Wednesday, 11 December 2019

নাগরিক সংশোধনী বিল নিয়ে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র আপত্তি জানাল , জারি হতে পারে নিষেধাজ্ঞাও

ওয়েব ডেস্ক ১১ ই ডিসেম্বর ২০১৯: রাষ্ট্র সংঘ নাগরিক সংশোধনী বিল নিয়ে আপত্তি না জানালেও মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দিল , যা নিয়ে সাউথ ব্লক বেজায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে । সোমবার (১০ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে বিল সংসদে পেশ করেছেন, তাতে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়ায় ইউএসসিআইআরএফ উদ্বিগ্ন। বিলটি আইনে পরিণত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সে দেশের শীর্ষ নেতাদের ওপর মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত।
এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের বিড়ম্বনা বাড়িয়েছে।  ইউএসসিআইআরএফের বিবৃতি এবং দাবির খবর জানামাত্রই  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয় হয়ে ওঠে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানায়, মার্কিন সংগঠনের ওই অভিযোগ উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক। বলা হয়, ওই সংগঠনের অতীত এমনই। তাই ভারত খুব একটা আশ্চর্যান্বিত নয়। ওরা সংস্কার ও পক্ষপাতকে গুরুত্ব দিয়ে সেই বিষয়ের ওপর নিজেদের রায় জানাচ্ছে, যে সম্পর্কে তাদের খুব ভালো একটা ধারণাই নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই বিবৃতি অবাঞ্ছিত ও অসত্য। ধর্মের ভিত্তিতে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা নাগরিকত্ব বিল অথবা জাতীয় নাগরিক পঞ্জিতে বলা হয়নি।

আসামে নাগরিক পঞ্জি তৈরি নিয়েও সমালোচনা করেছিল ইউএসসিআইআরএফ। এবার নাগরিকত্ব বিল নিয়েও তারা সরব। এ দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে কি না, দেখতে এ সংগঠনের কর্তারা আসতে চাইলে এর আগে ভারত তাঁদের ভিসা দেয়নি। অন্য দেশের মতো ভারতও এ সংগঠনের সুপারিশ মানতে বাধ্য নয়। তবে এবার তাদের কিছুটা গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, মার্কিন সরকার তাদের প্রতিবেদনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিষধাজ্ঞা জারির আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়।

নাগরিকত্ব বিলের সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা আসছিল দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে। সেই বাধা দূর করতে ওই বিলে ‘ইনার লাইন পারমিট’ থাকা রাজ্যগুলোকে পৃথক করা হয়। সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় থাকা বিভিন্ন এলাকাও ওই বিলের আওতায় আসবে না বলা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার থেকেই আসামসহ উত্তর–পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। আসামের মালিগাঁওয়ে সরকারি বাসে ভাঙচুর করা হয়। গুয়াহাটিতে বিধানসভা ভবন ও সচিবালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের খণ্ডযুদ্ধ বাধে। সাবধানতামূলক ব্যবস্থা নিতে গুয়াহাটিতে সরকারি অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ স্কুল–কলেজ, রেল চলাচলও। আন্দোলনকারীদের দাবি, এভাবে নাগরিকত্ব দিলে তাঁদের জাতিসত্তা বিপন্ন হয়ে যাবে। প্রতিবাদে আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামে মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১১ ঘণ্টার বন্‌ধ্‌ পালিত হয়। একজোট হয়ে বন্‌ধের ডাক দিয়েছে নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। যদিও মণিপুর ও নাগাল্যান্ডকে এই বন্‌ধের আওতার বাইরে রাখা হয়।

No comments:

Post a Comment

loading...