Wednesday, 26 September 2018

স্কুলে শিক্ষকদের ফাঁকিবাজি রুখতে - বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করবে রাজ্যসরকার

ওয়েব ডেস্ক, ২৬-০৯-২০১৮ :-   মমতা ব্যানার্জির বাংলার উন্নয়নকে ত্বরাণ্বিত করতে - স্কুল শিক্ষাকে পাখির চোখ করে শিক্ষা দপ্তরের উপর বিশেষ নজর দিতে তৎপর রাজ্যসরকার । ছাত্রদের স্কুলছুট রুখতে বিভিন্ন প্রকল্প ও বাস্তব সম্মত পদক্ষেপের মধ্যেদিয়ে আগেই সফল হয়েছেন স্নেহশীলা মুখ্যমন্ত্রী । কিন্তু , এইবার রাজ্য সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্কুলছুট শিক্ষকদের নিয়ে । উন্নয়নের বাংলায় এখন ছাত্রছাত্রীরা আর স্কুলছুট না হলেও রাজ্যের বেশিরভাগ স্কুলেই -বেশিরভাগ শিক্ষকদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে । কয়েকটি জেলায় এই অনিয়ম আবার লাগামছাড়া পর্যায়ে পৌঁছেছে । সূত্রের খবর- শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ আপোষ মূলক যোগসাজসের মধ্যে ঠিক হয়ে যাচ্ছে কোন শিক্ষক কোনদিন ছুটি নেবেন , কোন শিক্ষক কোনদিন স্কুলের প্রার্থনার সঙ্গীত শুরুর  দায়িত্ব পালন করতে  আগে আসবেন, আর প্রশাসনিকন কাজেই বা কোন শিক্ষক এস.আই.অফিস যাওয়ার অজুহাতে ফাঁকি মারবেন । ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের এই চক্র রাজ্যের প্রায় বেশিরভাগ স্কুলেই ছড়িয়ে পড়েছে । এটাই এখন চরম মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের ।




 শিক্ষক হলো জাতির জনক । মানুষ গড়ার কারিগর । কিন্তু এ কোন শিক্ষক ?  যাদের উপর বাংলার ভবিষৎ গড়ার তথা মুখ্য দায়িত্ত । যাদের উপর ভরসা করে- বাংলার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ারপথ দেখানোর উপর অগাধ আস্থাশীল মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী । আর তাদের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষকরাই দায়িত্বর মর্যাদা হানি করে ,ফাঁকিবাজি করে , স্কুল কামাই করে পারে হাজিরা খাতায় সই করে -হাজার হাজার টাকা বেতন গুনছে মাস শেষের নির্দিষ্ট দিনে। বিনিময়ে উপহার দিচ্ছে - শিক্ষার্থীদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ ।  দক্ষিণ ২৪পরগনার ডি.আই - নজরুল হক সিপাইয়ের বক্তব্য ,'এই জেলায় উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের পারে ২০ হাজার শিক্ষকের মধ্যে ৫০ শতাংস ই অনিয়মিত উপস্থিত থাকে । সূত্রের খবর - বিগত কয়েক বছর আগে মাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম স্থান  অধিকার করা পশ্চিম মেদিনীপুরের মংলাপোতা হাইস্কুলের শিক্ষকরা, টিফিনের পরেই স্কুল ছুটি করে দেয় ট্রেন ধরে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য। বর্তমানে এই প্রতিচ্ছবি প্রায় সারা রাজ্যেই । যেখানে বাংলা মাধ্যমের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলির সাথে বেসরকারি স্কুলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ,সেখানে শিক্ষকদের এই চরম ফাঁকিবাজি রুখতে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর।

 এই দারাজ তৃণমূল সরকারের আমলেই - মাসের শেষেই  নির্দিষ্ট দিনে বেতনের সুব্যবস্থা চালু হয়েছে, মাননীয়া মুক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে চালু হয়েছে মাতৃত্ত কালীন বাড়া মাপের ছুটি , সাথে রয়েছে বাড়তি অনেক ছুটিই । শিক্ষকদের জন্য রয়েছে 'বদলি নীতি', এছাড়াও শিক্ষকদের চাপ কমাতে স্কুলে স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষকও নিয়োগ করেছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর । রাজ্যের সংগ্রামী আর্থিক দুরাবস্থাতেও বেতন বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার । তার পরেও যেই শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস করেননা , ফাঁকিবাজি কোরে বদনাম করেন পুরো শিক্ষক সমাজকে ,তাদেরকেই সঠিক রাস্তায় আনতে - শিক্ষাঙ্গনে বায়োমেট্রিক হাজিরা বিধি চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার । খুব তাড়াতাড়িই নির্দেশিকা আসতে চলেছে - আঙুলের ছাপ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা বিধি শুরু করার নিয়ম ।

No comments:

Post a Comment

loading...