Tuesday, 21 August 2018

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এরকম মুখ্যমন্ত্রী আর আছে সারা ভারতে ? পড়ুন

ওয়েব ডেস্ক ২১শে অগাস্ট ২০১৮ :  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের , যা কাজ করার ইচ্ছে এবং খাটাবার ক্ষমতা , তা রীতি মতো স্তম্ভিত করার মতো । তার অদম্য ইচ্ছে বাংলার মানুষের ভালো করার  ,যা  তাকে আজ এই মুখ্যমন্ত্রীর পদে নিয়ে এসেছে  তার  কোনো প্রশংসা যথেষ্ট বলে মনে করেননা বিদ্যজনেদের একাংশ । কিছু বিদ্যজনেদের এরকমও মত , তিনি দেশের যেকোনো সিইও কে নিজের জ্ঞানের ভান্ডার এবং "মুশকিল আসান " সমাধান সূত্রের মাধ্যমে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারেন । বর্তমান পরিস্তিতি এটাই ।


সোমবার ঝলমলে সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীদের একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে চটজলদি সমাধানও। যেখানে শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছিল আসলে এক মুশকিল আসনের পটভূমি। যেখানে সমস্যা শুনে নিয়েই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাকে ডাকছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর সমাধানের ভার ছাড়ছেন দপ্তরের শীর্ষ আমলার হাতে। কখনও কখনও এমনকী, বেঁধে দিচ্ছেন ‘ডেডলাইন’ও।
নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে দু–দিনের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্মেলনের উদ্বোধন করতে উঠে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষে সমবেত শিল্পদ্যোগীদের বলেছেন, ‘আমার আর বিশেষ কিছু বলার নেই। আপনাদের কোনও প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। আমি তার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করব। কিছু প্রশ্নের জবাব দেবেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র এবং মুখ্যসচিব মলয় দে।’
যেমন কথা, তেমন কাজ। দ্রুত প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি প্রশন মন দিয়ে শোনা তো বটেই, চটজলদি তার সমাধানও করেছেন তিনি।  যেমন বাঁকুড়া চেম্বার অফ কমার্সের এক প্রতিনিধি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সমস্যার কথা বলছিলেন। বক্তব্য শুনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষুদ্রশিল্পে এ রাজ্যে প্রভূত গতি বৃদ্ধি হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ক্ষুদ্র শিল্পকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানিয়ে দেন, ‘‌এক জানলা’‌ পদ্ধতিতে ট্রেড লাইসেন্স, বিদ্যুৎ, দমকল, পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র যাতে একইসঙ্গে পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার।
এরই মধ্যে কোচবিহারের এক ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগী মমতার অনুযোগ করেন, গত ১৫ মাস ধরে ফাইল পড়ে রয়েছে সরকারের ঘরে। ফলে কোনও কাজই শুরু করতে পারছেন না তাঁরা। শোনামাত্রই জেলার ডিআইসিও–র খোঁজ করেন মমতা। তিনি উঠে দাঁড়ালে সটান মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে প্রশ্ন করেন,  ‘ফাইল কেন আটকে রয়েছে আপনি জানেন?‌’‌ খানিকটা ইতস্তত করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক জানান, তিনি মাত্র দু’‌মাস আগে ওই জেলায় এসেছেন। জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ বলেন, ‘‌এরকম তো চলতেই থাকবে। একজন অফিসার বদলি হবেন। আর একজন  আসবেন। তাই বলে আগের জমে–থাকা কাজের খোঁজ রাখবেন না আপনি?‌ এটাও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এভাবে চলতে পারে না।’‌ তখনই মুখ্যমন্ত্রী ওই অফিসারকে নির্দেশ দেন, ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে। স্পষ্ট বলেন, ‘আজ ২০ তারিখ। আপনি ২৭ তারিখের মধ্যে আলাপন ব্যানার্জিকে (দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব) রিপোর্ট দেবেন!’পার্থ চ্যাটার্জি নামে বেহালার এক শিল্পোদ্যোগী জানান, ওই এলাকায় শিল্পতালুকে বেশ কয়েকগুণ ভাড়া বেড়েছে। শুনে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌এটা ইচ্ছেমতো করা যাবে না। সরকারের অনুমতি ছাড়া ভাড়া বাড়ানো যাবে না। পুরসভাতেও কখনও কখনও ইচ্ছেমতো লোক নিয়োগ করে শুনি। এসব কী হচ্ছে?‌ সরকারের অনুমতি ছাড়া এসব করা যাবে না।’‌
পার্থর মতোই বর্ধমানে হস্তশিল্পের সমস্যা নিয়ে অনুযোগ করেন এক শিল্পোদ্যোগী। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় পুরসভা কাজের ঢিলেমি দিচ্ছে। বিএলআরও–‌দের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন ওই শিল্পোদ্যোগী। প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী  দপ্তরের প্রধান সচিব মনোজ পন্থকে কড়া নির্দেশ দেন, ‘‌আমি ওঁর সঙ্গে একমত। পুরসভা কোথাও কোথাও পাকামো মারে। মনোজ, এসব বন্ধ করতে হবে। বিএলআরও–‌দের কাজকর্মে নজর রাখুন!’‌ প্রসঙ্গত, গতবছর ডিসেম্বর মাসে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন বসেছিল এখানেই। সেখানে যোগ দিয়েছিলেন দেশবিদেশের শিল্পপতি ও কনসুলেটের প্রতিনিধিরা। এদিন সারা রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদ্যোগীদের নিয়ে সম্মেলনের সময় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী বাণিজ্য সম্মেলনে তাঁরা একটি দিন রাখবেন ক্ষুদ্রশিল্প নিয়ে আলোচনার জন্য। কারণ, তিনি চান, বাংলার ক্ষুদ্রশিল্প সারা বিশ্বে একনম্বরে যাক। উদ্বোধনে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। ছিলেন শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া, মায়াঙ্ক জালান, রুদ্র চ্যাটার্জিরা। ছিলেন বিদেশি প্রতিনিধিরাও। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যসচিব সম্মেলনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমাদের রাজ্যে যে প্রগতি আমরা দেখছি, তা কর্মসংস্থানমুখী। বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে।
মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন হায়দরাবাদে ‘‌বিশ্ব বাংলা’‌ বিপণির উদ্বোধন করেন। সেই সঙ্গে উদ্বোধন করেন পার্ক স্ট্রিটে নতুন খাদি শো–রুম, মঞ্জুষার একটি উৎকর্ষকেন্দ্র ও পরিধান গার্মেন্ট পার্কেরও। ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষুদ্রশিল্প কেন্দ্র করেই কর্মসংস্থান আরও বাড়বে। কিন্তু একে সিনার্জি‌র সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বড় শিল্পের পাশাপাশি অনুসারী শিল্পেরও গুরুত্ব রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীরা তা স্থাপন করে সফল হতে পারেন।’‌
ওই কাজে প্রতিটি জেলায় শিল্পোদ্যোগীদের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্লক স্তরে গিয়ে প্রশাসনকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে— কৃষি, হস্তশিল্প, পর্যটন, চা–‌পর্যটন ইত্যাদি নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তাই জেলাগুলিতে আরও বেশি করে ক্লাস্টার বা শিল্পপার্ক তৈরি করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ছোট শিল্পপতিদের স্বস্তি দিতে ইতিমধ্যে দমকলের ফি ৩৪ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। তাঁতশিল্পে ঋণের হার ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করেছে সরকার। রপ্তানি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, সব জেলায় ‘‌ডেটা ব্যাঙ্ক’‌ তৈরি করতে হবে। মোবাইলে ‘‌অ্যাপস’‌–‌এর মাধ্যমে সরকার–শিল্পোদ্যোগী যোগাযোগ রাখা দরকার। তাঁর কথায়, ‘ব্যাঙ্কঋণ পেতে সমস্যা হয় ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীদের। নোটবন্দির পর সমস্যা তৈরি হয়েছে।’ এ ব্যাপারে সমবায় ব্যাঙ্কগুলিকে ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসব দেখে বিদ্যজনেদের একাংশের মন্তব্য সারা ভারত বর্ষে এরকম  মুখ্যমন্ত্রী আর দুটো পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ ।বিগত সরকারের আমলে ,কোনো সাধারণ নাগরিক  কোনো মন্ত্রীকে বলতে পেরেছেন কেন ১৫ মাস ধরে ফাইলটা আটকে রয়েছে আপনার দফতরে , এরাজ্যের মানুষরা সেই প্রশ্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন ,যেটা আগের সরকারের আমলে "কল্পনা" ছিল ।





তথ্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার "আজকাল "

No comments:

Post a Comment

loading...