Saturday, 7 March 2020

করোনা ভাইরাস ঠেকাতে গোমূত্র পার্টি আয়োজন করবে হিন্দু মহাসভা

ওয়েব ডেস্ক ৭ই  মার্চ ২০২০ :বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে  মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই তিন হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক দেশের প্রায় লাখ খানেক মানুষ। এর প্রতিষেধক তৈরির জন্য যেখানে রাত-দিন এক করে ফেলছেন বিজ্ঞানী-গবেষকরা, সেখানে অভিনব এক ঔষধ আবিষ্কার(!) করেছে ভারতের হিন্দু মহাসভা। দলের সভাপতি চক্রপাণি মহারাজের দাবি, করোনা ভাইরাসের মহৌষধ হচ্ছে গোমূত্র ও গোবর।

দিল্লিতে যাতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য ‘টি পার্টি’র আদলে ‘গোমূত্র পার্টি’ আয়োজনেরও ঘোষণা করেছেন  চক্রপাণি মহারাজ।সূত্রের খবর অনুসারে আদ্যোপান্ত সেজে পার্টিতে গেলেন। পরিচিত-অতিথি-অভ্যাগতদের সঙ্গে কথা বলে এগোলেন খাবারের দিকে। দেখলেন সার দিয়ে রাখা খাবারদাবার। জিভে জল নিয়ে রসনা-বিলাসের বাসনা নিয়ে এগিয়ে গিয়েই দেখলেন মেনুতে রয়েছে, গোমূত্র কিংবা গোবর দিয়ে তৈরি কোনও পদ। মনের আয়নায় যে ছবিটা ভেসে উঠছে, সেটা কিন্তু কাল্পনিক নয়। এমনই এক অভিনব ‘পার্টি’র আয়োজন করছে হিন্দু মহাসভা। ‘টি পার্টি’র অনুকরণে এই ‘গোমূত্র পার্টি’তে সত্যি সত্যিই থাকবে এমন সব মেন্যু।চক্রপাণি মহারাজ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘যেমন আমরা চা-চক্রের আয়োজন করি, তেমনই গোমূত্র পার্টির আয়োজন করছি। সেখানে করোনা ভাইরাস কী এবং কীভাবে গরু থেকে প্রাপ্ত জিনিসপত্র খেয়ে এই ভাইরাসমুক্ত থাকা যায়— সেসব নিয়ে সচেতনতা প্রচার করা হবে।’পার্টিতে কী থাকবে? হিন্দু মহাসভার সভাপতি বলেন, ‘এমন কাউন্টার থাকবে, যেখান থেকে পার্টিতে আসা লোকজনকে গোমূত্র খেতে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আমরা গোবরের কেক বা ঘুঁটে, গোবর দিয়ে তৈরি আগরবাতিও রাখব। এগুলি খেলে বা ব্যবহার করলে ভাইরাস (করোনা) সঙ্গে সঙ্গে মারা যাবে।’
মহারাজ জানিয়েছেন, আপাতত দিল্লিতে মহাসভার সদর দফতরে এই পার্টির আসর বসবে। তারপর সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তাদের এই অভিযানে (করোনা দূরীকরণ) যারা সহায়তা করতে চান বা একসঙ্গে মিলে কাজ করতে চান, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
হিন্দু মহাসভার সভাপতি বলেন, ‘জীব হত্যা মহাপাপ, এই বার্তা আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই। করোনা ভাইরাস যে জীব হত্যার কারণেই ছড়িয়েছে, সেটি প্রচার করতে চাই। জানি, অনেকেই আমার কথা বিশ্বাস করবে না। কিন্তু ভারতে যেহেতু অধিকাংশই নিরামিষাশী, তাই এখানে এই ভাইরাস ছড়াবে না।’

মুরগির মাংস থেকে করোনা ছড়াচ্ছে— দেশ জুড়ে এমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন গুজবের ভিত্তি নেই। প্রকাশ্য মঞ্চে মাংস খেয়ে এই গুজব বা অপপ্রচার কাটানোর চেষ্টা করেছেন তেলঙ্গানার বেশ কয়েকজন মন্ত্রী। কিন্তু চক্রপানি মহারাজের মতে, ‘ঘোর পাপ’ করেছেন ওই মন্ত্রীরা। ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ আখ্যা দিয়ে মহাসভার সভাপতি বলেছেন, ‘ভারতে এই ভাইরাস এসেছে, কারণ পশুরা সাহায্যের জন্য কাঁদছিল।’

তিনি বলেন, ‘যজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য ভারতে করোনা ভাইরাস শান্ত ছিল। কিন্তু তেলঙ্গানার অজ্ঞ ও অহঙ্কারী মন্ত্রীরা প্রাণী হত্যা করেছেন। তারা যেভাবে সর্বসমক্ষে মাংস খেয়ে করোনা ভাইরাসকে উস্কে দিয়েছেন, তাতে ভারতেও করোনার ভয়াল রূপ দেখার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই মন্ত্রীদের সময় থাকতে থাকতে করোনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত। না হলে অনর্থ হয়ে যাবে, যা কেউ আটকাতে পারবে না।’

‘অভয়বাণী’ও শুনিয়েছেন চক্রপাণি মহারাজ। তার ভাষায়, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। গোমূত্র খান, আর নিরামিষভোজী হয়ে যান, তাহলেই পালাবে করোনা।’ আর যারা নিরামিষাশী? তাদেরও নাকি চিন্তাই নেই। মহারাজ বলেছেন, ‘শাকাহারিদের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। এতে (করোনা) তাদের সংক্রমণ হবে না। তবে সাবধানতা হিসেবে তারাও গোমূত্র খাওয়া শুরু করতে পারেন।’

কিছুদিন আগে পশ্চিমমঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘গরুর দুধে সোনা আছে।’ তা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। এক দিন আগেই আসাম বিধানসভায় রাজ্যের বিধায়ক হরিপ্রিয়া বলেছেন, ‘গোমূত্র ছড়িয়ে দিলে সেই জায়গা বিশুদ্ধ হয়ে যায়। আমার বিশ্বাস, করোনার ক্ষেত্রেও গোমূত্র এবং গোবর দিয়ে তেমন কিছু করা যাবে।’ হরিপ্রিয়া তবু ‘আমার বিশ্বাস’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন। তবে চক্রপাণি মহারাজ গোমূত্র ও গোবরকে এমন ‘অব্যর্থ ঔষধি’ বলে দাবি করায় হাসির রোল উঠেছে। 

No comments:

Post a comment

loading...