Monday, 26 November 2018

ভাবা যায় ? তথ্য কমিশনকে ঠুঁটো জগন্নাথ করার চেষ্টা চালাচ্ছে মোদী সরকার ।সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

ওয়েব ডেস্ক ২৬শে নভেম্বর, ২০১৮ : এবার তথ্য অধিকার আইনকে নিজেদের স্বার্থে সংশোধনী খসড়া পেশ করে সংশোধনী বিল আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে  বিজেপি সরকার   । অন্তত বিদ্যজনেদের একাংশের এটাই অভিমত । তথ্য অধিকার আইন (আর টি আই ) এমনই একটি আইন যার ভিত্তিতে ভারত বর্ষের যে   কোনো ব্যক্তি সরকারের অধীনে থাকা কোনো কাজের সম্পর্কে সব কিছুই জানতে পারে । সরকার জানাতে বাধ্য , সেই কাজের সমন্ধে ।



এবার সেই কঠোর আইনটা সংশোধনী করা চেষ্টা চালানো হচ্ছে নিজেদের স্বার্থে , বিভিন্ন মহল থেকে তেমনই অভিযোগ করা হচ্ছে ।  এর আগে গত বর্ষাকালীন অধিবেশনে রাজ্যসভায় তথ্যের অধিকার (‌সংশোধনী)‌ বিল আনার চেষ্টা করেছিল সরকার। কিন্তু, তথ্য–‌অধিকার কর্মী এবং বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতায় শেষমেশ পিছোতে হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, আবারও সেই চেষ্টা করতে চলেছে সরকার। সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল মূল আইনের পরিপন্থী। কিন্তু এবার বিলের প্রস্তাবগুলি কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়েছে।তথ্যের অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অভিযোগ, মোদি সরকার যে বিল আনতে চলেছে, তাতে একদিকে যেমন তথ্য কমিশনের স্বাতন্ত্র‌্য খর্ব হবে, সেইসঙ্গে সংবিধান প্রদত্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে মানুষ। লঙ্ঘিত হবে কেন্দ্রীয় আইন কমিশনের সুপারিশও। সূত্রের খবর, কেন্দ্র ও রাজ্যের মুখ্য তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের মাসিক বেতন ও চাকরির মেয়াদ বিষয়ে বেশ কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব আনছে মোদি সরকার। তথ্য কমিশনারকে রাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদা দিতেও ঘোর আপত্তি বিজেপি সরকারের। কমিশনারের কাজের মেয়াদ ৫ বছর থেকে নিজেদের পছন্দমতো করতে চাইছে সরকার। বেতন ও অন্যান্য ভাতা বিষয়ে সরকার যাতে ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করতে পারে, সেই পথও খোলা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কড়া আইনটিকে ঠুঁটো করে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। মনে করা হচ্ছে, এমনটা হলে, তথ্য কমিশন তার মর্যাদা ও ক্ষমতা হারাবে। বিষয়টি নিয়ে গলা চড়িয়েছেন আরটিআই কর্মী তথা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘‌ন্যাশনাল ক্যাম্পেন ফর পিপল্‌স রাইট টু ইনফর্মেশন’–‌এর সদস্য অঞ্জলি ভরদ্বাজ ও বেঙ্কটেশ নায়ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় অঞ্জলি লিখেছেন, ‌তথ্যের অধিকার বিষয়ক অন্যতম নোডাল দপ্তর হল ডিওপিটি বা ‘‌ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং’। তারাই আরটিআই আইনের সংশোধনী প্রস্তাব জানাতে অস্বীকার করেছে। তিনি আরও লিখেছেন, ‘‌সংসদের গত অধিবেশনে রাজ্যসভার সদস্যদের মধ্যে আরটিআই আইনের সংশোধনী বিল বিলি করা হয়েছিল। কিন্তু, সেই নথি প্রকাশ্যে আনা হয়নি।’ অঞ্জলির অভিযোগ, ‘‌স্বচ্ছ আইনের অস্বচ্ছতা’ লুকোতেই এমনটা করছে মোদি সরকার।
বিদ্যজনেদের একাংশের অভিমত বিজয় মালিয়া , মেহুল চোকসি , নীরব মোদীরা দেশ ছেড়ে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার পরেও কি ভাবে এরকম পদক্ষেপ নেওয়ার  সাহস দেখাতে পারে মোদী সরকার সেটাই মহা আশ্চর্যের ।এভাবে যদি বেপরোয়া হয় মোদী সরকার তাহলে ২০১৯ শের লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করা মুশকিল । 

No comments:

Post a Comment

loading...