Sunday, 29 March 2020

প্রতি একশো বছরে অন্তত একবার এরকম মহামারি দেখা দিয়ে এসেছে এই পৃথিবীতে

ওয়েব ডেস্ক ২৯ শে  মার্চ ২০২০ : চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) এখন জর্জরিত সারাবিশ্ব। এতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ২৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন অন্তত ২ লাখ ২৫ হাজার মানুষ। বিভিন্ন দেশে ভাইরাস আতঙ্কে কোয়ারেন্টাইনে আছেন কয়েক কোটি। দেশে দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ধর্মীয় উপসনালয় ও গণ পরিবহন। তবে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস থেকে মুক্তির কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে একটি ইনফোগ্রাফি। যাতে দাবি করা হয়, গত ৩ শ বছরের প্রতি শতকের ২০ সালে বিশ্বব্যাপী এমন মহামারি দেখা দিয়েছে, যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়, প্রতি শতকের ২০ সালে প্রাদুর্ভাব হওয়া ভাইরাসের সঙ্গে চলতি ২০২০ সালের করোনাভাইরাসের মিল রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ইফোগ্রাফি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, আসলেই কি ২০ সালে পৃথিবীতে নেমে আসে বিষ? চলুন দেখে নেয়া যাক, গত ৩ শ বছরের ইতিহাসের সেসব ভয়ংকর ২০ সাল-
১৭২০ সাল (প্লেগ): ওই বছর ইউরোপে দেখা দেয় গ্রেট প্লেগ অব মার্সেইলি। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৭২০ সাল থেকে ১৭২২ সালে সেখানে ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। শুধু ফ্রান্সের মার্সেইলি শহরে মারা যায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। যার ফলে দেশটির জন্মহার ৪৫ বছরের জন্য কমে যায়।১৮২০ সাল (কলেরা): ১৮১৭ সালে সারা পৃথিবীতে অতি মহামারি আকার ধারণ করে কলেরা। যা ১৮২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে। তবে ১৮২০ সালেই সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এ রোগ। ওই বছর ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আক্রান্ত এলাকাগুলোর দৃশ্য ছিল খুবই ভয়াবহ।
এশিয়াটিক কলেরা নামে পরিচিত এই মহামারিতে বিশ্বব্যাপী ঠিক কত মানুষ মারা গিয়েছিল তা জানা যায়নি। তবে পরিসংখ্যান অনুসারে, শুধু ব্যাংককেই মারা গিয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার।
১৯২০ সাল (স্প্যানিস ফ্লু): ১৯১৮ সালের ৪ মার্চ কানসাসের মার্কিন সেনাদের মধ্যে প্রথম দেখা দেয় স্প্যানিস ফ্লু নামের ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর। পরে তা ঝড়ের গতিতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১৮ সাল থেকে পরের দুই বছর পৃথিব্যাপী এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষ।

No comments:

Post a comment

loading...