Thursday, 6 December 2018

হাই কোর্টে মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপির, সাধের রথ যাত্রা

ওয়েব ডেস্ক ৬ই  ডিসেম্বর, ২০১৮: রথ যাত্রা ইস্যু নিয়ে হাই কোর্টে মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপির আপিল ।বাংলায় রথ যাত্রা নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে একটা বাতাবরণ নষ্ট হতে পারে সেই আঁচ হাই কোর্ট আগেই পেয়েছিল , তার জন্য ৯ই জানুয়ারী পর্যন্ত রথ যাত্রা  কোনো ভাবেই বিজেপিকে অনুমোদন করা যাবেনা সেটা ঠারে ঠারে  বুঝিয়ে দিল হাই কোর্ট ।অর্থাত্ শুক্রবার কোচবিহারে রথযাত্রা হচ্ছে না,  আদালতে  খারিজ  হয়ে গেল বিজেপির আবেদন ।


 আদালতের নির্দেশ, যে যে জেলায় বিজেপি রথযাত্রা বেরোবে,  প্রত্যেক জেলার পুলিস সুপারকে আলাদাভাবে রিপোর্ট দিতে হবে। ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্ট দেখেই বিজেপির রথযাত্রার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। তার আগে আপাতত ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রথযাত্রা বার করতে পারবে না বিজেপি।বিজেপির রথযাত্রায়  আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আদালতে দেওয়া গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। সেক্ষেত্রে কোনও অশান্তি কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে, তার দায় কার ওপর বর্তাবে, এদিনের শেষে সে প্রশ্নের উত্তর অধরাই থেকে যায়। এইসব বিষয় মাথায় রেখেই বিজেপির রথযাত্রায় এক দিনের মধ্যে অনুমতি দেওয়া সম্ভব  নয় বলে জানিয়ে দেয় আদালত।বিজেপির রথযাত্রা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর এজলাসে রাজ্য-বিজেপির তরজা ছিল তুঙ্গে।  বিজেপির রথযাত্রায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে,  এমনটা আশঙ্কা  প্রকাশ করে রাজ্যের পুলিস প্রধান ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি দেন কোচবিহারের জেলাশাসক ও পুলিস সুপার। ঠিক এই বিষয়টি অর্থাত্ এমনই আশঙ্কার প্রেক্ষিতেই আদালতে সওয়াল করেন এজি।এদিন রথযাত্রা মামলার শুনানির সময় এজি বলেন, কোচবিহারে রথযাত্রায় অনুমতি দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। কারণ, বিজেপির রথযাত্রায় কোচবিহার পুলিস সুপারের আপত্তি রয়েছে। যদিও তার পাল্টা হিসাবে দিলীপ ঘোষ জি ২৪ ঘণ্টার একান্ত সাক্ষাত্কারে জানান, যে কোনও ভাবেই বিজেপির রথযাত্রা হবে, অনুমতি দিক বা না দিক। কিন্তু তাঁর বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেন এজি।  তিনি বলেন, “বিজেপির দাবি সঠিক নয়।” ব়্যালি করতে গেলে যে অনুমতি লাগে, সেবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশ তুলে ধরেছেন এজি। আদালতকে বন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেন তিনি।কোচবিহার কেন সংবেদনশীল, সে বিষয়ে রিপোর্টে উল্লেখ করেন তিনি। এজি এদিন পূর্ব উদাহরণ দিয়ে আদালতে জানান, এর আগে কোচবিহারে যখন এধরনের মিছিল হয়েছে, তখন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। এবারও হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।  কিছুদিন আগেও একটি ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কোচবিহার। সেই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া এর আগে বিজেপির বাইক মিছিল, কিংবা অন্যান্য মিছিল ঘিরে কীভাবে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তাও এদিন আদালতে উল্লেখ করা হয়। বিদ্যজনেদের একাংশের অভিমত , ১৯৭১ সালের পর বাংলায় শান্তিপূর্ণ বাতাবরণ বিরাজ করছে , সেটা কোনো ভাবে বিজেপির রথ যাত্রার জন্য বিঘ্নিত হতে যাওয়া যায়না ।

No comments:

Post a Comment

loading...