Wednesday, 25 July 2018

মেদিনীপুরের আহত বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের ২৮শে জুলাইয়ের সভায় যোগ দিচ্ছে

ওয়েব ডেস্ক ২৫শে ২০১৮ : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক মুখ দেখে এখন ওরাই আফসোস করছেন , কেন ভুল পথে পা বাড়ালাম । সেই সময় নিজেদের বিজেপি কর্মী বলে দাবি করে নরেন্দ্রমোদীকে দেখতে গিয়েছিলেন ১৬ই জুলাই বিজেপির সমাবেশে ।  কিন্তু গুনাক্ষরেও বুঝতে পারেননি প্যান্ডেল ঠিক মতো তৈরী না করার দরুন এতো বড় একটা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হবেন । এখানেই শেষ নয় , প্রধানমন্ত্রী চোখের দেখা দেখতে এসেছিলেন ঠিকই তার পর কোনো বিজেপি নেতাদের দেখা যায়নি এই আহত মানুষদের পাশে দাড়াবার ব্যাপারে । আহত বিজেপি কর্মীরা কিভাবে বাড়ি যাবেন তাও তারা কোনো রকম ব্যবস্থায় করে দেননি ।
                       

সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯ জুলাই আহতদের দেখতে এসে এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহতদের ১ লক্ষ টাকা ও নার্সিংহোমে ভর্তি থাকা আহতদের ৫০ হাজার টাকার সাহায্য ঘোষণা করেন । পরদিনই চেক ইসু করা  হয় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ–তহবিল থেকে। তৃণমূল মোদির পাল্টা সভা করবে বলে খবর ছিল বিজেপি–র কাছে। কিন্তু এত অল্প সময়ে এই সভার ডাক দিয়ে কার্যত বিজেপি দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন  মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূলের এই সভা মোদির সভাকে ছাপিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কায় ভুগছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিজেপি নেতারা।
মোদির সভায় লোহার কাঠামো ভেঙে আহত হন ৯০ জন। আহতদের দেখতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের সাহায্যের আশ্বাস তখনই দেন তিনি। আহতরা নিজেরাই জানিয়েছেন দুর্ঘটনার পর মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বিজেপি নেতারা। সাহায্যের চেক হাতে পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন সুমিত্রা মাহাতো, শকুন্তলা মাহাতো, কৌশিক মাহাতোরা। তাঁরা ও তাঁদের বাড়ির লোকেরা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবদান তাঁরা কোনওদিন ভুলবেন না। তাঁরা কৃতজ্ঞ। তাঁরা বিজেপি–র সভায় এসে প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে আহত হয়েছেন। অথচ তাঁরাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আর যাঁদের বিরুদ্ধে এই সভা, সেই দলের মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের দেখতে হাসপাতালে এলেন। ফল দিলেন। পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। চিকিৎসার সবরকম দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁরা গরিব পরিবার। চিকিৎসার আনুষঙ্গিক খরচ চালানোর জন্য ১ লক্ষ টাকার চেক দিলেন। এটা তাঁরা ভাবতেই পারেননি। আহত উত্তম দাস, সূর্যকান্ত চন্দ্র, নিরঞ্জন দাস, সুখদা মাহাতো জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিক মুখ দেখে তাঁরা আপ্লুত। সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁরা ২৮ জুলাইয়ের তৃণমূলের সভায় আবার মেদিনীপুর কলেজ ময়দানে আসবেন। তাঁরা না আসতে পারলে, তাঁদের বাড়ির লোকেরা অবশ্যই আসবেন। সাধারণ মানুষের পাশে কি ভাবে দাঁড়াতে হয় সেটা মুখমন্ত্রী চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন , এখন এই কথাটাই মানুষের মুখে মুখে । এরকম মুখ্যমন্ত্রী যিনি চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন , বাংলা তথা ভারত বর্ষ আগে কি কখনো দেখেছে ?



তথ্য কৃতজ্ঞতা  স্বীকার "আজ কাল "

No comments:

Post a Comment

loading...