Monday, 2 July 2018

আফগানিস্তানের আত্মঘাতী হামলার লক্ষ্য হিন্দু এবং শিখ , মৃত ১৯ জন

ওয়েবডেস্ক  ২রা জুলাই ২০১৮ :আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ১৯  জন নিহত হয়েছেন।তারা সবাই শিখ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের , আফগানিস্তানে তারা সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত ,সারা বিশ্বে এনিয়ে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে ।
নঙ্গরহারের প্রাদেশিক হাসপাতালের মুখপাত্র  ইনামুলা মাকাইল জানান , ১৯ জন যারা মারা গেছেন তাদের  মধ্যে ১৭  জন শিখ এবং হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের  ।মাকাইল আরো জানান, কমপক্ষে ১০ থেকে ২০ জন যারা আহত হয়েছেন তারাও  একই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, এবং জালালাবাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ।রোববারের হামলায় আহত শিখদের একজন নরেন্দ্র সিং, জালালাবাদের হাসপাতালের  বেড থেকে টেলিফোনে জানান হামলাটা সুপরিকল্পিত ভাবে শিখ এবং হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেই করা হয়েছিল ।



প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র আতাউল্লাহ খোগিয়ানি বলেন, আক্রমণের ফলে বেশ কয়েকটি দোকান ও যানবাহন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
জেনারেল গোলাম সানায়ি স্ট্যানেকজাই, নঙ্গরহারের পুলিশ প্রধান বলেন, হামলাকারীর জেনে বুঝেই শিখ হিন্দুদের ওপর আঘাতটা আনে যাতে  প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি যিনি ওই প্রদেশে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ,তার সাথে হিন্দু ,শিখরা সাক্ষাৎ করতে না পারে  ।
কোনো পক্ষই এখন প্রজ্যন্ত এর দায় নেয়নি , কিন্তু ওই প্রদেশে তালিবান আর আই.এস.আই.এস প্রচন্ড সক্রিয় বলে জানা গেছে ।শিখ ও হিন্দুরা দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণশীল মুসলিম দেশে ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হয়ে এসেছেন  এবং ইসলামী চরমপন্থীদের দ্বারা পীড়িত ।আজ কমতে কমতে মাত্র হাজার খানেক শিখ এবং হিন্দু রয়ে গিয়েছেন ।১৯৯০  -এর দশকের শেষের দিকে তালিবান শাসনের অধীনে, তাদেরকে চট করে যাতে চেনা যায় তার জন্য তার জন্য হাতে হলুদ ব্যান্ড পড়তে বলা হয়েছিল , কিন্তু নির্দেশটি সম্পূর্ণরূপে প্রয়োগ করা হয়নি। কিন্তু যেভাবে হিন্দু এবং শিখদের  এই সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হত্যা করা হচ্ছে , তারা ভারতের মতো একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন , এবং অনেকে সেই সুবিধেও ভোগ করছেন ।

No comments:

Post a Comment

loading...