Friday, 24 August 2018

মমতা মানেই চট জলদি মুশকিল আসান , এখন আর বাংলার মানুষকে কষ্ট সহ্য করতে হয়না

ওয়েব ডেস্ক ২৪শে অগাস্ট ২০১৮ :  এক জন মুখ্যমন্ত্রীর যদি সদিচ্ছা থাকে কাজ করার  ,তাহলে নিমেষেই মানুষের দুঃখ্য দুর্দশা দূর হতে পারে , এর জন্য বিগত রাজ্য সরকারের মতো " আজ হবেনা ,কাল হবে , কাল হবেনা পরশু হবে " বলে সময় নষ্টের খেলায় মানুষকে ভুগতে হয়না , ঠিক এই ভাষাতেই বিদ্যজনেদের একাংশ গতকাল মন্তব্য করলেন ।

কিন্তু কোন পরিপ্রেক্ষিতে এই রকম মন্তব্য করতে বাধ্য হলেন বিদ্যজনেরা ? কয়েকদিন ধরেই টিভিতে ষ্টার জলসা ,থেকে শুরু করে বিভিন্ন চ্যানেলে , সিরিয়ালের পুরোনো এপিসোড দেখানো হচ্ছিলো কারণ প্রযোজকদের সাথে শিল্পীদের টাকা পয়সা নিয়ে এবং বিভিন্ন ইসু নিয়ে জোট বাধে ।শুক্রবার থেকেই শুটিং শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ,তাঁর উদ্যোগেই কেটে গেল গত ৬ দিন ধরে চলা টেলিভিশনের সিরিয়াল–সঙ্কট। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিবদমান সব পক্ষকে নিয়ে নবান্নে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন তিনি। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন তিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, শুভেন্দু অধিকারী ও ফিরহাদ হাকিম। ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ, অরিন্দম গাঙ্গুলি। ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস ও অপর্ণা ঘটক। ছিলেন শ্রীকান্ত মোহতা, নিশপাল সিং রানে, শৈবাল ব্যানার্জি, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ।মুখ্যমন্ত্রী গতকাল  বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে বাংলাভাষী মানুষ ছড়িয়ে আছেন। এশিয়ায় বাংলা দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা, পৃথিবীতে পঞ্চম বৃহত্তম। টালিগঞ্জের শিল্পী, কলাকুশলী, সঙ্গীতশিল্পীরা বলিউড, হলিউডকেও কম্পিটিশনে ফেলেন। এখানে বহু লোকের কর্মসংস্থান হয়। আমিও একজন দর্শক। এখন তো মহিলাদের পাশাপাশি ছেলেরাও সিরিয়াল দেখেন। তাঁরা কেন বঞ্চিত হবেন?‌’
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্যা মেটাতে আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, প্রযোজকদের সংগঠন ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে একটি জয়েন্ট কনসিলিয়েশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সমস্যা দেখবে। এই কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। চেয়ারম্যান অরূপ বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত মোহতা। কমিটিতে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে থাকছেন প্রসেনজিৎ ও অরিন্দম গাঙ্গুলি, প্রযোজকদের পক্ষে থাকছেন নিশপাল সিং রানে ও শৈবাল ব্যানার্জি, ফেডারেশনের পক্ষে থাকছেন স্বরূপ বিশ্বাস ও অপর্ণা ঘটক, লেখকদের পক্ষে থাকছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তিনটি প্রধান চ্যানেল স্টার জলসা–র পক্ষে সাগ্নিক ঘোষ, জি বাংলা–র পক্ষে সম্রাট ঘোষ ও কালার্স বাংলা–র পক্ষে রাহুল চক্রবর্তী।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌সমস্যা শিল্পীদের হতে পারে, সমস্যা প্রযোজকদের হতে পারে, সমস্যা কলাকুশলীদের হতে পারে। এই কমিটি এক মাস অন্তর বৈঠকে বসে সেই সমস্যা দূর করবে।’‌ তিনি বলেন, ‘‌শিল্পীদের পারিশ্রমিক প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে। আর কোনও বিবাদ নয়। এবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে।’‌
৬ দিনের এই অচলাবস্থা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌শরীর থাকলে মাঝে মাঝে অসুখ আ‌সবেই। তবে এই অসুখটা মারাত্মক আকার নেয়নি। সবাই মিটিংয়ে খুশি মনেই আলোচনা করেছেন। ভবিষ্যতে এরকম অসুখ যাতে না আসে, তা দেখতে হবে। শিল্পীরা যা যা দাবি করেছেন সেই সমস্যাগুলোও মেটাতে হবে।’‌ বিদ্যজনেদের একাংশের আরো মত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চটজলদি সমস্যা সমাধানের যে নীতি নিয়েছেন , তার জন্যই বাংলার মানুষ তাকে এতো ভালোবাসেন , তাকে বার বার আশীর্বাদ করছে এবং আগামী দিনেও বাংলার মানুষ করবে এই বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই ।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এখন আর মানুষকে আন্দোলন করে সময় নষ্ট করতে হয়না , ছোট জলদি মুশকিল আসান হয়ে যায় ।



তথ্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার "আজকাল "

No comments:

Post a Comment

loading...