Saturday, 30 March 2019

দীর্ঘ ২২ মাস বেতন নেই , এক রকম অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন নগাঁও কাগজ কলের কর্মচারীরা , কেন্দ্রের মুখে কুলুপ

ওয়েব ডেস্ক ৩০শে  মার্চ ২০১৯:  প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি , কিন্তু আদতে লাভের লাভ কিছুই হয়নি কর্মচারীদের ।এই মিথ্যে প্রতিশ্রুতির কবলে পরে দীর্ঘ ২২ মাস কেটে গেছে , কিন্তু বকেয়া টাকা হাতে পাননি কর্মচারীরা , আজ তারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে ।ঘটনাটি নগাঁও কাগজ কলের ।মোদীজি চাকরি দিতে পাচ্ছেননা , বোঝা গেল , কিন্তু ৩০০০ কোটি টাকা দিয়ে সর্দার বল্লভ ভাইয়ের মূর্তি স্থাপন করতে পারেন আর এই কর্মচারীদের বকেয়া টাকা দিতে পাচ্ছেননা ? দিকে দিকে এই প্রশ্ন উঠছে ।এবার একটু পেছনের দিকে তাকানো যাক ।প্রসঙ্গত ১৯৮৫ এবং ১৯৮৮ সাল থেকে হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশন লিমিটেডের জাগিরোড ও কাছাড় কাগজ কলে বাণিজ্যিকভাবে উত্‍পাদন শুরু হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে মিজোরামে বাঁশঝাড়ে ফুল আসায় বছর তিনেকের জন্য কাছাড় কাগজকলে বাঁশ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।এর পর গ্রিন ট্রাইবুনালের নিষেধাজ্ঞার জেরে বন্ধ হয় মেঘালয় থেকে কয়লা আসা। শুরু হয় রেলওয়ের পাহার লাইনে মেগা ব্লক। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নির্দেশে কস্টিক কারখানাও বন্ধ করে দিতে হয়। এরই মধ্যে টিম টিম করে চলতে থাকে কাগজ উত্‍পাদনের কাজ।
কিন্তু লাভের মুখ দেখা দূর, ২০১১ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮০ কোটি টাকার বেশি লোকসানে পড়তে থাকে হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশন। এ ব্যাপারে অবশ্য দুর্মুখেরা তদানীন্তন কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে দায়ীও করেন। তাঁদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা সিন্ডেকেটের কবলে পড়েই কাগজকলের মৃত্যুঘণ্টা বেজেছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। প্রসঙ্গত, ব্যাপক দুর্নীতির কবলে পড়ে বন্ধ পাঁচগ্রাম কাগজ কলে বর্তমানে সিবিআই তদন্ত চলছে।এদিকে লোকসানের এত বড় ধাক্কা সামলাতে না পেরে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাছাড় কাগজকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ থেকে জাগিরোডেও উত্‍পাদন বন্ধ হয়ে যায়। কাছাড় ও জাগিরোড কাগজকলে মোট স্থায়ী কর্মী প্রায় ২০০০। অস্থায়ী কর্মী ৫০০০।ঠিকাদার, ঠিকাকর্মী, সকলের পরিবার মিলিয়ে কল বন্ধ থাকায় মোট দুই লক্ষ মানুষ আর দুটো শহরের ভবিষ্যত্‍ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য বহু কর্মচারী হাতে দা নিয়ে দিনমজুরের কাজ করছেন। আর যাঁরা তা করতে পারছেন না, তাঁরা একদিন ভালো খবরের আশায় পথ চেয়ে রয়েছেন। এরই মধ্যে দুই কাগজ কলকে পুনুরুজ্জীবিত করতে লাগাতার আন্দোলন করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।
বরাক বনধ, সড়ক অবরোধ, দিশপুর অভিযান, বিধানসভার সামনে সত্যাগ্রহ ইত্যাদি আন্দোলন চলছে দফায় দফায়। এদিকে, অচল দুই কাগজ কলের কর্মচারীদের তিন মাসের বকেয়া চলতি বছরের গত মার্চে দেওয়া হয়েছিল। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় ভারী শিল্পোদ্যোগ মন্ত্রক হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশনের অধীনস্থ জাগিরোডে নগাঁও কাগজ কল এবং পাঁচগ্রামে অবস্থিত কাছাড় কাগজ কলের কর্মচারীদের তিন মাসের বকেয়া বেতনের টাকা রিলিজ করেছিল। সরকারি তরফে বার-বার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, দুটি কাগজ কলকে পুনরুজ্জীবিত করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কিন্তু এখনো পর্যন্ত কিছুই হয়নি ।

No comments:

Post a Comment

loading...