Wednesday, 1 May 2019

অর্জুনের অবর্তমানে , দীনেশই এখন মমতার "শাহেনশা "

ওয়েব ডেস্ক ১লা মে ২০১৯: অর্জুন সিংহ বিজেপিতে যোগদানের ফলে তৃণমূলের এক চুলও যে ক্ষতি হয়নি সেটা তৃণমূল কর্মীদের কথাতেই স্পষ্ট । তারা এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে বলেই ফেললেন , "গাদ্দাররা চলে যাওয়াতে আখেরে লাভ হয়েছে তৃণমূলেরই । বেনোজল যত বেরিয়ে যায় ততই মঙ্গোল ।  প্রসঙ্গত গঙ্গা নদীর দু’‌ধারে রয়েছে একের পর এক শিল্পাঞ্চল। এদের মধ্যে অন্যতম ব্যারাকপুর।সেই বারাকপুরে অন্তর্গত ৭টি বিধানসভা এবং ৮টি পুরসভা। সব ক’‌টিই তৃণমূলের দখলে। বিধানসভাগুলি হল আমডাঙা, বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, ব্যারাকপুর। আর পুরসভাগুলি হল ব্যারাকপুর, টিটাগর, উত্তর ব্যারাকপুর, গাড়ুলিয়া, হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি এবং ভাটপাড়া।
 এই লোকসভা কেন্দ্রে ভোট হবে ৬ মে। ২০১৪ সালে তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী প্রায় ২ লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন।গত মাস দু’‌য়েকে সেখানকার রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা বদলেছে। অর্জুন সিং টিকিট না পেয়ে তৃণমূল ছেড়ে নাম লিখিয়েছেন বিজেপি–তে। তবে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এই দলবদলের ঘটনাকে কোনও গুরুত্বই দিচ্ছে না। ভাটপাড়া পুরসভায় আস্থা ভোটে অর্জুনের হারে যেন সে কথারই সমর্থন। ব্যারাকপুরের জাফরপুরে তৃণমূল অফিসে বসে শনিবার ব্যারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান উত্তম দাস ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন কেন তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী এগিয়ে। তাঁর দাবি, সেখানে কোনও বন্ধ কলকারখানা নেই। রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন মানুষ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বড়সড় অংশ তাঁদের বেছে নেবেন। ২০০৯ সাল থেকে এই এলাকায় ভোট বাড়ছে তৃণমূলের। এবারও সেই প্রবণতা বজায় থাকবে বলে আশা। তাঁর অভিযোগ, এখন তৃণমূল ছেড়ে যিনি বিজেপি–‌তে গেছেন, আগে তাঁর জন্যই অনেকে বিজেপি করতে পারতেন না। ফলে, এটা সুবিধে হবে বলে মত তাঁর। ব্যারাকপুর স্টেশন থেকে ঘোষপাড়া রোড হয়ে ২৪ নম্বর রেলগেট পেরিয়ে ভাটপাড়া পুরসভার ভারপ্রাপ্ত পুরপ্রধান সোমনাথ তালুকদারের বাড়ি। ৮ এপ্রিল ভাটপাড়া পুরসভার আস্থা ভোটে অর্জুন সিং হেরেছেন। দায়িত্ব পেয়েছেন সোমনাথবাবু। বিকেলে ভোট প্রচারে বেরোনোর আগে পাওয়া গেল তাঁকে। তাঁর মতে, অর্জুন সিংয়ে চলে যাওয়া কোনও ব্যাপারই নয়। এতে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না, বরং লাভ হবে। তিনি বলেন, ‘‌মমতা ব্যানার্জি অর্জুনবাবুকে চারবার বিধায়ক, দু’‌বার পুরপ্রধান করেছিলেন। এর পরেও তিনি চলে গেলেন। মানুষ সব দেখছেন এবং বুঝতেও পারছেন। এখন তো তিনি সঙ্গীহীন হয়ে পড়েছেন। ভাটপাড়াকে তো তাঁর দুর্গ বলা হত। সেই দুর্গ রক্ষা করতে পারলেন কই! আর কী কী হারাতে হয়, তা কদিন পরে আরও স্পষ্ট হবে। বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকলে কোনও দাম নেই।’যারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি বা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়েছে তারা নিজেদের ভুলটা ২৩শে মে'র পরই ভালো ভাবে বুঝতে পারবে বলে মনে করেন অনেক তৃণমূল সমর্থক ।

No comments:

Post a Comment

loading...