Tuesday, 29 January 2019

পয়সার লোভেই শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন বিজেপি নেতা,"ইন্টার স্টেট মাইগ্র্যান্ট লেবার অ্যাক্ট ১৯৫০" আইন জানার পরেও

ওয়েব ডেস্ক ২৯ শে জানুয়ারি ২০১৯: রক্ষকই যদি ভক্ষক হয় তাহলে ব্যাপারটা হাস্যকর পর্যায়ে চলে যায় । সেরকমই ঘটনা দিনের পর দিন ঘটে চলেছে সাব্রুম মহাকুমার দক্ষিণ মনু বনকুলের আর কে বি-তে (রামকৃষ্ণ ইটভাটায়)।প্রসঙ্গত ইন্টার স্টেট মাইগ্র্যান্ট লেবার অ্যাক্ট ১৯৫০ আইনে বলা আছে ইট ভাটায় বহিঃ রাজ্য থেকে কোনো শ্রমিককে নিয়ে আসলে শ্রমিকের যাতায়াত খরচ মালিককে দিতে হবে । শ্রমিক আসার পর যতদিন মালিক কাজ দিতে পারবেন না ততদিন শ্রমিকদের খাওয়া ও বেতন দিতে দিতে হবে মালিককেই । শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে , থাকার ঘরগুলো পাকা করতে হবে , শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে ।
 ভাটাতে শ্রমিকদের কাজের সময় শিশুদের রাখার জন্য ক্রেস তৈরী করতে হবে  এবং একজন মহিলাকে দায়িত্ব দিতে হবে  শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। ওই  মহিলার বেতনও মালিকপক্ষকেই নিতে হবে । আইনে শ্রমিক স্বার্থে আরো অনেকগুলো বিষয় যুক্ত আছে। সাব্রুম মহাকুমার বেশীরভাগ ইটভাটা এইসব নিয়ম মানছে না। এমনিতে কয়লার অভাবে কোন কাজ নেই। শ্রমিকদের কাজ কমে যাচ্ছে।সাব্রুম মহাকুমার দক্ষিণ মনু বনকুলে কয়েকজন মিলে একটি ইটভাটা চালাচ্ছেন। এই ভাটার মালিকদের মধ্যে একজন বিজেপি নেতা সুনীল নাথ। তিনি আবার বিজেপি দলের শ্রমিক নেতা। শ্রমিক নেতার ইটভাটায় বেআইনি কাজ চলছে। শিশুদের অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে না পাঠিয়ে ইট তৈরীর কাজে লাগানো হচ্ছে। এই ভাটার বেশিরভাগ শ্রমিক অসম থেকে আগত। স্বাস্থ্যের কোনো পরিষেবা নেই। শ্রমিকরা যে ঘর গুলিতে বসবাস করে সেগুলি থাকার উপযুক্ত নয়। পানীয় জলের সুব্যবস্থা নেই। এইরকম পরিবেশে একমাত্র পেটের তাগিদে বহিঃ রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকরা শত কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছেন। আর মালিকপক্ষ বেশি মুনাফা লাভের জন্য অধিক পরিশ্রম করাচ্ছেন। শুধু তাই নয় শিশুদেরও শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে। একজন শ্রমিক বলেন- গরিব মানুষ, পেটের তাগিদে শিশুদের কাজ করতে হয়। মালিকও বাধা দেয় না। তাহলে দুটো পয়সা পকেটস্থ করার লোভেই একজন মালিক যা খুশি তাই করে যাবে ? প্রশ্ন উঠছে নানা মহল থেকে , এরা সাহসই বা পাই কি করে আইনের বিরুদ্ধে কাজ করার ?

No comments:

Post a Comment

loading...