Tuesday, 15 October 2019

অভিজিৎ ব্যানার্জী মোদী ঘরানার লোক নন তার জন্যই কি প্রধানমন্ত্রী ৪ ঘন্টার পর অভিনন্দন জানালেন ?

ওয়েব ডেস্ক ১৫ই অক্টোবর ২০১৯: অভিজিৎ ব্যানার্জি একজন স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ । অর্থনীতির ক্ষেত্রে যেটা  সঠিক তিনি সেই বার্তাই দেবেন , এটাই তো স্বাভাবিক ? আর সেটাই তিনি দিয়েছেন অতীতে , এবার বিজেপি সরকারের মনমতো কথা না বলার জন্য অমর্ত্য সেনের মতো তাকেও যদি ব্রাত্য করে রাখা হয় , এর প্রভাব দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে যথেষ্টই পড়বে বলে মনে করেন বিদ্বজনেদের অনেকেই । প্রথমত অভিজিৎ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এই বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি মোদির হিন্দুত্ববাদের বিরোধী। অতীতে মোদি সরকারের অনেক নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি। বিরোধী কংগ্রেস দলের মূল নীতিগুলোর সঙ্গে একমত তিনি। দারিদ্র্য নিয়ে কাজ, দারিদ্র্য নিয়ে গবেষণা। দারিদ্র্যের সঙ্গে কীভাবে কাজ করছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ, অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় তা তুলে ধরেছেন নিজের লেখায় বা গবেষণাপত্রে।২০১৬ সালের নভেম্বরে পুরো ভারত থেকে ৫০০ ও ১ হাজার রুপির নোট উঠিয়ে নেয় মোদি সরকার। সরকারের ওই পদক্ষেপের প্রকাশ্যে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন অভিজিৎ । ‘মুদ্রা রোহিতকরণ ব্যর্থ হবে’—একেবারে শুরুতেই বলে দিয়েছিলেন প্রবাসী এই ভারতীয় অর্থনীতিবিদ। ভারতের অর্থনীতি এতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে, এমন পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। মুদ্রা রোহিতকরণের ৫০ দিন পর এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বলেন, ‘আমি এর পেছনে কোন যুক্তি কাজ করছে, তা একেবারেই বুঝতে পারছি না। কেন ২ হাজার রুপির নোট আনা হচ্ছে? ক্ষতির পরিমাপটা আমরা এখনো ঠিকমতো করতে পারিনি, হয়তো তা আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। কালোটাকা ঠেকিয়ে, দুর্নীতি কমিয়ে ভারতকে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে মুদ্রা রোহিতকরণ করেছিল মোদি সকার। তবে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন, অভিজিতসহ অনেক অর্থনীতিবিদই এর বিরোধিতা করেন।
অভিজিতের মোদিবিরোধী অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—দেশের জিডিপির পরিসংখ্যানের তথ্য কারসাজি নিয়ে প্রশ্ন তোলা। ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন যে পদ্ধতিতে নির্ণয় করা হয়, তার সমালোচনা করেছিলেন অভিজিৎ। অভিজিৎ, জিএন ড্রেজ, ডাফলো, জয়তি ঘোষ, রীতিকা খেরাসহ ১০৮ অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী জিডিপি গণনা ও প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নির্ণয়ের বেসলাইন বছর নিয়ে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন।

এমনকি নোবেল জয়ের পর এমআইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো রকম রাখঢাক না করেই বলেন, ‘আমার মতে (ভারতের) অর্থনীতির হাল এখন খুব খারাপ। জাতীয় নমুনা সমীক্ষার সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, শহর ও গ্রামাঞ্চলে গড় ভোগের হার কমেছে। অনেক বছর পরে এমন হলো, যা স্পষ্টই একটা সতর্কতা সংকেত।’

সরকারি পরিসংখ্যানের বিষয়ে অভিজিৎ বলেন, ‘পরিসংখ্যান নিয়ে টানাপোড়েন ভারতে নতুন নয়। সরকার মনে করে, যেসব পরিসংখ্যান তার জন্য সুবিধাজনক নয়, তা ভুল। তা সত্ত্বেও আমার মনে হয়, কোথাও যে একটা ভুল হচ্ছে সরকারও সেটা বুঝতে পারছে। অর্থনীতির গতি খুব দ্রুত শ্লথ হচ্ছে।’ তাঁর মতে, চাহিদার অভাবই এখন অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা।এর জন্যই কি মোদির বিরাগভাজন তিনি ?

No comments:

Post a Comment

loading...