Friday, 30 November 2018

বিজেপির বসুন্ধরা রাজের চাকরি দেওয়ার পরিসংখ্যান মিথ্যে আখ্যা দিল ক্যাগ

ওয়েব ডেস্ক ৩০শে নভেম্বর, ২০১৮: এবার বসুন্ধরা রাজে নিজেও বুঝতে পারছেন তার পক্ষে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীত্বের পদে ফিরে আসা কঠিন ।তাই হয়তো শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন যদি রাজস্থানের মানুষ তাকে আবার আশীর্বাদ করেন , তিনি এবার ৫০ লক্ষ চাকরির দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঘুরছেন , কিন্তু বিজেপির অন্দর মহলও জানে কাজটা বেশ কঠিন , প্রায় অসম্ভবের সমান । এই ঘুরতে ঘুরতে তার সরকার এমন কিছু দাবি করে বসেছেন যা ক্যাগ রীতিমতো সন্দেহ প্রকাশ করেছে ।প্রসঙ্গত বসুন্ধরা দাবি করেছেন বিগত ৫ বছরে তার সরকার ৪৪ লক্ষ কর্মসংস্থান দিয়েছে ।এদিকে আজই বসুন্ধরার আগের সরকারের স্পিকার ও ৯ বারের বিধায়ক সুমিত্রা সিং কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
ক’‌দিন আগে যোধপুরের ভোপালগড়ে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় সরকারের সাফল্য তুলে ধরার পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে মঞ্চের নিচে নামতেই এক মহিলা তাঁকে বলেন, ‘‌ছেলেমেয়েরা বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে। আপনি কোন মুখে ভোট চাইছেন?‌’‌ প্রশ্ন শুনে খানিক আটকে গিয়েও হাত নেড়ে এলাকা ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তবে, ওই মহিলার কাছ থেকে পালালেও নির্বাচনের ময়দানে বেকারত্ব ইস্যু থেকে কিছুতেই রেহাই পাচ্ছেন না তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ওই মহিলার প্রশ্ন। কংগ্রেসের নেতারা প্রচারে বিষয়টির উল্লেখ করছেন। আজ প্রকাশিত কংগ্রেসের ইস্তাহারে কৃষিঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ বাজেটে বিধানসভা‌য় মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, গত সাড়ে ৪ বছর ১৫ লক্ষের বেশি কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করেছেন তিনি। কিন্তু অমিত শাহ দাবি করেছেন, বসুন্ধরা সরকার এ পর্যন্ত ২৬ লক্ষ মানুষকে কাজ দিয়েছে। দলের প্রদেশ সভাপতি মদনলাল সৈনি বলেছেন, রাজ্য সরকার ৩৫ লক্ষ যুবক–‌যুবতীর কাজের বন্দোবস্ত করেছে। কিন্তু ৯ নভেম্বর এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, তাঁর সরকার ১৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবে ৪৪ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। তারপরেই প্রশ্ন উঠছে, বিধানসভায় ভাষণের মাত্র ৯ ‌মাস পর কোন জাদুবলে কর্মসংস্থান ১৫ লক্ষ থেকে লাফিয়ে ৪৪ লক্ষ হল?‌ বসুন্ধরার ব্যাখ্যা, ২.‌২৫ লক্ষ সরকারি চাকরির পাশাপাশি কৌশল বিকাশ যোজনা ও মুদ্রা যোজনায় মোট ৪৪ লক্ষ মানুষ কাজ পেয়েছে। কিন্তু ক্যাগ রিপোর্ট জানাচ্ছে, কৌশল বিকাশ যোজনার পরিচালক আরএসএলডিসি–র দাবি রীতিমতো সন্দেহজনক।‌এমনিতে যে কোনও নির্বাচনেই বেকারত্বের ইস্যু ওঠে। কিন্তু, এবারের ভোটে বেকারত্ব ইস্যু বেশ বড়সড় আকার নিয়েছে।বিদ্যজনেদের একাংশের অভিমত , গত নির্বাচনে বিজেপি–‌র প্রতিশ্রুতি কাজে এসেছিল। যুবসম্প্রদায় রাস্তায় নেমে বসুন্ধরার পক্ষে প্রচার করেছিল। ফলে মোট ২০০ আসনের মধ্যে ১৬৩ আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন বসুন্ধরা। কমবয়সিরা মনে করেছিল, বিজেপি–র মতো তাদেরও ‘‌অচ্ছে দিন’‌ আসতে চলেছে। কিন্তু রাজ্যে কিছু সরকারি দপ্তরে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরোলেও তার বেশিরভাগই আইনি মারপ্যাঁচে আটকে রয়েছে।‌

No comments:

Post a Comment

loading...