Saturday, 26 January 2019

মানবিক মমতা , সিপিএমের প্রাক্তন মন্ত্রীর চিকিৎসার সব ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন

ওয়েব ডেস্ক ২৬শে জানুয়ারি ২০১৯:ভারত বর্ষের তৃতীয় ধনী দল হিসেবে পরিচিত ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি যা করল না , সেটাই করতে এক মুহূর্তেও দ্বিধা করলেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । প্রসঙ্গত সরকারি হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আছেন একসময়ের দাপুটে সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন বনকর্মী যোগেশ বর্মন। দক্ষিণ ভারতে লিভার প্রতিস্থাপন করাতে গিয়ে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন ঠাই হয়েছে এসএসকেএম-এ।

 নিজের দল ফিরেও তাকায়নি। এমন অবস্থার খবর পাওয়া মাত্র প্রাক্তন মন্ত্রীর খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোন করেন অসুস্থ যোগেশবাবুকে। চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য ৩৭ লক্ষ টাকাও মঞ্জুর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।রাজনীতির উর্ধে উঠে আরও একবার মানবিক সৌজন্য দেখালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী যোগেশ বর্মনের চিকিৎসার সব ভার নিল রাজ্য সরকার। মানবিক মমতার আপ্লুত ব্যবহারে যোগেশবাবু ফোনেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন। বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহারে আমি আপ্লুত। উনি আমার এই চরম বিপদের সময় যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন, এই ঋণ কোনওদিন শোধ করতে পারব না’। একটু মনে করিয়ে দেওয়া যাক আলিমুদ্দিনকে বা মুজাফ্ফর আহমেদ ভবনকে , যে এই বর্ষীয়ান কমরেড তাদের জন্য কি না করেছেন ।  মিটিং , মিছিল থেকে সংগঠন তৈরী কাজে যোগেশবাবু দিন রাত এক করে দিয়েছিলেন এই সিপিএমের জন্য ।অনেক ক্ষেত্রে নিজের সংসারটাও ঠিক মতন দেখতে পারেননি , তবুও পার্টির জন্য নিজের জান লড়িয়ে দিয়ে ছিলেন, কিন্তু আজ লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য যখনি টাকার দরকার পড়েছে আলিমুদ্দিন আর মুখ ফিরিয়েও তাকাইনি ।তার এই অবস্থার খবর পাওয়া মাত্রই  উত্তরকন্যা থেকেই যোগেশবাবুকে ফোন করেন মমতা। ফোনে মুখ্যমন্ত্রী যোগেশকে বলেন, ‘আপনি কোনও চিন্তা করবেন না। আজ থেকে আপনার চিকিৎসার সমস্ত দায়ভার নিল রাজ্য সরকার। আপনি কেমন থাকেন না থাকেন, পরিবারের লোকজনদের বলবেন, আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। আপনি সুস্থ হয়ে উঠুন, ভালো হয়ে উঠুন এটাই কামনা করছি।’এরপরেই যোগাযোগ করা হয় দক্ষিণ ভারতের একটি নামকরা হাসপাতালের সঙ্গে। সেখান থেকে জানানো হয়, পুরো চিকিৎসার জন্য ৩৭ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। সঙ্গে সঙ্গেই তাতে সম্মতি দেন মমতা।

No comments:

Post a Comment

loading...