Thursday, 21 November 2019

২১ জুলাইএর ভয়াবহ স্মৃতি আর একটু হলেই ফিরে আসছিলো কেরলে, উত্তাল কেরল বিধানসভা

ওয়েব ডেস্ক ২১ শে নভেম্বর ২০১৯: রক্তে মাখা ২১শে জুলাই আজও সবার মনে গাঁথা । সেই সময়কার পুলিশ কমিশনার তুষার তালুকদারের নেতৃত্বে ১৩ কংগ্রেস কর্মীকে গুলি করে মেরে ফেলা হয় । তখন ছিল জ্যোতি বসুর নেতৃত্বধীন বাম সরকার । নিজের ব্যক্তিত্বকে কাজে লাগিয়ে জ্যোতি বসু সেদিন তুষার তালুকদারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ব্যাপারটাকে লঘু করার জন্য । কিন্তু সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গর্জে ওঠা "বাম সরকার হটাও" তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনে দিয়েছেন ২০১১ তে । আবার সেই ২১ জুলাই এর স্মৃতি যেন কেরলে ফিরে আসছিল গত মঙ্গলবার ।প্রসঙ্গত ভারতের কেরালায় কংগ্রেস বিধায়ক সফি পরম্বিলসহ কেরল স্টুডেন্ট ইউনিয়নের (কেএসইউ) ছাত্রদের রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পিটিয়েছে পুলিশ।মঙ্গলবারের এ মারের দৃশ্য সংবাদমাধ্যমসহ যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বুধবার উত্তাল হয়ে উঠে কেরালার বিধানসভা।
বুধবার বহু বিরোধী বিধায়কই মঙ্গলবারের ঘটনার প্রতিবাদে রক্তের দাগ লাগা জামা পরে বিধানসভায় এসেছিলেন।কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) অধিবেশনের শুরু থেকেই সোচ্চার হয় পুলিশ-কেএসইউ সংঘর্ষ নিয়ে।অনেকে বিক্ষোভ দেখান। কংগ্রেস বিধায়ক ভিটি বলরাম দাবি তুলেন, সভার কর্মকাণ্ড স্থগিত রেখে ‘পুলিশি নিগ্রহ’ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।তুমুল হট্টোগোল করতে করতে পাঁচ বিধায়ক স্পিকারের চেয়ারের কাছাকাছি চলে এলে, স্পিকার ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে যান। ওয়ালার ধর্ষণকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে মঙ্গলবার রাস্তায় নামে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন কেএসইউ।মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন কংগ্রেস নেতা তথা বিধায়ক সফি পরম্বিল। সেখানেই তুমুল সংঘর্ষ হয় পুলিশের সঙ্গে তাদের।কেএসইউ-এর অভিযোগ, ২০ জনের বেশি ছাত্রনেতা আহত হন পুলিশি লাঠিচার্জে। সবচেয়ে বেশি আহত হন সফি। সংবাদ সংস্থার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তাকে বেশ কয়েকজন পুলিশ ঘিরে ধরে বেধড়ক মারছে।২০১৭ সালে পলক্কর জেলার ওয়ালার অঞ্চলে দুটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে এক শিশু আত্মহত্যা করে। আর একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ময়নাতদন্তের পর দেখা যায় দু’টি শিশুকেই ধর্ষণ করা হয়েছিল। সোমবার কেরলের এলডিএফ (বাম গণতান্ত্রিক জোট) সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারই বিজয়ন ঘোষণা করেন- এই তদন্ত আর চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।শিশুদুটির পরিবার সিবিআই তদন্ত চাইলে যেতে পারে। তার পরেই শুরু হয় কংগ্রেসের বিক্ষোভ। বিক্ষোভ থামাতে জলকামান চালায় পুলিশ। চলে লাঠিচার্জও।নতুন প্রজন্ম না জানলেও পুরোনো প্রজন্ম জানে , এই সিপিএম মুখে মিষ্টি কথা বললেও তারা যে ভোটে জেতার জন্য কতটা হিংস্র হতে পারে , যারা উপলব্ধি করেছে তারা বিভীষিকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ।

No comments:

Post a Comment

loading...