Tuesday, 4 December 2018

আলোরানীর দলত্যাগের পর বীজপুরে "আলো" হীন বিজেপি

ওয়েব ডেস্ক ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮: বীজপুরে কি বিজেপির কোমর ভেঙে গেছে ?? সাংবাদিক হিসাবে গত ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম গিয়েছিলাম উত্তর চব্বিশ পরগনা ও নদিয়ার সীমান্তে থাকা বিধানসভা ' বীজপুর ' এ।. যাবার আগে অন্য সাংবাদিকরা বলেছিলেন ' ওটা মুকুল রায়ের গড়। ওখানে তো শুধু তৃণমূল '। কিন্তু কাঁচারাপাড়া স্টেশনে নেমে একটা পোস্টার চমকে দিয়েছিলো। লেখাছিল "এবার আলো"। মানে বুঝিনি ভাবলাম হয়তো এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগের জন্য এই পোস্টের দেওয়া হয়েছে। চায়ের দোকানে গিয়ে চা খেতে খেতে স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলতে গিয়ে আমার ভুলটা ভেঙে গেলো। এই আলো আসলে বিদ্যুতের সংযোগের দাবী নয় বরং মানুষের মনে নতুন লড়াইয়ের আশার আলো বিজেপির প্রার্থী আলো রানী সরকার।



সেই নির্বাচনে ব্যাপক লড়াই হয়েছিল। মার্ খেয়েও জমি ছাড়েননি অলরানী সরকার। কারণ আলো দেবী আসার আগে হালিশহর কাঁচারাপাড়ায় বিজেপির কোনো সংগঠন ছিল। তাই নির্বাচনে পূর্বের ভোটার চেয়ে বিজেপির ৩ গুন্ ভোট বাড়লেও আলোরানী সরকার হেরে যান। কিন্তু অসাধারণ সাংগঠনিক গুনের অধিকারী আলো দেবী এই সংগঠনহীনতার বিষয়টি বুঝে, নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় তিল তিল করে সংগঠন গড়ে তোলেন। এরপর গোল বাঁধে মুকুল রায় বিজেপি যোগদান করার পর; কারণ আলোরানী সরকার তার প্রথম জীবনের রাজনৈতিক সংগ্রাম ছিল মুকুল রায়ের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তাই আদর্শের সাথে আপস না করে তিনিও দলত্যাগ করেন।যদিও মুকুল রায় বিজেপি তে এসেছেন তবুও তার দলত্যাগের পর থেকে এলাকার বিজেপি ম্রিয়মান হয়ে গেছে। এলাকায় দেখা যায় না বিজেপির কোনো মিছিল মিটিং। বিজেপির নেতা কর্মীদের সাথে কথা বললে না গোপন রাখার শর্তে একজন বললেন, " মন্ডল থেকে শুরু করে জেলার নেতারা নিজেদের মধ্যে টাকা খাওয়াখেয়িতে ব্যস্ত। আগে কোন কর্মী বিপদে পড়লে বা মামলা মোকদমায় ফাঁসলে আলোদি পাশে দাঁড়াতেন। যেকোন কেও দাঁড়ায় না। তাই কর্মীরা আর আগের মত পার্টির হয়ে লড়াই করার সাহস হারিয়ে ফেলেছে।" সত্যি বীজপুরে বিজেপি আজ "আলোহীন"।

No comments:

Post a Comment

loading...