Wednesday, 8 August 2018

এন.আর.সি নিয়ে অসম লাগোয়া রাজ্যগুলিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে

ওয়েব ডেস্ক ৮ই অগাস্ট ২০১৮ :এন.আর.সি নিয়ে উত্তেজনা চরমে উঠলো অসম সীমান্তবর্তী রাজ্যে গুলিতে । ইতিমধ্যেই মেঘালয় কোনো রকম বিধি নিষেধ ছাড়াই বিদেশী সনাক্ত করতে আরম্ভ করে দিয়েছে ,এবং  তাদের তাগিদ চোখে পড়ার মতো । মেঘালয়ের আঞ্চলিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এক ধাপ এগিয়ে কেন্দ্রকে বলে দিয়েছে তারাও তাদের রাজ্যে এন আর সি করতে চায় । মনিপুর অসম সীমান্তে প্রায় প্রতিদিনই নজরদারি কঠোর থেকে কঠোর তম হচ্ছে , অন্যদিকে অরুণাচলের ছাত্র সংগঠন আপসু'র দাবি অনুসারে ১৪০০ বিদেশী সনাক্ত করে তারা  ফেরত পাঠিয়েছে ।

বিদ্যজনেদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ,তাদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন আপসু'র দাবি যদি সঠিক হয় তাহলে তাদের এই অনুমোদন কে দিয়েছে ? আর কোন স্থিতিমাপের ভিত্তিতে তারা সনাক্ত করলেন এই বাংলাভাষী মানুষেরা বিদেশী ?সিপিএম ,কংগ্রেস মুখে কুলুপ এঁটেছে , বিপ্লব দেবের বিদেশী প্রসঙ্গ ওঠায় বিজেপি মুখ লুকিয়েছে বলেই বিদ্যজনেদের একাংশের ধারণা । নাগাল্যান্ড মত্ত বৃহত্তর নাগাল্যান্ড গঠনের দাবিতে। এনআরসি নিয়ে তাই তাঁরা এখনও তেমন একটা সরব নয়।তবে বিজয় রাঙ্খলের নেতৃত্বাধীন আইএনপিটি দাবি তুলেছে, ত্রিপুরায়ও এনআরসি চালু করতে হবে। দিল্লিতে তাঁরা ধর্না দিতে যাচ্ছে। তবু ত্রিপুরায় এনআরসি নিয়ে বিতর্ক কম। এমনকী, বিপ্লবকুমার দেবের নাগরিকত্ব নিয়েও কোনও বিতর্ক নেই। নাগরিকত্বের ভিত্তি বছর ১৯৭১–এর ২৪ মার্চ। কিন্তু বিপ্লবকুমার দেবের জন্ম ২৫ নভেম্বর, ১৯৭১। বিপ্লবের দাবি, তাঁর জন্ম ত্রিপুরাতেই। তবু কেউ কেউ উইকি পিডিয়ায় তাঁর জন্ম বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার মেঘদাই গ্রামে বলে প্রথমে লেখা হয়েছিল। পরে অবশ্য তা সংশোধন করা হয়। আসলে বিপ্লবদের আগে ওখানেই বাড়ি ছিল। কিন্তু তাঁর বাবা ত্রিপুরার উদয়পুরের কাছে জামবুরিতে বাড়ি করেন। বিপ্লব নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর জন্ম সেখানে।অসমের প্রতিবেশী মেঘালয়, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, এমনকী পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী পেস্টন টিনসং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস সাংমা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তাঁরা এনআরসি চালু করতে বিশেষ আগ্রহী। ‘‌বিদেশি’‌ শনাক্তকরণের কথা বলেন তাঁরাও। মণিপুর পুলিসের ডিজিপি এল এম খাইতেই জানিয়েছেন, অসম সীমান্তের জিরিবামে তাঁরা দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন। প্রতিবেশীদের এই অবস্থার মধ্যে অসমেও বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ নেই। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ফের সমালোচনা করেছেন এনআরসি প্রক্রিয়ার। এমআরসি–কে নিজের ব্রেনচাইল্ড বলে দাবি করে তিনি রাজ্য সরকারের কাছে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি করেন। বিজেপি–র জোটসঙ্গী অসম গণপরিষদ পুনরায় নাগরিকত্ব সংশোধন বিল নিয়ে ফের জানিয়েছে তারা নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের বিরোধিতা করে যাবে। এমনকী, এনআরসি–র ক্ষেত্রেও অসমচুক্তিকে মান্যতা দিয়ে ১৯৭১–এর ১৪ মার্চের পরে আসা বাংলাদেশিদের বিতারিত করতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া চলবে না বলে জানিয়েছে অগপ সভাপতি অতুল বরা।
গোটা ঘটনার মধ্যে বিদ্যজনেদের একাংশ ,রাজনৈতিক ফায়দা তোলার প্রশ্নটি উড়িয়ে দেয়নি । তাদের মত অনুসারে যে যেঝেন থেকে পাচ্ছে ,তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে , আগামী লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রয়েছে সবাই নিষ্পত্তিমূলক ভূমিকা পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । 

No comments:

Post a Comment

loading...