Sunday, 15 March 2020

বিশ্ব জর্জরিত করোনা ভাইরাস নিয়ে , পাকিস্তান সেই যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করেই চলেছে

ওয়েব ডেস্ক ১৫ই  মার্চ ২০২০ : বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেও বিস্তার পাচ্ছে করোনা সংক্রমণ। এই করোনা সংকটের মাঝেই এবার সীমান্তে পাকিস্তানী সেনাদের বাতুলতায় ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে কাশ্মীর সীমান্ত। জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের আকস্মিক গোলাবর্ষণে এক বেসামরিক নাগরিক আহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে এই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে দু'দেশের সেনাদের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা। শনিবার (১৪ মার্চ) ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর সংলগ্ন সীমান্তের মেন্ধর সেক্টরে পাকিস্তানী সেনারা হামলা শুরু করলে পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে জবাব দেয় ভারত। এরপর থেকেই থেমে থেমে চলতে থাকে পাল্টাপাল্টি হামলা।
রোববার (১৫ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবার ভারতীয় সামরিক চৌকির পাশাপাশি আবাসিক অঞ্চলগুলোকেও টার্গেট করেছে। এতে এক বেসামরিক ব্যক্তি আহতহয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকালে পাক সেনারা মানকোট সেক্টরে সামরিক চৌকির পাশাপাশি আবাসিক স্থাপনায় ভারী মেশিনগান থেকে গুলি শুরু করে। এরপর মর্টার শেল থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়।তাছাড়া গত বৃহস্পতিবারও (১২ মার্চ) মান্ডি তহসিলে ভারতীয় সামরিক চৌকিসহ আবাসিক অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা ধরে গোলাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তান। পাক বাহিনী এবার গুলি চালানোর পাশাপাশি মর্টার শেল থেকেও হামলা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ৪ মার্চ ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে পাক-ভারত মধ্যকার আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ রেখায় কমপক্ষে ৬৪৬ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি দিলবাগ সিং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে সীমান্তে কমপক্ষে ৩ হাজার ২৮৯ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। যা বিগত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বাধিক বলে বিবেচিত হয়।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে যোগদানে সম্মত হলেও প্রথমে সাড়া দেয়নি পাকিস্তান সরকার। শেষ পর্যন্ত রাজি হলেও এক্ষেত্রে তাদের অবজ্ঞাসূচক মানসিকতা সুস্পষ্ট। এই অবস্থার মাঝে এবারে সীমান্তে গায়ে পড়ে পাকিস্তানী সেনাদের এই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার মত বিষয়টি মোটেই ইতিবাচক চোখে দেখছে না আন্তর্জাতিক মহল। এমনটাই দাবি কূতনীতিক বিশেষজ্ঞদের।

No comments:

Post a comment

loading...