Tuesday, 31 March 2020

তাবলীগ জামায়াতে যোগ দেওয়াই কাল হল , কারণে আক্রান্ত হয়ে মৃত ৭

ওয়েব ডেস্ক ৩১ শে  মার্চ ২০২০ : দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় একটি মসজিদে তবলিগের জমায়েতের পর ২৪ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে সাতে পৌঁছেছে। ১৩ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত দিল্লিতে দেশটির তাবলিগ-ই-জামাতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় মারকাজ নিজামুদ্দিনে প্রায় দুই হাজার মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করেন। এরপর এ ঘটনা ঘটে।
সূত্রের খবর অনুসারে , করোনার উপসর্গ রয়েছে বলে আশঙ্কায় গতকাল সোমবার তিন শতাধিক মানুষকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ সকালে মারকাজ নিজামুদ্দিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে থাকা ৭০০ জনকে বাসে করে নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন  অনলাইনকে বলেন, ‘ওই জায়গায় থাকা ২৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আয়োজকেরা গুরুতর অপরাধ করেছেন। লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে আমরা কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জমায়েতের এই এলাকাকে করোনাভাইরাসের ‘হটস্পট’ বলে চিহ্নিত করেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই এলাকাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং করছেন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ মসজিদের ঘটনা নিয়ে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি মসজিদ প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের অবহেলার কারণে শতাধিক জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার সব নিয়ম উপেক্ষা করে ১০০ বছরের পুরোনো ওই মসজিদ চত্বরে শত শত মানুষ অবস্থান করছিলেন। ১৩ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছয়তলা ওই ডরমেটরিতে দুই দিন ধরে তাবলিগ-ই-জামাতের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৮০ জন ছিলেন বিদেশি।

জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন—তেলেঙ্গানা রাজ্যের এমন ছয়জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। একজন মারা গেছেন শ্রীনগরে। জমায়েতে অংশ নেওয়ার পরে দিল্লি থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পরে ১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। কাশ্মীর থেকে শতাধিক মানুষ ওই জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

তাবলিগ-ই-জামাতের ওই জমায়েতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমার, কিরগিজস্তান এবং সৌদি আরব থেকে মানুষ এসে যোগ দেন। আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স এবং কুয়েত থেকেও সদস্যরা আসেন।

জমায়েতে যোগ দেওয়ার পরে অনেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের জন্য চলে যান। শ্রীনগরে যে ইমাম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তিনি কাশ্মীরে যাওয়ার পথে উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে বেশ কয়েকটি জমায়েতে যোগ দিয়েছিলেন।
সূত্রের খবর অনুসারে  তাবলিগের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ২৪ মার্চ ওই জমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। সে সময়ে মসজিদ চত্বরে ১ হাজার ২০০ জনের মতো অবস্থান করছিলেন। এক দিন পরে পুলিশ তাঁদের বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। ২৬ মার্চ লকডাউনের মধ্যে মসজিদ চত্বরে মানুষ জড়ো হতে থাকে। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে যায়, তখন সেখানে প্রায় ২ হাজার মানুষ ছিলেন।

মারকাজ নিজামুদ্দিন এক বিবৃতিতে বলছে, ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনতা কারফিউ ঘোষণার পর জমায়েত বাতিল করা হয়েছিল। হঠাৎ ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাবলিগের সদস্যরা এলাকা ছাড়তে পারেননি।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, লকডাউনের অনেক আগে থেকেই ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জমায়েত বাতিল করতে বলেছিল সরকার।

No comments:

Post a comment

loading...