Sunday, 24 November 2019

নাশকতার উদ্দেশ্যে ৭পাকিস্তানী কমান্ডো ভারতে।প্রতিরক্ষা খাতে এতো টাকা পয়সা খরচ করার পরেও ?

ওয়েব ডেস্ক ২৪শে নভেম্বর ২০১৯: ভারতে ঢুকে পড়েছে প্রশিক্ষিত ৭ পাকিস্তানী কমান্ডো। নেপাল সীমান্ত পেরিয়েই তারা ভারতে ঢুকেছে। এমনই তথ্য পেয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এই পাক জঙ্গিরা দু’টি দলে ভাগ হয়ে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর এবং অযোধ্যায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। অযোধ্যার অস্থির পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা সেখানে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জঙ্গিরা উপত্যকায় প্রবেশ করতে স্থানীয় জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। গোটা ঘটনার গোয়েন্দা রিপোর্ট জানার পরই ৭ জঙ্গির খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় চিরুনী তল্লাশি করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, নেপাল সীমান্ত হয়ে ভারতে জঙ্গি ঢোকাচ্ছে পাকিস্তান। যে সাত কমান্ডো ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে তাদের পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা গিয়েছে। এরা হল মহম্মদ ইয়াকুব, আবু হামজা, মহম্মদ শাহবাজ, নিসার আহমেদ এবং মহম্মদ কাউমি চৌধুরী। বাকি দু’জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে অ্যালার্ট করা হয়েছে।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গুজরাটের কচ্ছের রণ এলাকায় জলপথে পাকিস্তানের প্রশিক্ষিত কমান্ডোরা ঢুকে পড়তে পারে। তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা চালাতে পারে বা জঙ্গি হামলাও চালাতে পারে। এমন তথ্যই পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। এরপরই রাজ্যের সব বন্দরেই কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঠিক কোন জায়গা দিয়ে জঙ্গিরা ঢুকতে পারে, সেই নির্দিষ্ট তথ্যও হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। আদানি পোর্ট ও স্পেশাল ইকোনমিক জোন (সেজ)-এর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপকূলরক্ষী বাহিনীর কার্যালয় থেকে তাদের জানানো হয়েছে, কচ্ছ উপসাগরের হারামি নালা বা স্যর প্রিক রো দিয়ে জঙ্গিরা ভারতীয় ভূখন্ডে ঢুকতে পারে। এই জঙ্গিরা পানির নীচে হামলা চালানোতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
সতর্কতা জারি করে উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য পাকিস্তানি জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কোনও রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে বাহিনীকে।
কী ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, তারও একটি গাইডলাইন দিয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনী। এতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রস্তুত থাকতে এবং ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি রাখতে হবে। স্পর্শকাতর এলাকায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তল্লাশি চালাতে হবে সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা নৌকা দেখলেই। উপকূল বরাবর স্থলভাগের সমস্ত অফিস বা বাড়িতে পার্ক করা গাড়িতেও তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলছে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি।
সূত্রের খবর, এই ৭ পাক জঙ্গির কাছেই আছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। কোথায় যে তারা নাশকতা চালাবে সে বিষয়ে কোনও ধারণাই নেই গোয়েন্দাদের। ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই কাশ্মীরে পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে। এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

loading...