No comments:

Post a Comment

loading...