Thursday, 2 August 2018

তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে ব্যাপক হেনস্তা অসম পুলিশের, মমতার নামে এফআইআর

ওয়েব ডেস্ক ২রা অগাস্ট ২০১৮: আগাম কর্মসূচি অনুযায়ী , তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল অসমে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দর থেকে তাদের বেরোতে বাধা দেওয়া হয় । সূত্রের খবর অনুসারে প্রতিনিধি দলের লোকজনদের ব্যাপক হেনস্তা  করা হয় , দলে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, মমতাবালা ঠাকুর, অর্পিতা ঘোষ, রত্না দে নাগ, নাদিমুল হক, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বিধায়ক মহুয়া মৈত্র, এরপর বিকেল তিনটে নাগাদ শিলচর পৌঁছন প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য তথা পশ্চিমবঙ্গের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বিমানবন্দরে নামতেই যেখানে তৃণমূল সাংসদদের আটকে রাখা হয়েছে অন্য দরজা দিয়ে তাঁকেও সেই ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় ।

প্রথমে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাধা সরিয়ে জোর করে বিমানবন্দরের প্রস্থান পথের দিকে দৌড়নোর চেষ্টা করেন । তাতে পুলিশের সঙ্গে জোরদার ধস্তাধস্তি হয়  সাংসদ-বিধায়কদের। অসমের পুলিশ শিলচর বিমানবন্দরে বাংলা থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দলকে মেরেছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলের। তবে সুখেন্দু-কাকলিরা এখনও হাল ছাড়েননি। শিলচর বিমানবন্দরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন তাঁরা। প্রয়োজনে সারা রাত বিমানবন্দরেই বসে থাকবেন, এমনও জানিয়েছেন বারাসতের সাংসদ।
প্রসঙ্গত বিমানবন্দরের মূল গেট বন্ধ করে দিয়ে বিমানবন্দরজুড়ে ভারী সংখ্যায় পুলিস মোতায়েন করা হয়। শিলচরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে কাছার জেলা প্রশাসন। দলীয় প্রতিনিধি দলের আটকে থাকার খবরে কয়েকশো তৃণমূল কর্মী–সমর্থকরা বিমানবন্দরের সামনে রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় স্লোগান দিতে থাকেন। এখনো সেই অবস্থায় চলছে বলে খবর , তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার অভিযোগ করেন, ‘‘এখানে সম্পূর্ণ অবৈধ কার্যকলাপ চলছে। আমরা সবাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কেউ সাংসদ, কেউ মন্ত্রী, কেউ বিধায়ক। কিন্তু আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের অনেকের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে আমাদের আটকানো হচ্ছে। কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। সারা রাত এখানেই আটকে থাকব কি না জানি না। এখানে এসে মনে হচ্ছে দেশে জরুরি অবস্থা চলছে।’’ অপর তৃণমূল সাংসদ অর্পিতা ঘোষের অভিযোগ, ‘‘আমাদের আটকে দেওয়ার বিষয়ে কোনও সরকারি নির্দেশিকা পুলিশ দেখাতে পারেনি। আমাদের যে আটক করা হয়েছে, সে কথাও পুলিশ বলছে না। আবার বিমানবন্দর থেকে বাইরে যেতেও দিচ্ছে না। পুরোপুরি বেআইনি ভাবে আমাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে।’’
এদিকে জানানো হয়েছে অসম পুলিশের তরফ থেকে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যের নামে ভারতীয় দন্ডবিধির চারটি ধারায় তারা তিনটি এফআইআর করা হয়েছে  ।বিদ্যজনেদের একাংশের খবর ,এতে ব্যাপারটা আরো জলঘোলার সম্ভাবনা তৈরী হলো ।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করা হয় এরকম এনআরসি যদি পশ্চিমবাংলায় করতে চায় বিজেপি তাহলে কি হবে ? তিনি উত্তরে বলেন "ওরা কারা,লোকে ওদের চেনেনা জানেনা ,ওরা কারা "।
সদ্য সূত্রের খবর অনুসারে অসম পুলিশ তৃণমূলের প্রতিনিধি দল কে ১৫১ ধারায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে ।

No comments:

Post a Comment

loading...