Sunday, 5 August 2018

ভূমিপুত্রদের বদলে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের নাম নাগরিকপঞ্জিতে ,ক্ষোভ সর্বত্রই

ওয়েব ডেস্ক ৫ই অগাস্ট ,২০১৮ : অসমের নাগরিকপঞ্জী ভুলে ভরা , যতই এ নিয়ে মাইক্রোস্কোপের নিচে রাখা হচ্ছে ততই বিতর্ক বিবাদ ভরা এক একটা ইস্যু বেরিয়ে আসছে । প্রথমত অসমের ভূমি পুত্রদেরই নাম বেশি করে কাটা গেছে ,তুলনামূলক ভাবে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীরা নিরাপদ অবস্থানে আছেন । তাদের নাম খুব ভালোভাবেই নাগরিকপঞ্জিতে রয়েছে ।তথ্যের ভিত্তিতে সেটা প্রমাণিতও ।বাংলাদেশ অসম বর্ডার পেরিয়ে যারা আস্তানা গেড়েছিল নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি তাদের নাম জ্বলজ্বল করছে নাগরিকপঞ্জিতে ,উল্টো দিকে বোড়োল্যান্ডের বাসিন্দারা এনআরসি-র আওতায় আসেননি। পরিসংখ্যান বলছে, অসম-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চল মরিগাঁওয়ের মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ বাসিন্দার নাম এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে।

নলবাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে এনআরসি-তে নেই মাত্র পাঁচ শতাংশের নাম। একইভাবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী অধ্যুষিত ধুবড়ির ৮.৩ শতাংশ বাসিন্দা এনআরসি-র আওতায় আসেননি। উলটো ছবিটা আরও ভয়াবহ। আপার অসম, অর্থাৎ ভূমিপুত্ররাই যেখানকার বাসিন্দা। সেই তিনসুকিয়া জেলার ১৩.৪ শতাংশ বাসিন্দার নাম কাটা গিয়েছে এনআরসি-তে। একইভাবে কার্বিআংলং জেলার ১৪.৩৩ শতাংশ বাসিন্দারও আজ এনআরসি-র কোপে পরিচয় হারিয়েছেন। শিবসাগরে ৯.৯ শতাংশ মানুষের নাম নেই নাগরিকপঞ্জিতে। পরিসংখ্যান যত বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্ষোভের মাত্রা। হতাশায় অনেকেই বাকরুদ্ধ। কোন রাজনৈতিক নেতা কি বললেন, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই ভূমিপুত্রদের। একটাই কথা, সরকারি নিয়মের জালে চোদ্দপুরুষের ভিটেতেই আজ তাঁরা পরবাসী। এদিকে এনআরসি-র শংসাপত্র দেখাতে না পেরে ইতিমধ্যেই হেনস্তার মুখে পড়েছেন অসমবাসী। সব থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি শিলং রোডে। অসম থেকে মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচলে যেতে হলে এই রাস্তাকেই ব্যবহার করা হয়। ব্যবসায়িক কাজে ও অন্যান্য প্রয়োজনে এখন এই রাস্তাই হয়ে উঠেছে বিভীষিকা। নাগরিকপঞ্জির প্রকাশের পরেপরেই অসম থেকে মেঘালয় যাওয়ার সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে। মেঘালয় প্রশাসনের তরফে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি চলছে। তবে যত না নজরদারি তার থেকে বেশি হেনস্তা করা হচ্ছে। এমনটাই দাবি অসমের বাসিন্দাদের। অভিযোগ, মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় খাসি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও রাস্তায় নেমে পড়েছে। পণ্যবাহী গাড়ি আটকে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। চালকের কাছে পরিচয়পত্র হিসেবে এনআরসি-র শংসাপত্র চাওয়া হচ্ছে। মজার বিষয় হল, গত সোমবার নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ হয়েছে অসমে। ফের সেই তালিকা সংশোধন করা হবে। তারপর হয়তো শংসাপত্র দেওয়া হলেও হতে পারে। কিন্তু এসবের অনেক আগেই নাগরিকপঞ্জির শংসাপত্র চেয়ে অসমের বাসিন্দাদের বিব্রত করছে পুলিশ ও ছাত্র সংগঠন। যৌথভাবে পুলিশ ও ছাত্র সংগঠন যেটা চালাচ্ছে তা বেআইনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অসন্তোষ ও হেনস্তার খবর পৌঁছেছে অসম সরকারের কাছে। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মেঘালয়ের মুখমন্ত্রী কনরাড সাংমার সঙ্গে কথা বলেছেন। এই টেলিফোনিক বার্তালাপের পরেই মেঘালয়ে অসমবাসীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারেন তার আশ্বাস দিয়েছেন সাংমা।
বিদ্যজনেদের একাংশের মত অনুসারে হয়ত ভুলবশত যাদের নাম বাদ গেছে ,তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আবার নাগরিকপঞ্জীতে ঢুকিয়েও দেওয়া হল কিন্তু তাদের যে সন্মানহানি হল , বা হেনস্তা বা উৎকণ্ঠার শিকার হতে হল তার দায় বিজেপি সরকার নেবে তো ?


তথ্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার "প্রতিদিন "

No comments:

Post a Comment

loading...