Wednesday, 28 November 2018

তাহলে কি বিরোধীদের আলাদা করে রাখাটাই এখন একমাত্র স্ট্রাটেজি বিজেপির ?

ওয়েব ডেস্ক ২৮শে নভেম্বর,২০১৮ : চারিদিকে যখন বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীরা এক জোট হচ্ছে , সেই সময় ব্রিটিশদের মতো "ডিভাইড এন্ড রুলের" খেলায় মাতলেন শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র মোদী মহাশয় , অন্তত বিদ্যজনেদের একাংশের সেরকমই অভিমত ।মঙ্গলবার নিজামবাদের সভায় মোদী বলেন, ''মায়াবতী বা অখিলেশকে নিয়ে কোনও সমস্যা নেই উত্তরপ্রদেশের। মমতা বা বামেদের নিয়ে আপত্তি নেই পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু কংগ্রেসকে দেশ থেকে তাড়াতে হবে''। মোদীর বিরুদ্ধে মায়াবতী, মমতা ও বামপন্থীরাই সোচ্চার, অথচ তাঁদেরই ছাড়  দিলেন প্রধানমন্ত্রী।


আরও একটা বিষয় লক্ষণীয়, যে চন্দ্রবাবু মহাজোট নিয়ে হিল্লি-দিল্লি করে বেড়াচ্ছেন, তাঁকে নিয়ে একটা বাক্যও খরচ করেননি প্রধানমন্ত্রী। অথচ মোদীকে যিনি সমর্থন দেওয়ার কথা দিল্লি গিয়ে বলে এসেছেন, তাঁকে একের পর এক বাক্যবাণে বিঁধেছেন নমো।অনেকেই বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে আগামীর  ভাবনা। বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী মহাজোট গড়ে  তোলার সলতে পাকানো শুরু করেছেন বিরোধী নেতানেত্রীরা। দিন কয়েক আগে নবান্নে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। পাঁচ রাজ্যে ভোটের ফলপ্রকাশের পর দিল্লিতে বৈঠক রয়েছে বিরোধী নেতানেত্রীদের। সেখানে থাকবেন মায়া-মমতা-অখিলেশও। সে কারণে বিরোধী জোট থেকে কংগ্রেসকে আলাদা করার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী, মত  রাজনৈতিক মহলের একাংশের। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে জোটের পথও খোলা রাখতে চাইছেন নমো। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার আগে থমকে গেলে বিরোধী শিবিরের সমর্থন দরকার পড়বে। সেই পথই প্রশস্ত করার কাজ শুরু করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। মায়া-মমতাকে ছাড় দিয়ে কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলে মোদী বার্তা দিলেন, কংগ্রেস ছাড়া বাকিদের নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। বিদ্যজনেদের একাংশের অভিমত কংগ্রেসের সংগঠন  সারা ভারত বর্ষে ছেয়ে আছে তাই তাদের নিয়ে মোদির ভয় অমূলক কিছু নয়, সেই তুলনায়  অখিলেশ বা মায়াবতীর দলের সংগঠন সারা ভারতে প্রভাব বিস্তার ঠিক ততটা করতে পারেনি , তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবেই বলে মনে করে বিজেপি।  

No comments:

Post a Comment

loading...