Wednesday, 4 March 2020

কেন্দ্রের নির্দেশেই ওষুধ রপ্তানি বন্ধ করল ভারত , বিশ্ব বাজারে উঁকি দিচ্ছে সংকট

ওয়েব ডেস্ক ৪ঠা মার্চ ২০২০ :করোনাভাইরাসের কারণে ভারত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ রপ্তানি বন্ধের  ঘোষণা করার পর  বিশ্বে জরুরি ওষুধের সঙ্কট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ সরবরাহকারী দেশ ভারত নিজেদের  ২৬ ধরণের ওষুধ আর ওষধের উপাদান রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্যথানাশক ওষধ প্যারাসিটামলও।
ওষধের অনেক উপাদানের প্রস্তুতকারী দেশ চীনে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত এলো।ভারতে তৈরি হওয়া ওষধের উপাদানের প্রায় সত্তর শতাংশের জন্য ভারত  চীনের ওপর নির্ভর করে। ওষধ শিল্প সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই মহামারি চলতে থাকলে বিশ্বে ওষুধ ঘাটতি দেখা দিতে পারে।চায়না মার্কেট রিসার্চ গ্রুপের বিশ্লেষক শায়ন রেইন বলছেন, এমনকি চীনে অনেক ওষধ তৈরি না হলেও, সেগুলোর মূল উপাদান চীন থেকেই আসে। চীন এবং ভারত উভয়েই যদি নিজেদের সরিয়ে নেয়, তাহলে সারা বিশ্বেই একটি ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
যেসব ওষধ ও ওষধের উপাদানের রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত, তা  ওষধ রপ্তানি খাতের প্রায় ১০ শতাংশ। এর মধ্যে টিনিডাজল এবং এরিথ্রোমাইসিনের মতো এন্টিবায়োটিক, হরমোন প্রোজেস্টেরন এবং ভিটামিন বি-১২ এর মতো ওষুধও রয়েছে।অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিফান ফোরম্যান বিবিসিকে বলেছেন যে, এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, উপাদানের ওপর কড়াকড়ির কারণে ওষুধের দাম বেড়ে যাবে। এর মধ্যেই এমন সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যে, ভারতের সরবরাহ ঘাটতির কারণে সেখানে ওষধের দাম বেড়ে যেতে শুরু করেছে।'ভারতের সরকার জানিয়েছে, তাদের এই ঘোষণায় উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই এবং তিনমাস চলার মতো পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ঔষধের ২৫ শতাংশ আর ঔষধ উপাদানের ৩০ শতাংশ আমদানি করা হয়েছে ভারত থেকে।এফডিএ কমিশনার স্টিফান হান মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটরদের জানিয়েছেন, সংস্থাটি যাচাই করে দেখছে যে, ভারতের এই কড়াকড়ির ফলে আমেরিকার ওষধ সরবরাহ এবং জরুরি ওষধের ওপর কী প্রভাব পড়বে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ওষধ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা তাদের সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়টি তদারকি করে দেখছে।
মার্কিন ঔষধ কোম্পানি মাইলান গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ওষধের একটি সঙ্কট তৈরি হতে পারে।
আরেকটি কোম্পানি ইলি লিলি বলেছে, তারা আশা করছে না, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তাদের ইনসুলিন উৎপাদনসহ অন্য কোন ওষধ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি করবে।

No comments:

Post a comment

loading...