Friday, 7 December 2018

"পদ্মাবতী" নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার পর এবার "কেদারনাথ", আর কত নিচ্ছে নামবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি ?

ওয়েব ডেস্ক ৭ই  ডিসেম্বর, ২০১৮: বিদ্যজনেরা বলে থাকেন রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় , খেলা খেলার জায়গায় , আর রুপোলি পর্দা রুপোলি পর্দার জায়গায় , এগুলোকে মিশিয়ে ফেলা মূর্খামি ছাড়া আর কিছুই নয় । তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই মুর্খামিকেই হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে । মনে আছে "পদ্মাবতী" , সিনেমাটি ? কি কান্ডইনা ঘটল বিজেপি শাসিত রাজস্থানে , যেখানে সেন্সর বোর্ড পদ্মাবতীর ছাড়পত্র দিয়েছিল , সেখানে গেরুয়া বাহিনী ছবিমদ্ধে অশ্লীলতা খুঁজে পেয়েছিল , অনেকের কাছেই এটা আশ্চর্যের মনে হয়েছিল  ।


তারপর যাদের কাছে আশ্চর্য্য মনে হয়েছিল , তারা পরে বুঝতে পারে রাজনৈতিক সুবিধের জন্য প্রেক্ষাপটটি তৈরী করা হয়েছিল ।এবার পালা "কেদারনাথ" নিয়ে ।এই ‘‌কেদারনাথ’‌–এর মধ্য দিয়েই বলিউডে পা দিতে চলেছেন সইফ কন্যা সারা আলি খান। বিপরীতে রয়েছেন সুশান্ত সিং রাজপুত। এবার উত্তরাখণ্ডের সাতটি জেলায় এই ছবিটিকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হল। উত্তরাখণ্ডের এডিজি (‌আইন–শৃঙ্খলা)‌ অশোক কুমার শুক্রবার এই নির্দেশ দিয়েছেন। নৈনিতালের জেলাশাসক বিনোদকুমার সুমন শুক্রবার ঘোষণা করে জানান, হরিদ্বার, দেরাদুন এবং উধম সিং নগর জেলায় ‘‌কেদারনাথ’‌ ছবিটি কোনও প্রেক্ষাগৃহে চলবে না। উত্তরাখণ্ডের পর্যটক মন্ত্রী সতপাল মহারাজ খবরটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘‌আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে তা মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দিয়েছি। রাজ্যে আইন–শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে সে বিষয়েও এডিজিকে বলা হয়েছে। জেলাশাসককেও বলা হয়েছে রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্যই কেদারনাথ ছবিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’‌ উত্তরাখণ্ড সরকার চায় না রাজ্যের ওপর কেউ কোনও আঙুল তুলুক। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার বিধানসভায় চার সদস্যের কমিটির নেতৃত্বে থাকা পর্যটক মন্ত্রী জানান, এই ছবি নিয়ে অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। যা পরবর্তীকালে সমস্যা সৃষ্টি হবে। এর আগেও রাজ্য বিজেপি নেতা অজয়েন্দ্র অজয় ‘‌কেদারনাথ’‌ ছবি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি টুইট করে জানিয়েছিলেন, ছবিটি মুক্তি পেলে রুদ্রপ্রয়াগ ও কোটওয়ার থেকে বিক্ষোভ শুরু হবে।কারণ ছবিটিতে ‘‌লাভ জেহাদ’‌–এর প্রচার করা হয়েছে। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার জন্য পরিচালক কোনও হিন্দু নামের অভিনেত্রীকে খুঁজে পাননি?‌ ছবিতে পবিত্র জায়গায় চুম্বন দৃশ্য দেখানো নিয়েও সরব হন অজয়েন্দ্র অজয়।  কি আশ্চর্য্যের না ? প্রেমের ছবিতে প্রেম থাকবেনা তো কি থাকবে ? সেটা অবশ্য অজয়েন্দ্র অজয়র মতো লোকেরা পরিষ্কার করে বলেননি । বিদ্যজনেদের একাংশের অভিমত , সংগঠন মজবুত করার জন্য এই ভাবে চলচিত্রকে হাতিয়ার করা কখনোই উচিত নয় এটা নিন্দনীয় কাজ ।

No comments:

Post a Comment

loading...