Saturday, 29 September 2018

বাম-কংগ্রেস জোটে, মতবিরোধের তুমুল ঝড় উঠলো পালিটব্যুরোতে

ওয়েব ডেস্ক  ২৯ শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ :আসন্ন লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের সাথে বামেদের জোটের বিষয়ে কে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিমত সামনে চলে আসলো আরো একবার। সূত্রে খবর - রাজ্য কমিটির সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্য জোটের পক্ষে জোরালো সওয়াল করছিলেন। সেই অনুযায়ী বিমান বসু ও সূর্য্যকান্ত মিশ্ররা পলিটব্যুরো কে জানিয়ে ছিলেন -জোট করে লড়লে, কমসে কম ১ ডজন আসনে অন্তত কমপক্ষে লড়াই করার সুযোগ পায় যাবে। কিন্তু , বিজেপির সাথে লড়াইয়ে কংগ্রেস সহ অন্য দলগুলি সিপিএমের সাথে আদেও জোট করতে আগ্রহী হবে কিনা সেটাই এখন সন্দিহান। তাছাড়া গত বিধান সভায় পশ্চিমবাংলায় কংগ্রেসের সাথে জোট করে,বামেরা কংগ্রেসি ভোট না পেয়ে যে ভাবে ভরাডুবি হয়েছিলেন - সেই বিষয়েও মতানৈক্যের কারণে পলিটব্যুরো কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলোনা। আগামী মাসের ৬ থেকে ৮ তারিখেরাজধানীতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির বয়থাকের উপরেই ছেড়ে দিয়েছে বঙ্গব্রিগ্রেড।



লোকসভা ভোটে লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে বৈঠক বসেছিল পলিটব্যুরোতে। সব রাজ্যের অনুযায়ী- সেই শক্তি দলের আর না থাকায় এই নির্বাচনে দল আর লড়াইয়ের রাস্তায় না নামলেও , গোটা দেশের রাজনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে  তাদের দলের নেতৃত্তদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেননা সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। বুধবারের বৈঠকে রাজ্য ওয়ারী রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবাংলা ছাড়াও বিহার, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলি পার্টি নেতৃত্বের একাংশ  বিজেপি বিরোধী জোটের পক্ষেই মতামত দিয়েছে , তবে সার্বিক মতামতের এভাবেই সংশয় থেকে যাচ্ছে সিধান্ত নিতে ।অন্য দিকে কেরল, ত্রিপুরা , তেলেঙ্গানা অন্ধ্রপ্রদেশ আবার কেবলমাত্র বামপন্থী জোটের পক্ষেই সওয়াল করেছেন। এমতাবস্থায় জোটের সিদ্ধান্ত নিতে,এ এক সিদ্ধান্তের জটলা শুরু হয়েছে বামপন্থী মহলেই। যা নিয়ে দলীয় নেতা কর্মীরাই বিরাট সন্দিহানে ভুগছে।   
গত বিধানসভার জোট ঘোটলার পরেই, ভোটের রেজাল্ট দেখেই চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে গিয়েছিলো আলিমুদ্দিন থেকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত । রাজ্যবাসী প্রত্যাখ্যান করেছিল রাজ্য ও কেন্দ্রের দুই দুর্নীতিগ্রস্থ বিরোধী দলের জোটকে। ক্ষমতার লোভে লালায়িত সিপিএম দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য  হয়ে জোট বেঁধেছিলো কংগ্রেসের সাথে । সেই অবস্থায় দুর্নীতির দায়ে কেন্দ্রে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কংগ্রেসও সিপিএমকে আঁকড়ে ধরেছিলো নিজেদের অস্তিত্ত রক্ষার তাগিদে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি সিপিএমের । চরম ব্যর্থ হয়েছিল কংগ্রেস । উভয়েই দলীয় নীতি বিরোধী জোটের ghotlay , মানুষের কাছে সম্পূর্ণ আস্থাও হারিয়ে ফেলেছিলো । বাম-কংগ্রেস ঘোটের ক্ষমতা দখলের সন্ত্রাস আরো একবার দেখেছিলো সারাবাংলা । সেই ভোটে মানুষের রায়ে কংগ্রেসের ভোট না পেয়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যায় বামেরা । অন্যদিকে ,  ব্যর্থ হলেও বামেদের ডুবিয়ে , তাদের ভোট লাভবান হয়ে কোনো রকমে মুখ রক্ষা করেছিল কংগ্রেস।  কিন্তু বর্তমান অবস্থায় দাঁড়িয়ে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলের সাথে লড়াই করে নিজেদের অস্তিত্ত রক্ষার জন্য কংগ্রেসের হাত ধরতে মরিয়া সূর্যবাবুরা । কিন্তু পার্টি কংগ্রেস ই যে শেষ কথা নয় এখন সেই কোথায় টের পায়িয়ে  দিচ্ছেন প্রকাশ কারাতের লবি। পলিটব্যুরোতে সাধারণ সম্পাদকেরই এখন মতের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই । তাই কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ফের একবার ভোটাভুটির সম্ভাবনাও ভয়ের হয়ে দাঁড়িয়েছে । যারা আসন্ন লোকসভা ভোটে নিজেদের জোট নিয়েই এখনো দলীয় কোন্দলের স্বীকার , পরবর্তীতে জোট ! তারপর নির্বাচনে মানুষের কাছে তাদের বার্তা পৌঁছনো এবং মানুষের কাছে তার গ্রহণ যোগ্যতা নিয়েই  এখন বহু প্রশ্নচিহ্ন এনেদিচ্ছে, বাম কংগ্রেসের কর্মীদেরই অন্দর মহলে ।



No comments:

Post a Comment

loading...