Friday, 3 August 2018

ভারত সরকারের প্রচ্ছন্ন মদতেই মেহুল চোকসিরা দেশ ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে

ওয়েব ডেস্ক ৩রা অগাস্ট ,২০১৮ :  আশঙ্কাটা  অনেকদিন ধরেই ছিল শুধু সিলমোহরটাই বাকি ছিল ,  অ্যান্টিগুয়া সরকারের দ্বারা সেটাও হয়ে গেল । বিদ্যজনেদের একাংশ থেকে ভারতীয় মিডিয়া তারা  সবাই ইঙ্গিত করেছিল কেন্দ্র সরকারের  প্রচ্ছন্ন মদতেই নীরব মোদী এবং তার মামা মেহুল চোকসি ভারত ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে । অ্যান্টিগুয়ার সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‌২০১৪ এবং ২০১৭ সালে সেবি দু’‌টি মামলায় মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে তদন্ত করলেও, একটি মামলা তারা বন্ধ করে দেয় এবং অপরটিতে কোনও প্রমাণ না পাওয়ায় সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। এমনকী সিবিআই পিএনবি কাণ্ডে মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে কোনও পরোয়ানাও জারি করেনি। ২০১৬ সালে জামিন–অযোগ্য পরেয়ানা থেকেও বিরত দেওয়া হয় মেহুল চোকসিকে। অতএব সবদিক খতিয়ে দেখার পরই মনে হচ্ছে ভারত সরকার একরকমভাবে মেহুল চোকসিকে ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে।"


এই বিবৃতির পর রাজনৈতিক মহলে সরগরম , এখানেই শেষ না করে অ্যান্টিগুয়া সরকার আরও বলেছে ‘‌ভারত সরকার এবং মুম্বইয়ের বিদেশমন্ত্রকের অন্তর্গত আঞ্চলিক পাসপোর্ট দপ্তর থেকে মেহুল চিনুবভাই চোকসির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। তিনি অনায়াসে অ্যান্টিগুয়াতে থাকতে পারেন এবং বারবুড়াতেও সফর করতে পারেন।’‌ বিদ্যজনেদের একাংশের কথায় , সুপরিকল্পিত ভাবেই মেহুল চোকসিদের পালাতে সাহায্য করেছে কেন্দ্র ,অতএব তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার ,কোন আশাই দেখা যাচ্ছেনা ।প্রসঙ্গত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে ১৩৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এবং তা শোধ না করেই দেশত্যাগ করেছেন হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদি এবং মেহুল চোকসি। বর্তমানে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। এর মধ্যে হিরে ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির বর্তমান ঠিকানা অ্যান্টিগুয়া। এমনকি সেখানকার স্থানীয় পাসপোর্টও পেয়ে গিয়েছেন তিনি। দু’‌জনেই ভারতের গোয়েন্দাদের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন। গত বছরের নভেম্বর মাসেই মেহুল চোকসি অ্যান্টিগুয়ার নাগরিকত্ত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভারত ছেড়ে অ্যান্টিগুয়াতে আসেন এবং ১৫ জানুয়ারি এখানকার নাগরিকত্ত্বের জন্য শপথ গ্রহণ করেন। ২৯ জানুয়ারি সিবিআই নীরব মোদি এবং মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে পিএনবি জালিয়াতি কাণ্ডে তদন্ত শুরু করে। অ।আন্টিগুয়া সরকারের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, মেহুল চোকসিকে নাগরিকত্ত্ব প্রদানের আগে তাঁর অতীতের সমস্ত কিছু যাচাই করে নেওয়া হয়েছিল। এমনকী ইন্টারপোলের কাছেও চোকসির বিরুদ্ধে কোনও তথ্য ছিল না। সবকিছু যাচাই করার পরই এ দেশের সরকার তাঁকে নাগরিকত্ত্ব দেয়।
বিদ্যজনেদের একাংশের মত , যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে ঋণ নিয়ে তাদের ফেরত আনা শুধু মাত্র মুশকিলই নয় প্রায় অসম্ভম , কেননা কেন্দ্র সরকারের আইনি গাফিলতি রয়েছে প্রবল , গাফিলতিটা ইচ্ছা কৃত কি না ,সেটা সময় বলবে  ।

No comments:

Post a Comment

loading...