Sunday, 30 December 2018

মোদীজি ৫৯ মিনিটের ঋণ প্রকল্পের দুর্নীতি ফাঁস ,অনামী কোম্পানির একদিনে কামাই ₹ ৯৯৪৩০০০০০ কোটি টাকা

ওয়েব ডেস্ক ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৮:  নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সারা দেশের ক্ষুদ্রত ও মাঝারি শিল্পের ব্যবসায়ীদের যেমন ডামাডোল চলছে সেরকম গুজরাটের কয়েকজন ব্যবসায়ী ফুলে ফেঁপে উঠছে এবং সেটা কেন্দ্র সরকারের বদান্যতায় ।প্রসঙ্গত ২রা  নভেম্বর ২০১৮  সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের  (এমএসএমই) জন্য একটি '৫৯  মিনিটের মধ্যে  ঋণ দেওয়ার  'প্রকল্প চালু করেছিলেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে  ক্যাপিটা ওয়ার্ল্ড প্ল্যাটফর্ম প্রাইভেট লিমিটেড নামে গুজরাটে অবস্থিত একটি কোম্পানি  ব্রোকার হিসেবে কাজ করছে এবং প্রতি আবেদন পত্রে ১০০০ টাকা করে নিচ্ছে । দৃশ্যত, এই সংস্থা ঋণ আবেদন সহ MSME থেকে আবেদনকারীর জিএসটি, ব্যবহারকারী আইডি, এবং পাসওয়ার্ড সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে, শুধুমাত্র ঋণের জন্য নীতিগত অনুমোদন দিতে; যেমন সরকারি অফিসের বাইরে দালালরা বসে থাকে ৫০ টাকার বিনিময়ে । যেরকম দালালদের সুপারিশ একেবারে অপ্রাসঙ্গিক সেরকমই ক্যাপিটা ওয়ার্ল্ড প্ল্যাটফর্ম প্রাইভেট লিমিটেড এর সুপারিশও অপ্রাসঙ্গিক ।
আবেদন পদ্ধতি অনুসারে  ওয়েবসাইট www.psbloansin59minutes.com নিবন্ধন অন্তর্ভুক্ত। লগ ইন করার পরে, কিছু প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে, তারপরে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক  এবং তারপরে ওয়েবসাইটটি একটি চিঠি প্রদান করবে যাতে লেখা থাকে তার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে । অনলাইন পদ্ধতিটিতে  'No-Reply@CapitaWorld.com' থেকে একটি মেইল ​​প্রাপ্তির সাথে শেষ হয়, যার  মধ্যে অনুমোদনের চিঠি থাকে । ওয়েবসাইটের এই প্রক্রিয়া কোনও মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই  হয়ে থাকে এবং অনুমোদন চিঠি প্রাপ্তির জন্য, প্রক্রিয়াকরণ ফি হিসাবে ₹ ১,০০০  + ₹ ১৮০  ট্যাক্স নেয় ক্যাপিটা ওয়ার্ল্ড প্ল্যাটফর্ম প্রাইভেট লিমিটেড  । আবেদনকারীর , ঋণ অনুমোদন করা হবে কিনা সেটা ব্যাঙ্কের নিজের   পরিচালিত একটি তদন্তের দ্বারা  নির্ধারিত হয়ে থাকে । সংক্ষেপে বলা যায় যে, ক্যাপিটা ওয়ার্ল্ড যা কিছু করে তা নিরর্থক, কিন্তু যদি আবেদনকরি ঋণ পেয়ে যায়   তাহলে সংস্থানটি 0.৩৫ % প্রক্রিয়াকরণ ফি হিসাবে পাবে, এটা আইনত , কিন্তু ১০০০ টাকা করে নেওয়াটা আইনত নয় ।উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রীর  ঘোষণার মাত্র একদিন পরে, ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যান বিভাগ (এটি অপসারণ করা হয়েছে ব্যাপারটি জানাজানি হওয়ার পর ) দাবি করেছে যে ১.৬৯  লাখ নিবন্ধন এবং ২৩,৫৮২  কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন হয়েছে তাদের হাত দিয়ে । সহজ হিসাব অনুসারে, ঋণের জন্য অনুমোদিত ₹ ১৬৯০০০০০০  + ০.৩৫%  ₹ যেটা প্রসেসিং ফী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে , যা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৮২.৫৩  কোটি টাকা। তার মানে এক দিনের মধ্যে কোম্পানিটির আয় ₹ ৯৯৪৩০০০০০ কোটি টাকা । গুজরাটি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুবিধে আছে বলতেই হবে ,কোম্পানির দৃষ্টিকোণ থেকে । 

No comments:

Post a Comment

loading...