Wednesday, 5 September 2018

অন্য দেশ গুলিকে কমদামে তেল বিক্রি করছে সরকার , তুলোধোনা বিজেপি সংসদের

ওয়েব ডেস্ক ৫ই  সেপ্টেম্বর ২০১৮ :  একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমছে , পাল্লা দিয়ে কমছে টাকার দামও , ডলারের পরিপ্রেক্ষিতে ,আর এর জন্যই তেলের দাম আজ আকাশ ছোঁয়া । এবং এর জন্য শুধু মাত্র কেন্দ্র সরকারই দায়ী , ঠিক এই ভাষাতেই বিজেপি সরকারকে বিঁধলেন বিদ্যজনেদের একাংশ ।
এই নিয়ে পর পর তিন দিন টাকার দাম পড়ল , যেটা কার্যত হ্যাটট্রিক বলেই বলে করছেন বিদ্যজনেদের একাংশ , আর এটা কোনো কৃতিত্বের বিষয় নয় , দুর্ভাগ্যের বিষয় দেশের পক্ষে । সোমবার তেল কোম্পানিগুলি এক দিনেই পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে লিটারে ৩১ পয়সা। আর ডিজেলে ৩৯ পয়সা।‌ গত বছর জুনে দৈনিক ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ চালু হওয়ার পর এক দিনে সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি। রাজ্যের করের হিসেব মিলিয়ে কলকাতায় লিটার-‌প্রতি পেট্রোলের দাম বেড়ে দঁাড়িয়েছে পেট্রোলের ৮২.‌১২ টাকা, ডিজেলের ৭৪.‌০৫ টাকা। দিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটারে ৭৯.‌১৫ টাকা, ডিজেলের ৭১.‌১৫ টাকা। সবচেয়ে বেশি দাম মুম্বইয়ে। পেট্রোল ৮৬.‌৫৬ টাকা। টাকার দাম কমায় অবস্থা আরও জটিল। সোমবার বিকেলে একটা সময় ডলার-‌প্রতি দর চলে যায় ৭১.‌১০ টাকায়। এ‌ও এক উদ্বেগজনক রেকর্ড।
ভয়ঙ্কর এই পরিস্থিতিতে আবারও সামনে এসে দঁাড়িয়েছে মোদি সরকারের চাপানো উত্‍পাদন শুল্কের প্রসঙ্গ। আর এরই মাঝে কংগ্রেস আজ তোপ দাগল, দেশে যখন পেট্রোল-‌ডিজেলের দাম সর্বকালীন রেকর্ড ছুঁয়েছে, নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের, তখন অন্য দেশকে সস্তায় তেল বিক্রি করছে সরকার। কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, সম্প্রতি তথ্যের অধিকার আইনে করা একটি আবেদনের জবাবে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, সরকার বিশ্বের ১৫টি দেশে লিটার-‌প্রতি মাত্র ৩৪ টাকা দরে পেট্রোল ও ২৯টি দেশকে ৩৬ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করছে। প্রতিবেশী দেশ শুধু নয়, তালিকায় রয়েছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ইজরায়েলের মতো দেশগুলিও। উল্লেখ্য, জ্বালানির বেশির ভাগটাই আমদানি করতে হয় ভারতকে। দেশে উত্‍পাদিত বা আমদানি-‌করা অশোধিত তেল শোধিত হয় এ দেশের শোধনাগারে। তার পর কিছুটা অংশ অন্য দেশকে বিক্রি করা হয়। সুরজেওয়ালার দাবি, রাফাল যুদ্ধবিমানের মতো পেট্রোল-‌ডেজেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিও মোদি সরকারের বড়সড় দুর্নীতি।লক্ষণীয়, তেলের দাম নিয়ে এদিন মোদি সরকারকে ঠুকলেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামীও। তঁার মন্তব্য, '‌পেট্রোল-‌ডিজেলের এত দাম হওয়া উচিত নয়। সর্বোচ্চ ৪০ টাকা। এর বেশি হলে তা শোষণের নামান্তর।'‌ পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া তথ্য, ২০১৪ সালের মে ‌মাসে, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রতি লিটার পেট্রোলে উত্‍পাদন শুল্ক ছিল ৯.‌২ টাকা। বর্তমানে সেই শুল্ক বেড়ে হয়েছে ১৯.‌৪৮ টাকা। একই ভাবে ২০১৪ সালে প্রতি লিটার ডিজেলে উত্‍পাদন শুল্ক ছিল ৩.‌৪৬ টাকা। এখন সেই শুল্কের পরিমাণ ১৫.‌৩৩ টাকা। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ-‌পর্যন্ত কেন্দ্রীয় উত্‍পাদন শুল্ক বেড়েছে ১২ বার। কংগ্রেস মুখপাত্র সুরজেওয়ালা অভিযোগ, দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে সরকার। ‌জনতার পিঠে ছুরি মারছে। জনতার পকেট কেটে ১১ লক্ষ কোটির বেশি টাকা '‌লুঠ'‌ করেছে মোদি সরকার। বিদ্যজনেদের একাংশের দাবি , তেল বৃদ্ধির ব্যাপার নিয়ে এবার বিজেপির অন্দর মহলেও ধৈয্যের বাঁধ ভাঙছে । তাই সহ্য করতে না পেরে এবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন অনেকেই ।তবে প্রশ্ন একটাই , এই প্রতিবাদ কেন্দ্র সরকারের কানে যাচ্ছে তো ? 


তথ্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার "ডেইলি হান্ট "

No comments:

Post a Comment

loading...