Monday, 11 March 2019

দেশে লাগু হল আদর্শ আচরণবিধি, সব রাজনৈতিক দলকেই তা মেনে চলতে হবে ।এটা বাধ্যতামূলক ।

ওয়েব ডেস্ক ১১ই  মার্চ ২০১৯: ভোটের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার সাথে সাথেই সারা দেশে আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়ে গেল। এখন থেকে যতক্ষণ না ভোট শেষ হচ্ছে সব রাজনৈতিক দলকেই এই আচরণ বিধি মেনে চলতে হবে । এটা বাধ্যতা মূলক ।এই আচরণ বিধি লাগু হওয়ার সাথে সাথেই আর কোনো নয়া প্রকল্প ঘোষণা করতে পারবেনা কেন্দ্রীয় সরকার । হয়তো  এই জন্যই তরিঘড়ি নরেন্দ্র মোদীজি বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

আদর্শ আচরণবিধি কী-
নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি হল এক ধরণের বিশেষ গাইডলাইন, অর্থাৎ নিয়মনীতি, তা ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত মেনে চলতে হয় রাজনৈতিক দলগুলিকে। রাজনৈতিক বক্তৃতা, ভোটের দিন, পোলিং বুথ, পোর্ট ফোলিও, ইস্তেহার, শোভাযাত্রা ও বিশেষ আচরণের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ন নীতি মেনে চলতে হয়। উদ্দেশ্য, সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনা করা।

কখন আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়-
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো অনুযায়ী, ১৯৬০ সালে কেরালায় বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রথম আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়। ১৯৬২-র নির্বাচনের সময় সব রাজনৈতিক দল এটা কঠোরভাবে অনুসরণ করে। পরেও সেই ধারা অব্যাহত থাকে। ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে নির্বাচন কমিশন বিশেষ ধারা যোগ করে। লক্ষ্য শাসক দলকে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে তারা ভোটের সময় কোনো বাড়তি সুযোগ নিতে না পারে। ভোটের দিন ঘোষণা থেকে আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়ে যায়। কার্যকর থাকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত।

কী কী বিধিনিষেধ আরোপ হয়-
৮ বিধিনিষেধের ধারা আছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এগুলি প্রযোজ্য?
যেমন– সাধারণ আচরণ, মিটিং, শোভাযাত্রা, পোলিংয়ের দিন, পোলিং বুথ, পর্যবেক্ষক, ক্ষমতাসীন দল, ইস্তেহার।

নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হয়ে গেলে কেন্দ্রে বা রাজ্যে থাকা ক্ষমতাসীন দল তার সরকারি প্রতিপত্তি কোনোভাবে কাজে লাগাতে পারবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে কোনো প্রকল্প ঘোষণা করা যাবে না। এমনকী কোনো সরকারি নীতিও ঘোষণা করা যাবে না। প্রচারের কাজে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। খবরের কাগজ বা অন্য কোনো গণমাধ্যমে জনগণের টাকায় বিজ্ঞাপন দেওয়াও অপরাধের শামিল। রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে তাঁর কাজের ভিত্তিতে নিশানা করা যেতে পারে। তবে জাত বা সম্প্রদায় ভিত্তিক আবেগ হাতিয়ার করে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। ঘুষ দেওয়া অপরাধ। এছাড়া ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে কোনো প্রচার করা যাবে। এই সময়টাকে `নির্বাচনী নিরবতা’ হিসেবে গণ্য কা হয়।

আইনের বেড়াজাল কতটা-
নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতেই এই আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়। এটা পেছনে বিধিবদ্ধ ঘেরাটোপ নেই। নির্দিষ্ট আচরণবিধির যে বিভিন্ন ধারা আছে, সেই অনুযায়ী কেউ তা ভঙ্গ রতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলির ওপর নজর রাখে। কেউ আদর্শ আচরণবিভি ভঙ্গ করলে কমিশন তার নির্দেশিকা অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেবে। কিংবা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে, তার ভিত্তিতে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগ পেলে কমিশন অভিযুক্তকে নোটিশ দেয়। তার জবাবের ভিত্তেত পদক্ষেপ করা হয়।

পূর্বে আচরণবিধি ভঙ্গের নজির-
২০১৭ সালে গুজরাত নির্বাচনের সময় কংগ্রেস ও বিজেপি পরস্পরের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনে। বিজেপির অভিযোগে, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে রাহুল গান্ধী টিভি চ্যানেল সাক্ষাৎকার দেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, আহমেদাবাদে নিজের ভোট দেওয়া হয়ে যাওয়ার পর নরেন্দ্র মোদী রোড শো  করেছিলেন। 

No comments:

Post a Comment

loading...