Friday, 24 January 2020

"এতো পেহলি ঝাকি হে , মথুরা কাশি বাকি হে " মনে করাচ্ছে বিজেপি

ওয়েব ডেস্ক ২৪ শে  জানুয়ারী  ২০২০ : বারাণসীর ঐতিহাসিক জ্ঞানভাপি মসজিদ নিয়ে আবার আদালতে আবেদন জমা পড়েছে। জ্ঞানভাপি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা আনজুমান ইনতেজামিয়া মসজিদ কমিটি মঙ্গলবার স্থানীয় আদালতে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। এই আবেদনপত্রে জ্ঞানভাপি মসজিদের সম্পূর্ণ চত্বরে আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ যে সার্ভে করতে চেয়েছিল, তাতে আপত্তি জানানো হয়েছে। বারাণসীর আদালত এই আবেদন গ্রহণ করেছে এবং ৩ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছে।
এ সম্পর্কে আইনজীবী বিজয়শঙ্কর রাস্তোগি বলেছেন, ১৯৯১ সালে পণ্ডিত সোমনাথ ব্যাস এবং অন্যরা আদালতে প্রথমবারের মতো একটি পিটিশন দাখিল করে। আর এটি দাখিল করা হয় স্বয়ম্ভূ জ্যোর্তিলিঙ্গ ভগবান বিশ্বেশরের পক্ষ থেকে। এতে দাবি করা হয় যে, জ্ঞানভাপি মসজিদে তাদের পুজো করার অনুমতি দিতে হবে। তাদের দাবি ছিল, মুসলিমরা মন্দির চত্বরেরই একটি অংশ দখল করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেছে।
রাস্তোগি জানান, ১৯৯৮ সালে অতিরিক্ত জেলাজজ নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছিল, জ্ঞানভাপি চত্বর থেকে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে, যাতে ওই মসজিদ চত্বরের ধর্মীয় অবস্থান এবং চরিত্র নির্ণয় করা যায়। এলাহাবাদ হাইকোর্ট উপরোক্ত নির্দেশের উপর স্থাগিতাদেশ জারি করে। ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর আইনজীবী রাস্তোগি আদালতে আর একটি আবেদনপত্র দাখিল করে অনুরোধ জানান, পুরাতত্ত্ব বিভাগ যেন সমগ্র জ্ঞানভাপি মসজিদ চত্বরের একটি সার্ভে করে। আইনজীবী রাস্তোগি দাবি করেন, তিনি দেবতা স্বয়ম্ভূ জ্যোর্তিলিঙ্গ ভগবান বিশ্বেশ্বরের পরম মিত্র। পরম মিত্র হিসেবে তিনি এই পিটিশন দাখিল করছেন। রাস্তোগির মতে, আদালত তার আবেদনপত্র গ্রহণ করে এবং ২১ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করে। রাস্তোগি বলেন, মুসলিম আনজুমান কমিটি আপত্তি জানিয়ে পুরাতত্ত্ব বিভাগের সার্ভের বিরুদ্ধে একটি পিটিশন দাখিল করেছে। আনজুমান কমিটির যৌথ সেক্রেটারি ইয়াসিন বলেছেন, এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, তা এখনও কার্যকরী রয়েছে। তাই নিম্ন আদালত এ সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকারী নয়।
উল্লেখ্য, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে এই মসজিদটি তৈরি করেছিলেন। এর পাশেই রয়েছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির। উগ্র হিন্দুরা দাবি করে আসছে, বাবরি মসজিদের মতো বারাণসীর জ্ঞানভাপি মসজিদ ও মথুরায় অবস্থিত আর একটি মসজিদও মন্দির নির্মাণের জন্য তাঁদের হাতে তুলে দিতে হবে।

No comments:

Post a comment

loading...