Thursday, 6 December 2018

অযোধ্যার মানুষ সব সময় যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে এটাই তার উদাহরণ

ওয়েব ডেস্ক ৬ই  ডিসেম্বর, ২০১৮:  কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য উঠেপড়ে লাগে । কেন লাগে ? নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য । কিন্তু আদতে সাধারণ মানুষের এই জাতি ধর্ম নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা আছে কি ? অযোধ্যার ঘটনা শুনলে , মনে হবে ভারতীয়দের মনুষত্ত্ব জ্ঞান এখনো আছে , মরে যায়নি । ৬ ডিসেম্বর। অযোধ্যার ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিন। ১৯৯২–এর ‌বাবরি মসজিদ ধ্বংসের স্মৃতি ফিরে আসে অযোধ্যার বাসিন্দাদের মনে। সেদিন অযোধ্যার কয়েকশো পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছিলেন সেখানকার হিন্দুরাই। বাসিন্দাদের মনে পড়ে যায় সেই স্মৃতি। অযোধ্যায় প্রায় ৪৫০০ মুসলিম বসবাস করে। গোন্ডিয়া, রায়গঞ্জের কাছে ৫০ থেকে ৬০টি মুসলিম পরিবার বাস করত তখন।



 দাঙ্গাকারীরা যখন এসে জিজ্ঞাসা করছিল মুসলিমরা কোথায়, তখন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এলাকার মহন্তরা। বলেছিলেন কয়েক প্রজন্ম ধরে এই এলাকায় একসঙ্গে বসবাস করছে হিন্দু–মুসলিমরা। সেই সম্প্রীতির পরিবেশ তাঁরা নষ্ট হতে দেবেন না। এলাকার প্রবীণদের বিরোধিতার জেরে সেদিন ফিরে গিয়েছিল দাঙ্গাকারীরা। হিংসা ছড়াতে পারেনি। সেরকমই অযোধ্যার একাধিক মন্দিরে এবং হিন্দু পরিবারে আশ্রয় নিয়েছিলেন মুসলিমরা। অযোধ্যার মুসলিম উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি সাদিক আলি জানিয়েছেন, ‘‌সেদিন হিন্দু সাধু এবং মহন্তরা তাঁদের আশ্রয় না দিলে হিংসা আরও চরম আকার নিত।’‌ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর অযোধ্যার রাজঘাট এলাকায় মুসলিমদের উপর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। সেসময় মুসলিম পরিবারেরা আতঙ্কে ছুটে বেড়াচ্ছিল। তখন পাড়ার হিন্দুরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দাঙ্গাকারীদের আটকাতে মানব প্রাচীর তৈরি করেছিলেন। পরাগ লাল যাদবের ছেলে জানিয়েছেন, ‘‌সেসময় তাঁদের প্রতিবেশী রমজান আলি এবং তাঁর স্ত্রীকে তাঁরা বাঁচিয়েছিলেন আশ্রয় দিয়ে। দাঙ্গাকারীরা যখন তাঁদের আক্রমণ করে তখন তাঁদের শিশু পুত্রকে ফেলে পালাচ্ছিলেন তখন দাঙ্গাকারীরা শিশুটিকে তুলে আগুনে ছুঁড়ে ফেলতে যাচ্ছিল। আমি আমার সন্তান দাবি করে তাকে বাঁচিয়ে এনেছিলাম।’‌‌‌ বিদ্যজনেদের একাংশের অভিমত যারা সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতি নষ্টকরার চেষ্টা করে , তাদের এই সব মানুষদের থেকে শেখা উচিত , কি ভাবে মানুষের উপকারে আসতে হয় ।এটাই ভারতের আসল চিত্র ।

No comments:

Post a Comment

loading...