Wednesday, 24 July 2019

যাদের আই এস, জঙ্গি তকমা লাগিয়ে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ , তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমান নেই এনআইএর কাছে

ওয়েব ডেস্ক ২৪ ই জুলাই ২০১৯: কাউকে শাস্তি দিতে গেলে আগে তথ্য প্রমাণ পর্যাপ্ত মানে জোগাড় করতে হয় , শুধু মাত্র সন্দেহের বশে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায়না । হয়তো এই কথাটি এনআইএ ভুলে গিয়েছিলো । আর ভুলে গিয়েছিলো বলেই তাদের মুখ পুড়লো যেটা কখনোই আশা করা যায়না । প্রসঙ্গত বেশ কিছুদিন আগে দিল্লি থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ এবং দাবি করেছিল তারা সবাই আই এস জঙ্গি ।কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুহাম্মদ ইরশাদ, এবং রাইস আহমেদ, জাইদ মালিক এবং মুহাম্মদ আজমের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস মামলা প্রত্যাহার করতে চাইছে তারা। ভারতের প্রখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা যারা সন্থাস ও বিস্ফোরণ নিয়ে তদন্ত করে চলেছে তারা অবশেষে জানাল এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্য প্রমান নেই তাদের কাছে। উত্তরপ্রদেশের এমরোহা এবং এবং দিল্লি থেকে এই চারজন ছাড়াও আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন দিল্লির এক মসজিদের ইমাম ও মুফতি। এনআইএ-র অভিযোগ ছিল–(১) ধৃতরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস বা আইসিস-এর ভারত মডিউল বা শাখার সঙ্গে যুক্ত। তারা ব্যাপক পরিমানে বারুদ, গান পাউডার সংগ্রহ করেছে। তারা আত্মঘাতী জঙ্গি হিসাবে ভারতে কোথাও না কোথাও বিস্ফোরণ ঘটাবে। রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা করবে।
(২) ধৃতরা পাইপ বোমা বানাবে তাদের কাছে পাইপ ও বোমা পাওয়া গেছে।
(৩) তাদের মধ্যে একজন রকেট লঞ্চার বানাতে সিদ্ধহস্ত। রকেট লঞ্চার বানানোর সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত ও হয়েছে।

(৪) তারা যুবকদের অনুপ্রাণিত করছে আত্মঘাতি জঙ্গি হিসাবে নাম লেখাতে।
অভিযুক্তদের আইনজীবী এম এস খান জানিয়েছেন, এনআইএ আদালত স্বীকার করেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ নেই তাদের কাছে। সেই জন্য মামলা প্রত্যাহার করা হবে।তবে তদন্ত জারি থাকবে।
চারজন অভিযুক্ত এ মাসেই ছাড়া পেতে চলেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ইরশাদ আমরোহার বাসিন্দা। পেশায় অটো রিকশাচালক। রইস আহমদ আমরোহার বাসিন্দা। একটা ওয়েল্ডিং কারখানার শ্রমিক। জাইদ মালিক পূর্ব দিল্লির জাফরবাদে থাকে। আহমদ দিল্লির সিলমপুরে একটি মেডিক্যাল স্টোর চালায়। ইরশাদের বিরুদ্ধে এন আই-এর অভিযোগ ছিল সে মূল অভিযুক্ত মুহাম্মদ সুহাইলকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছে। বোমা তৈরির মাল মসলা লুকিয়ে ফেলেছে ইরশাদ। আহমদ আর সাঈদ এই দু’জন কমপক্ষে ২৫ কোটি গান পাউডার সংগ্রহ করেছে বোমা বানানোর জন্য।সন্ত্রাসের কাজ ঠিকভাবে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য তারা লকেট লঞ্চারও তৈরি করেছিল।কিন্তু এখন এনআইএ আদালতে জানাচ্ছে তাদের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রমাণ নেই । আর এই দিকে ৬ মাস ধরে অভিযুক্তরা জেলে খেটে বসে আছে । তার মানে কি ভোটের বাজারে কোনো এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থেই এরকম একটা মিথ্যে মামলা সাজিয়ে ছিল এনআইএ ? প্রশ্ন উঠছে সর্বত্রই ।  

No comments:

Post a comment

loading...