Monday, 3 June 2019

চাপের মুখে কেন্দ্র পিছু হাঁটতে বাধ্য হল কেন্দ্র , জোর করে ভাষা চাপানো হবেনা ।

ওয়েব ডেস্ক ৩রা  জুন ২০১৯: কোন কারণে কেন্দ্রীয় সরকার নমনীয় মনোভাব দেখাল সেটা বলা মুশকিল, তবে দ্বিতীয় বার লোকসভা ভোটে জেতার পর কেন্দ্র যে নিজেদের জেদ এই মুহূর্তে দেখাচ্ছে না সেটাই চিত্রটাই উঠে আসছে ।প্রসঙ্গত জাতীয় ভাষা হলেও তা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। নতুন মন্ত্রিসভার দুই সদস্য তা সাফ জানিয়ে দিলেন। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্য। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির বিরোধিতা ক্রমশ বড় আকার নিতে শুরু করেছিল। শিক্ষানীতিতে হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে রণে ভঙ্গ দিল সরকার। জানিয়ে দেওয়া হল কোনও রাজ্যের উপরেই হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকারের নেই। তামিলনাড়ুর বাসিন্দা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার দুই সদস্য অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর টুইট করেন। দু’‌জনেই বলেন শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। শিক্ষা নীতি কার্যকর করার আগে বিচার বিবেচনা করবে সরকার। উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, ‘শিক্ষা নীতি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে চর্চা এবং বিবেচনা করুন।’‌
এদিকে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী এবং কেরলের কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। সোমবার শশী থারুর বলেন, ‘দক্ষিণ ভারতের সবাই হিন্দি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু উত্তর ভারতের কেউ তামিল বা মালায়ালমকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে পড়ে না।’‌
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে হিন্দির বিরোধিতা কোনও নতুন ঘটনা নয়। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত তামিলনাড়ুতে হিন্দির বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন হয়েছিল। একই ঘটনা ঘটেছিল ১৯৬৫ সালে। তখন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন যেগুলি হিন্দিভাষী রাজ্য নয় সেখানে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির সৌজন্যে শুরু হল নয়া বিতর্ক। 

No comments:

Post a Comment

loading...