Saturday, 23 March 2019

অসহিষ্ণুতার আরও একটা নিদর্শন,সাধারণ একটা ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে একমুসলিম পরিবারকে আক্রান্ত করা হল

ওয়েব ডেস্ক  ২৩শে  মার্চ ২০১৯:মোদীজির আমলে অহিষ্ণুতার নিদর্শন আরও একবার সামনে এলো । রাস্তায় একটা ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম পরিবারকে একরাত হতে হল ।  তুচ্ছ একটা ব্যাপার তা যে এতটা ভয়াবহ আকার নেবে তা মহম্মদ সাজিদ নামে এই ব্যক্তিও হয়তো ভাবতে পারেননি । প্রসঙ্গত উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এই ব্যক্তি গত তিন বছর ধরে স্ত্রী সামিনা এবং ছয় সন্তানকে নিয়ে গুরুগ্রামে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তাঁর ভাইপো দিলশাদ এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধু বাড়ির সামনের ফাঁকা রাস্তায় ক্রিকেট খেলছিলেন। তিনি পরে সংবাদমাধ্যমকে ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌আমরা তখন ক্রিকেট খেলছিলাম।
 আচমকা দু’‌জন যুবক বাইকে করে সেখানে আসে এবং বলে, এখানে কী করছিস?‌ পাকিস্তানে গিয়ে ক্রিকেট খেল। এরপরই আমার কাকা সাজিদ সেখানে আসেন। তিনি বচসা থামানোর চেষ্টা করলে, বাইকের পিছনে বসে থাকা যুবক নেমে এসে তাঁকে চড় মারে। সেই সঙ্গে বলে, দাঁড়া আমরা দেখাচ্ছি কী করতে পারি। এরপর ১০ মিনিট পর দু’‌টি বাইকে আরও ছ’‌জন যুবক আসে। তাঁদের সঙ্গে আরও অনেককে পায়ে হেঁটে আসতে দেখে আমরা ভয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে যাই।’ এখানেই না থেমে দিলশাদ আরও জানায়, ‘আমাদের বাড়ির ভিতর ঢুকে যেতে দেখে, ভিড়ের মধ্যে থেকে অনেকে চিৎকার করে বাইরে আসতে বলে। কিন্তু আমরা বাইরে না বেরোনোয় ওরাই জোর করে বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে। কারোর হাতে হকি স্টিক ছিল, কারোর হতে ছিল লোহার রড। এই দিয়েই ওরা আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে। আমাদের প্রত্যেককে বেধড়ক মারধর করে। লোহার রড, বাঁশ, বল্লম, তলোয়ার, হকি স্টিক কোনও কিছুই বাদ যায়নি। এরপর বাড়ির দামী জিনিসপত্র লুঠ করে পালিয়ে যায়। এই সময় পুলিসকে ফোন করেও কোনও সুরাহা হয়নি। পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি দেয়, বাড়ি ছেড়ে চলে যাও নাহলে আমরা বাড়িতে জবরদখল করব।’ ঘটনা প্রসঙ্গে সাজিদের স্ত্রী সামিনা বলেন, ‘আমি ওই সময় ‌রান্নাঘরে ছিলাম। আচমকাই বেশ কয়েকজন বাড়ির ভেতর ঢুকে সবাইকে বেধড়ক মারতে শুরু করে। আমি বারবার মিনতি করলেও ওরা আমার কথা শোনেনি। ওরা জানলা–দরজা, গাড়ি এবং বাড়ির মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকে। এরপর বেশ কিছু সোনার গয়না এবং ২৫ হাজার নগদ টাকা চুরি করে চলে যায়।’পুলিশের তরফ থেকে মামলা রুজু করা হয়েছে । এখানেই শেষ নয় , যারা যুক্ত ছিল এই অপকর্মের সাথে তাদের ভিডিও দেখে সনাক্ত করার কাজ চলছে ।

No comments:

Post a Comment

loading...