Tuesday, 23 April 2019

মোদিকে আবার ফিরিয়ে আনতে কংগ্রেস ও বাম যে এক হয়েছে সেটা দ্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন মমতা

ওয়েব ডেস্ক ২৩ শে এপ্রিল ২০১৯: বাম আর কংগ্রেস যতই ওপরে ওপরে তারা পৃথক দল হিসেবে আচরণ করুক না কেন , ভেতরে ভেতরে তারা যে এককাট্টা হয়েই লড়ছে এবং সেটা মোদীজির জন্যই সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিলেন ।এদের দুজনেরই একই উদেশ্য কি ভাবে মোদিকে আবার ফিরিয়ে আনা যায় ।লোকসভা ভোটটা কাটিয়ে এদের পাখির চোখ  আগামী বিধান সভার ভোট যাতে মমতাকে বেকায়দায় ফেলা যায়  ।তবে কংগ্রেসের মনে রাখা উচিত বিগত ৩৪ বছরের বাম জমানায় তাদের কত কর্মীকে হত্যা করেছে এই সিপিএম ।সুশান্ত ঘোষ কত কংগ্রেস কর্মীর দেহ সমুদ্রে ভাসিয়ে দিয়েছেন , তার কোনো ইয়ত্তা নেই । তপন -শুকুর কি তান্ডপ চালিয়েছিল কংগ্রেস সব  ভুলে গেছে ।রাহুলের বয়স অল্প , সবটুকু না জানলে একবার বর্ষীয়ান কোনো কংগ্রেস কর্মীর কাছে জেনে নিতে পারেন ।প্রসঙ্গত এদিন মমতা বলেন ।



‘এ রাজ্যে বাম-বিজেপি-কংগ্রেস এক হয়ে লড়ছে মোদীকে ফের প্রধানমন্ত্রী বানাতে। কিন্তু আমরা মানুষকে নিয়ে এক হয়েছি মোদী সরকারকে হঠাতে।’ সোমবার ঠিক এই সুরেই একইসঙ্গে রাম-বাম-কংগ্রেসকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বর্ধমান পূর্বে ভোটপ্রচারে এসে রাজ্যে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মসূচি তুলে ধরার পাশাপাশি কেন্দ্র তথা বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধীতা ও বিজেপির কাছে বাম-কংগ্রেসের বিকিয়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা করলেন মমতা।
গতকাল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, দেওয়ানদিঘি এবং রায়না। পর পর তিনটি নির্বাচনী জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিস্তীর্ণ এলাকা মূলত গ্রামীন এবং কৃষিপ্রধান এলাকা। তাই কৃষক স্বার্থে গত ৮ বছরে রাজ্য সরকার কী করেছে, প্রতিটি সভাতেই তার খতিয়ান দেন মমতা। মুখ খোলেন বিগত ৫ বছর ধরে মোদী সরকারের নানা জনবিরোধী পদক্ষেপ নিয়েও। তিনি স্পষ্ট বলে দেন, ‘বিজেপির ধর্ম মানুষ খুনের ধর্ম। তা প্রচার করেই দেশব্যাপী অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে ওরা। আমি বিজেপির এই ধর্ম মানি না।’শুধু তাই নয়, এক সময়ের লাল দুর্গে দাঁড়িয়ে তিন তিনটি সভায় বামেদের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেও বুঝিয়ে দেন, প্রতিপক্ষ হিসেবে কাউকেই ছোট করে দেখতে রাজি নন মমতা। তিন বিরোধী দলকে এক সারিতে বসিয়ে তাঁর তোপ, এ রাজ্যে বাম-কংগ্রেস-বিজেপি এক হয়ে লড়াই করছে মোদীকে ফের প্রধানমন্ত্রী বানাতে। আর তিনি লড়ছেন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে। মোদীকে গদিচ্যুত করতে।
ফসল বিমা, কৃষক বন্ধু, ৬০ বছর বয়সের আগে কৃষকের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ-সহ রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির কথা তুলে ধরে রায়নার সভায় মমতা বলেন, ‘প্রতিবছরই ঝড়বৃষ্টিতে এই এলাকায় চাষের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় ফসল ডুবে যাওয়া, কিংবা খরায় পুড়ে যাওয়া, সবেতেই আমরা ক্ষতিপূরণ দিই। আগেও দিয়েছি, ভবিষ্যতেই সেই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।’ এছাড়া দামোদর অববাহিকায় সেচের ব্যবস্থা, চাষের উন্নতি এবং ক্ষয়ক্ষতি হলে সাহায্য করতে একটি নতুন প্রকল্পের কাজ চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতিটি নির্বাচনী জনসভাতেই বিজেপির সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন মমতা। গতকালও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনও একটি সম্প্রদায়কে তোষণ এবং তা নিয়ে মাতামাতি নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতি মেনে সব ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করাই তাঁর এবং তাঁর সরকারের নীতি। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় দুর্গোৎসব, ইদ, বড়দিন— সব ধর্মের অনুষ্ঠান সমান ভাবে এবং সাড়ম্বড়ে পালিত হয়। কিন্তু সেই সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। বাংলার মানুষ এটা মেনে নেবেন না— দাবি মমতার।  

No comments:

Post a Comment

loading...