Monday, 24 December 2018

তুলসীদাসের ‘মানস গণিকা’ শুনতে ২০০ জন যৌন কর্মী অযোধ্যায়, গেরুয়া শিবির রেগে আগুন , কিন্তু কোন আইনে ?

ওয়েব ডেস্ক ২৪ শে ডিসেম্বর ২০১৮: কেউ স্বেচ্ছায় যৌন কর্মী হয়না , এ কথাটাই মনে হয় গেরুয়া শিবির ভুলে গেছে ।আর সব থেকে বড় কথা যৌন কর্মীরাও  মানুষ , আজকের দিনে যৌন কর্মীরা আছে বলেই সমাজের ভারসাম্যটা ঠিক আছে এমন কথাও বিদ্যজনেরা বলে থাকেন যেটা কখনোই অমুলূক নয় ।প্রসঙ্গত রাম জন্মভূমিতে যৌনকর্মী’! এমন তথ্য কানে পৌঁছাতে রীতিমত রেগে লাল হয়ে উঠল গেরুয়া শিবির। প্রত্যাশিতভাবেই উত্তেজনা ছড়াল অযোধ্যায়। মুম্বাইয়ের যৌনকর্মীদের অযোধ্যায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন চারণ কবি মোরারি বাপু। তার মুখ থেকে তুলসীদাসের ‘মানস গণিকা’ শুনতে শনিবার উত্তরপ্রদেশের রাম জন্মভূমিতে হাজির হয়েছিলেন প্রায় ২০০ জন যৌনকর্মী। আর এতেই ক্ষুব্ধ গেরুয়া শিবির।
দান্ডিয়া মন্দিরের মোহন্ত ভরত ব্যাস বলেন,রাম জন্মভূমিতে যৌনকর্মীদের উপস্থিতি সমাজের জন্য মোটেই ভালো বার্তা নয়। এই পবিত্র শহরে মানুষ আসেন তাদের পাপ মোচন করতে, প্রায়শ্চিত্ত করতে। সেখানে এই বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। মুরারি বাপুর পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করি না।উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এর কাছে ইতিমধ্যে মোরারি বাপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন জ্যোতিষ শোধ সাস্থন সংগঠনের প্রধান প্রবীণ শর্মা। তার বক্তব্য, যৌনকর্মীদের সাহায্য করতে গেলে তাদের অর্থ দিলেই হয়। রাম কথা শোনানোর প্রয়োজন নেই। অযোধ্যাকেই অপবিত্র করছেন কবি। কট্টর হিন্দুপন্থীরা যতই ক্ষুব্ধ হন না কেন, এমন অভিজ্ঞতায় আপ্লুত যৌনকর্মীরা। মোররি বাপুর ডাকে সাড়া দিয়ে অযোধ্যা আশা এক যৌনকর্মী বললেন, ‘এই আমন্ত্রণ পেয়ে সত্যিই গর্বিত। এই প্রথমবার কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিলাম।’ আর এক মহিলার কথায়,’আমরা ঈশ্বরের কাছে নিজেকে মেলে ধরতে চাই। আমরাও ঈশ্বর ও তার চমৎকারে বিশ্বাস করি। এই অনুষ্ঠানে আসার পর নিজেকে আশীর্বাদধন্য মনে হচ্ছে।’ আইন অনুসারে কোনো যৌন কর্মী লোকালয়ে, পেশাগত দিক থেকে তাদের যৌনতা কাজে লাগাতে চায় তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতেই পারে , কিন্তু কোন আইনে একজন যৌন কর্মী তীর্থ স্থানে যেতে পারবেননা সেটা কথাও লেখা আছে কি ? না ভারতীয় সংবিধানে লেখা আছে ? গেরুয়া শিবির তাদের সংগঠন মজবুত করার জন্যই কি এসব করছে ? এই ঘটনা রেখে গেল অনেক প্রশ্ন । 

No comments:

Post a Comment

loading...