Wednesday, 1 May 2019

এক জন চলে গেলে ১ লক্ষ জনকে তৈরি করার মানসিকতা আছে , এই বলে মোদির দাবিকে মাঠের বাইরে ফেললেন মমতা

ওয়েব ডেস্ক ১লা মে ২০১৯: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনো হুমকিকেই তিনি  যে গ্রাহ্য করেননা সেটা ভালো ভাবেই বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ছাত্রী জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করার সময় তিনি যেরকম অকুতোভয় ছিলেন আজ শাট ঊর্ধ্য বয়সেও একই রকম আছেন , একই রকম উদ্যম আছে , আজও তিনি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননা ।আর দেননা বলেই মোদির দাবি কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন ।প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪০ জন বিধায়ক বিজেপির সাথে যোগাযোগ রাখছে ।তবে হর্স ট্রেডিং বা ঘোড়া কেনাবেচার গল্প (‌‌‌!‌) ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন নয়। মোদির বিধায়ক ভাঙানো প্রসঙ্গে তারই কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুধু জবাব নয়, আরও এক ধাপ সুর চড়িয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মোদিকে।
মঙ্গলবার মমতা বলেছেন, ‘‌আগে একটা নিয়ে দেখান। তার পর ৪০!‌ আপনার দলের মতো আমার দল চোর না। আপনার দল টাকার বিনিময়ে চলে। আমার নয়। বাংলায় এমএলএ পরে কিনতে আসবেন। লাভ হবে না। সব এমএলএ কিনে নিলেও বাংলার সরকার ভাঙবে না। আগে দিল্লি বাঁচান।’‌ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ‘‌আগে দিল্লি সামলা, পরে বাংলা’ শোনার পর এদিন করতালিতে ফেটে পড়ে ভদ্রেশ্বরের সুভাষ ময়দান। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ রত্না দে নাগের সমর্থনে এই নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলের দাবিও তোলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‌সোমবার শ্রীরামপুরের সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ৪০ জন বিধায়ক নাকি ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। নির্লজ্জ প্রধানমন্ত্রী। যাকে নেওয়ার নিয়ে নিক। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। একজন গেলে আমি ১ লক্ষ জনকে তৈরি করি। তৈরি করে নেওয়ার মানসিকতা আমার আছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোড়া কেনাবেচা করছেন। এই কারণেই ওঁর প্রার্থিপদ বাতিল হওয়া উচিত।’‌ এদিন ভদ্রেশ্বর, আমডাঙা ও সালকিয়ায় পরপর তিনটি জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে মোদির বিধায়ক ভাঙানোর ওই মন্তব্যে। একইসঙ্গে মুকুল রায়ের নাম না নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌যে গদ্দারের কাঁধে হাত ঝুলিয়ে বলছিলেন, সে তো বড় হাওলার মালিক। হাওলা–কাণ্ডে জড়িত। মামলাও হয়েছে। কার গলায় হাত রেখে মোদি চিটফান্ড নিয়ে কথা বলছেন?‌ সারদা, নারদ, হাওলার দালাল এখন মোদির ১ নম্বর লোক হয়েছে।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌মোদি বুঝতে পেরেছেন উত্তরপ্রদেশ, বিহারে ভোট পাবেন না। বাংলায় লাড্ডু পাবেন। এই প্রধানমন্ত্রীর আমলে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। রান্নার গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেলের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।’‌বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা সাধনপুর উলুডাঙা তুলসীরাম হাই স্কুল মাঠে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীর সমর্থনে জনসভা করেন মমতা। সভায় মোদি ও অমিত শাহকে দুর্যোধন ও দুঃশাসন বলে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‌অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। কিন্তু মোদির মতো এত বড় ফ্যাসিস্ট দেশে এর আগে জন্মাননি। তিনি মানুষকে কীভাবে সম্বোধন করতে হয় তা জানেন না। টিভি, রেডিও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল করে ইতিহাস বদল করতে চাইছেন। সব রাজ্যে রসগোল্লা পাবেন, তাই এ রাজ্যে আসছেন দুটো আসন পাওয়ার আশায়। যে দুটো ছিল, তাতে এবার গোল্লা পাবেন।’‌
মমতার অভিযোগ, ব্যারাকপুরে বিজেপি ও সিপিএম একসঙ্গে ভোট করছে। বহরমপুর ও মালদায় একসঙ্গে ভোট করেছে কংগ্রেস–বিজেপি–সিপিএম।‌ সভায় প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী ছাড়াও ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, ভাটপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র–‌সহ নারায়ণ গোস্বামী, পার্থ ভৌমিক প্রমুখ।পরে সালকিয়ার জটাধারী পার্কের মাঠে তিনি বলেন ‘‌কেন্দ্রে সরকার আমরাই গড়ব। বিভিন্ন রাজ্যে সবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব আছে।’‌ ভিড়ে ঠাসা ওই জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এবার বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যেই শোচনীয় ফল করবে। গোবলয়–সহ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা— সমস্ত রাজ্যে ফল খারাপ হবে বুঝতে পেরেই মোদি–শাহরা এ রাজ্যে এসে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে গোলমাল বাধাতে চাইছে।’‌এবার কার লোকসভা নির্বাচনে যতই মোদীজিকে আত্মবিস্বাসী দেখাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এক চুলও জমি ছাড়ছেনা সেটা পরিষ্কার ।

No comments:

Post a Comment

loading...