Wednesday, 12 September 2018

পেট্রোপণ্যের আকাশ ছোঁয়া বৃদ্ধির ব্যাপারে ১০টি তথ্য দেশবাসীর কাছে তুলেধরবেন মমতা

ওয়েব ডেস্ক ১২ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ : মানুষের ভালো করার যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে উপায় অনায়াসেই বের করা যায়, যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , যিনি পেট্রল, ডিজেল  লিটার প্রতি একটাকা করে কমিয়েছেন ।যা এখনো মোদী সরকার করেননি ।কিন্তু কোন উপায়ে সেটা সম্ভব হলো ? তাহলে একবার দেখে নেওয়া যাক ।


১. রাজ্য সরকার লিটার প্রতি পেট্রল ও ডিজেলের মূল্যে ১ টাকা কমাতে পেরেছে তার অন্যতম কারণ ‘State taxes on petrol and diesel’ বা পেট্রোপণ্যের উপর রাজ্যের কর না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
২. কেন্দ্রীয় সরকার এক্সাইস ডিউটি নয়গুণ বাড়িয়েছে৷ পেট্রলের জন্য এটি ৯ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ৪৮ পয়সা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ অর্থাৎ বেড়েছে ১০ টাকা৷ ডিজেলের ক্ষেত্রে বেড়েছে ১১ টাকা ৭৭ পয়সা৷
৩. অন্যদিকে রাজ্য সরকার কিন্তু পেট্রোপণ্যের উপর বিক্রয়কর কিংবা সেস কোনওটাই পরিবর্তন করেনি৷
৪. বিষয়টি তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করেছে৷ তৃণমূলের দাবি, এই মুহূর্তে রাজ্যে কোনও নির্বাচন নেই৷ পেট্রল-ডিজেলের উপর ট্যাক্স না নেওয়ার সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছেন মানবিকতার খাতিরে৷
৫. পশ্চিমবঙ্গে পেট্রোপণ্যের ওপর কোনও ভ্যাট নেই৷ শুধুমাত্র বিক্রয়কর এবং সেস রয়েছে৷
৬. তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যেজুড়ে প্রচার করবে, আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৪ টাকা প্রতি থেকে ৩৩ টাকা প্রতি ব্যারেল হয়ে গিয়েছিল৷ কেন্দ্রীয় সরকার তখন উদ্যোগ দেখিয়ে বাড়তি তেল এমন খারাপ দিনের জন্য মজুত করে রাখেনি৷
৭. তেলের দাম বাড়ছে, টাকার দাম কমছে, এমন খারাপ দিনের জন্য কী কোনও বিশেষ তহবিল তৈরি করেছে কেন্দ্র৷ এই সরকারের নিজের ওপই কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই৷ দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ করবে কী করে?
৮. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বলেছেন, রাজ্য কী তেল কেনে? না রাজ্য তেল কেনে না৷ কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কেনে৷ মোদী সরকারের পেট্রোপণ্য বিষয়ক বিশেষ তহবিন কেন তৈরি করল না? কারণ দেশ চালাবার দূরদর্শীতা নরেন্দ্র মোদী সরকারের নেই৷
৯. রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির অর্থমন্ত্রীরা কেন পেট্রোপণ্যকে জিএসটি-র মধ্যে রাখা নিয়ে কোনও সারা শব্দ করেননি৷ সম্প্রতি, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পেট্রোপণ্যের ওপর ২৮ শতাংশ জিএসটি বসানোর বিষয়টি উত্থাপন করেছেন৷ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী, যিনি জিএসটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন, তাঁর কথায়, বিজেপি শাসিত রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা তো পেট্রোপণ্যকে জিএসটি-র মধ্যে আনার ব্যাপারে কোনও উদ্যোগই নিলেন না৷ এটা জেনে রাখা প্রয়োজন, জিএসটি কাউন্সিল বিষয়টি নিয়ে আরও সময় নেওয়ার পক্ষপাতি ছিল৷
১০. পেট্রোপণ্যে জিএসটি চালু না হলে প্রতিটি রাজ্যই ভুক্তভোগী হবে৷ ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও রাজস্থান এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার রাজ্যের কর মকুব করে পেট্রলের দাম কমাতে চেয়েছে৷ ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে রাজ্যগুলির এই খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার কোটি টাকা৷ চলতি অর্থবর্ষের জুলাই-অগস্ট মাসেই ক্ষতি হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা৷

তথ্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার :কলকাতা ২৪*৭

No comments:

Post a Comment

loading...